২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সমাজ ভাবনা

  • এবারের বিষয় ॥ বাল্যবিয়ে এখনও!;###;জাতীয় পরিচয়পত্র হোক রক্ষাকবচ

রুকন

নানা রকম চেষ্টা, আইনী পদক্ষেপ নেয়ার পরও বাল্যবিয়ে বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। যদিও পূর্বের চেয়ে মাত্রাটা অনেক কমে এসেছে। বাল্যবিয়ের ঘটনাগুলো সমাজের দরিদ্র এবং অসচেতন অংশেই ঘটে থাকে। গরিব মানুষগুলো ভাবে কোন রকমে মেয়েকে বিদায় করতে পারলেই সংসারের খরচ একটু কমবে। কিন্তু তাদের খরচ তো কমেই না, উল্টো মেয়ের শ্বশুরবাড়ির চাহিদা পূরণ করতে করতেই মরার দশা হয়। এই সব শিশু যাদের প্রজনন অঙ্গ ঠিকমতো বিকশিতই হয়নিÑ জন্ম দেয় অপুষ্ট ও দুর্বল শিশু, যে জন্য এদের অনেকেই মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। আর যারা বেঁচে থাকে, অপূর্ণতা নিয়েই বেড়ে ওঠে। মায়েদের বড় একটা অংশ প্রসব জটিলতায় মারা যায়Ñ বাবারা দু’দিন পর বিয়ের পিঁড়িতে বসে। অভাগা শিশুগুলো বিমাতার অত্যাচার আর পিতার অবহেলায় বড় হয় বটে, মানুষ হয় না। শরীর ভেঙ্গে পড়া শিশুমাতা, দুর্বল শিশুদের নিয়ে সমাজ কখনও এগিয়ে যেতে পারে না।

যেসব কারণে বাল্যবিয়ে হয়ে থাকে সেগুলো চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে সকলকে। যার যার অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করে যেতে হবে। অসচেতনতার জন্য, অভিভাবক না থাকা, উত্ত্যক্তকারীর হাত থেকে বাঁচতে, কখনও কখনও অন্যের সন্তানের দুর্ঘটনা বা কোন ভুল দেখে অভিভাবকরা বিচলিত হয়ে বাল্যবিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। এদের জন্য যেটা প্রয়োজন তা হলো- শিশুদের সচেতন করে তোলা। শিশুদের বোঝাতে হবে কার সঙ্গে কতটুকু দূরত্ব বজায় রেখে মিশতে হবে। তার শরীর সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং নিজেকে রক্ষা করা শেখাতে হবে। বিয়ে দিয়ে দেয়া কোনমতেই সমাধান হতে পারে না।

বাল্যবিয়েবিরোধী আইন কেবল কেতাবে থাকলে হবে না। প্রয়োগটাও থাকতে হবে যথাযথ। বাল্যবিয়ে কমিয়ে আনা খুব কঠিন কিছু নয়- শুধু আইন করতে হবে- বিয়ের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে। অর্থাৎ যাদের বয়স আঠারো হয়েছে, তারাই শুধু এটি জোগাড় করতে পারবে। এতে করে শিশুদের বিয়ে দেয়া কঠিন হয়ে উঠবে। এতে করে অনেক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাও রোধ করা সম্ভব হবে। ভুয়া পরিচয়ে কেউ বিয়ে করতে পারবে না। ছেলেমেয়ে সবারই পিতা-মাতার নাম এবং স্থায়ী ঠিকানা যুক্ত করতে হবে। বিয়ের আগে খোঁজ-খবর করতে সুবিধা হবে। স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় ভাড়াটে (যিনি এর মধ্যে অন্য এলাকায় চলে গেছেন) ব্যক্তির হারানো জাতীয় পরিচয়পত্র কেউ পেলেও যোগাযোগ করে তাকে ফেরত দিতে পারেন না। বিয়ের পর স্বামীর পরিচয়পত্রে স্ত্রীর নাম এবং স্ত্রীর পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম (পিতা/স্বামী এভাবে নয়, দু’জনের নাম) রাখত হবে। যারা স্ত্রী থাকতে প্রতারণা করে বহুবিবাহ করে, সেটিও বন্ধ হয়ে যাবে।

আদাচাকী, সিরাজগঞ্জ থেকে