১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একটি শুভ উদ্যোগ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘হ্যালো ডাক্তার’ কর্মসূচীটিকে জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বললে অত্যুক্তি হবে না। এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার যেমন পূর্ণতার দিকে যাচ্ছে, তেমনি যারা দায়িত্বে অবহেলা বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদের জন্যও এটা সতর্কবার্তা হিসেবে প্রতিভাত হবে। আমরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও অধিকাংশ সরকারী হাসপাতালের কার্যক্রম এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। পাশাপাশি কিছু হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের সেবা এবং পরিচালনার মানের ব্যাপারে যথেষ্ট প্রশংসাও আছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে অভিযোগ উঠে তা হলোÑ যথাসময়ে অনেক হাসপাতাল বা মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তার থাকেন না, প্রয়োজনের সময় তাদের পাওয়া যায় না কিংবা কার্যালয়ে আসেন দেরিতে। এ অবস্থা কারও কাম্য হতে পারে না। এটা সরকারী চাকরি বিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি চিকিৎসার মতো সেবামূলক পেশার সঙ্গে খাপ খায় না, তা স্পষ্টই অনৈতিক। এমন বাস্তবতায় দেখা গেছে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘটেছে অপ্রীতিকর ঘটনা। সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়েছে রোগীর অবস্থা, এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে খুঁজলে পাওয়া যাবে মৃত্যুর ঘটনাও। সরকার নানাভাবে বিভিন্ন সময় এমন অবস্থা দূর করা বা সকল চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে। তবে ফল আশানুরূপ হয়নি।

সরকারী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, হাসপাতাল বা মেডিক্যাল কলেজগুলোয় যাতে কোন ডাক্তার উপস্থিতির ব্যাপারে অসত্য তথ্য দিতে না পারেন সেজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে এক আদেশ জারি করেছে। এ ব্যবস্থায় ল্যান্ডফোনের মাধ্যমে মাসে অন্তত দু’দিন মনিটরিং করা হবে সরকারী ডাক্তার কর্মস্থলে উপস্থিত আছেন বা বিলম্ব করেন কি না। একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ৬৬ কর্মকর্তার সমন্বয়ে এ কর্মসূচী পরিচালনার জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা এ দুটি অধিদফতরের আওতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এই মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। এটা নিঃসন্দেহে একটি শুভ উদ্যোগ। স্বাস্থ্য খাতেই শুধু নয়, প্রশাসনের বিভিন্ন সেক্টরের জন্যও এটা একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে। এ উদ্যোগ এ কারণে যে, এর সঙ্গে মানুষের মৌলিক চাহিদা জড়িত। কিছু ডাক্তার-কর্মকর্তার অবহেলা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, সর্বোপরি অসাধুতার কারণে এই সেবা পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়ায় যে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছিল এ উদ্যোগে তা অনেকটাই প্রশমিত হবে বলে আশা করা যায়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘হ্যালো ডাক্তার’ কর্মসূচী নিঃসন্দেহে একটি শুভ উদ্যোগ এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এ কার্যক্রমকে ভিত্তি করে কেউ যেন কোন প্রকার দুর্নীতি বা অসাধুতার আশ্রয় না নিতে পারে সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখা আবশ্যক। আমাদের প্রত্যাশাÑ গণসেবামূলক এ কর্মসূচীটি সফল হবে।