২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শীর্ষ তালেবান নেতা মোল্লা ওমর মারা গেছেন

শীর্ষ তালেবান নেতা মোল্লা ওমর মারা গেছেন

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ আফগানিস্তানের শীর্ষ তালেবান নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমর মারা গেছেন। গত দুই অথবা তির বছর আগেই মারা যান তিনি। বুধবার আফগান সরকারের এক অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে এ কথা বলা হয়েছে। অবশ্য এ বিষয়ে তালেবান সূত্র কোন মন্তব্য করেনি। তালেবান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা শীঘ্রই এ বিষয়ে বিবৃতি দেবে। খবর বিবিসি, এএফপি ও ডন অনলাইনের।

আফগান প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র একই দিন জানিয়েছে, মোল্লা ওমরের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অবশ্য এর আগেও তালেবানের এই আধ্যাত্মিক নেতার মৃত্যুর খবর একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছিল। আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির মুখপাত্র সৈয়দ জাফর হাশেমি বলেছেন, সরকার মোল্লা ওমরের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিতকরণে কাজ করছে। আমরা যখনই এ বিষয়ক কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাব গণমাধ্যমকে জানান। তার মৃত্যুর খবর নিয়ে পাকিস্তানের এক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, তার মৃত্যুর খবর নিয়ে আগেও অনেক গুবজ শোনা গেছে।

এর আগেও বেশ কয়েকবার মোল্লাহ ওমরের মারা যাওয়ার গুজব শোনা গেলেও এই প্রথম আফগান সরকারের শীর্ষস্থানীয় সূত্র থেকে এই খবর প্রকাশ পেল। আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্য প্রত্যাহারের পর দেশটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী মিলিশিয়াদের মধ্যে যে লড়াই শুরু হয় তাতে তালেবানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ওমর।

আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে জোট গড়েন তিনি। এ কারণেই নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার পর আফগানিস্তানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মোল্লাহ ওমরকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য কোটি ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করে মার্কিন প্রশাসন। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলা শুরুর পর আত্মগোপনে চলে যান ওমর। মোল্লাহ ওমরের মৃত্যুর খবর সঠিক হলে আফগানিস্তানে চলমান সহিংসতা দমনের ক্ষেত্রে একধাপ অগ্রগতি বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৬০ সালে আফগানিস্তানের কান্দাহারে জন্ম মোল্লাহ ওমরের। দেশটিতে সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। মোল্লাহ ওমর প্রথম অস্ত্র ধরেন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে। নেক মোহাম্মদের নেতৃত্বে মুজাহিদীন গ্রুপ হরকত-ই-ইনকিলাব-ই-ইসলাম এ যোগ দেন তিনি। সোভিয়েতীদের সমর্থনে ক্ষমতায় থাকা নজিবুল্লাহ সরকারের বিরুদ্ধে ১৯৮৯ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধে চারবার আহত হন ওমর। সোভিয়েতবিরোধী আফগান যুদ্ধে পানজোয়াই জেলার সাংসারে এক সংঘর্ষের সময় তিনি এক চোখ হারান। অন্য এক সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে জালালাবাদ যুদ্ধে তিনি চোখ হারান।