১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ জয়ের সামর্থ্য রাখে ॥ মুশফিক

মোঃ মামুন রশীদ ॥ চট্টগ্রাম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে ভাল ফলাফল এসেছে। কিন্তু এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে আজ থেকে সেই চ্যালেঞ্জ শুরু বাংলাদেশ দলের। তবে চট্টগ্রাম টেস্ট থেকে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস পেয়েছে টাইগাররা। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম দাবি করেছেন মিরপুর টেস্টেও দারুণ কিছু করার জন্য মুখিয়ে আছে দলের ক্রিকেটাররা। নিজেদের সাধ্যমতো খেলতে পারলে ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষে আসবে এমন আত্মবিশ্বাস জানালেন মুশফিক। আর সেটা হলে এই টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে জেতার সামর্থ্য রাখে বলে দাবি করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বুধবার সকালে অনুশীলন শেষে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মুশফিক।

ওয়ানডে কিংবা টি২০ ম্যাচের মতো টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে তেমন ভাল খেলতে পারে না বাংলাদেশ দল। চট্টগ্রাম টেস্টে ব্যাটিং-বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ দল দাপট দেখিয়েই খেলেছে। আর বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দলের বিপক্ষে সেই ধারাবাহিকতা মিরপুর টেস্টে দরে রাখা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন মুশফিক। তিনি বলেন, ‘শেষ টেস্টটা সবদিক থেকেই আল্লাহর রহমতে খুব ভাল হয়েছে। বোলিং-ব্যাটিং এবং ফিল্ডিং সবই ভাল হয়েছে। ওই ম্যাচ থেকে অনেক আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। বিষয়টা এমন নয় যে, আমরা প্রথম দিনেই ম্যাচ জিতে যাব। পুরো পাঁচদিনই আমাদের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে খেলতে হবে। এটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, সুযোগও। আমরা যেহেতু এক নম্বর দলের বিপক্ষে খেলছি, সুযোগটা আসলে সেখানেই। তাদের বিপক্ষে জেতাটা অনেক বড় হবে। গত টেস্টে আমরা প্রতিটি সেশনেই দাপট দেখিয়ে খেলেছি। সে দিক থেকে বলব যে, লক্ষ্য তো অবশ্যই ভাল করা।’ কিন্তু ভাল করা বলতে আসলে বাংলাদেশ দল কি চাইছে মিরপুর টেস্টে? দক্ষিণ আফ্রিকাকে আদৌ হারানো সম্ভব হবে? এ বিষয় মুশফিক বলেন, ‘সম্ভব তো অবশ্যই। আমরা টেস্টে এখনও খুব বেশি ধারাবাহিকভাবে খেলতে পারছি না। তবে সম্প্রতি ফর্মের কথা বললে, আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশ খুব ভাল ক্রিকেট খেলছে। ওয়ানডে, টেস্ট-দুই ফরমেটেই। এটাই আমাদের জন্য আত্মবিশ্বাসের দারুণ জায়গা। আমাদের বোলিং ইউনিটের ক্ষমতা আছে ওদের ২০ উইকেট নেয়ার। সেটা করতে পারলে ফলাফলটা ভাল হতে পারে। ভাল ফলাফল আপনারা জানেন কী- বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিততেও পারে।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ভাল করাটা খুব বেশি সহজ হবে না সেটা মুশফিক নিজেও বুঝতে পারছেন। কারণ উইকেটের ভিন্নতা আছে, সিরিজ জয়ের চাপ আছে। এ বিষয়ে মুশফিক বলেন, ‘এখানে উইকেট একটু ভিন্ন। চট্টগ্রামের তুলনায় এখানে বাউন্স বেশি। আবহাওয়ার কারণে উইকেটটা হয় তো কিউরেটর তার ইচ্ছেমতো বানাতে পারেননি। তারপরও যা হয়েছে, সেটা নিয়েই আমরা খুশি। আশা করছি উইকেটটা ব্যাটসম্যানদের জন্য সুবিধার হবে। একই সঙ্গে মিরপুরের উইকেটে পেসারদের জন্যও কিছু থাকে। এসজি বলে পেসাররা ভাল করবে। একই সঙ্গে স্পিনাররাও কিছু পাবে। সব মিলিয়ে একটা স্পোর্টিং উইকেটেই খেলা হবে। আমাদের উইকেটের সুবিধা কাজে লাগাতে হবে।’ দলের বোলারদের ওপর এখন বেশ ভরসা করছেন মুশফিক। কারণ চট্টগ্রাম টেস্টেও দলের বোলিং বিভাগ দারুণ বোলিং করেছে। এ বিষয়ে মুশফিক বলেন, ‘বোলারদের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে, ভাল জায়গায় বোলিং করা গেলে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলকেও অলআউট করা যায়। সেদিক থেকে বলব যে, আত্মবিশ্বাস সবার মধ্যেই। আশা করি আত্মবিশ্বাসের প্রভাব যেন ম্যাচে পড়ে। এ সব কিছু মাথায় রেখেই ঢাকায় সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে। যেহেতু এটা শেষ ম্যাচ। দক্ষিণ আফ্রিকাও জানে এমন পরিস্থিতিতে কিভাবে খেলতে হয়। তারা এক নম্বর দল টেস্টের।’

নিজ দলের বোলারদের ওপর আস্থা তৈরি হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণ নিয়েও ভাবনার বিষয় আছে। এ বিষয়ে মুশফিক বলেন, ‘অতীতে আগে এ রকম হয় তো দেখা গেছে, শেষ ম্যাচে আমরা দায়িত্ব থেকে কিছুটা সরে গেছি; কিন্তু এবার আমরা সেটা মাথায় রেখেছি। তিন ম্যাচ হারার পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আমরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, সেটা আমাদের ‘মেন্টাল স্ট্রেংথ’ প্রমাণ করেছে। তারপরও এই টেস্টে চ্যালেঞ্জটা বেশি হবে। আমরা সে চ্যালেঞ্জ নেয়ার জন্য প্রস্তুত। পেস আক্রমণ তো অবশ্যই ওদের ভাল। ওদের বোলিং আক্রমণটা আমাদের জন্য হুমকির। আমাদের চ্যালেঞ্জ থাকবে ওদের পেস বোলিং আক্রমণ প্রতিরোধ করা। আমরা জানি, এই টেস্টে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে। সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করে আমরা যাতে বড় ইনিংস খেলতে পারি, সেটাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।’ মুশফিক জানিয়েছেন এ টেস্টে দলের সমন্বয়ে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তেমন নেই। কারণ শেষ টেস্টে যে একাদশ খেলেছে, সবাই যার যার জায়গায় ভাল খেলেছে।