১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুঁজিবাজারে সূচকের সঙ্গে লেনদেন কমল

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দেশের পুঁজিবাজারে ফের সূচকের পতন ঘটেছে। বেশিরভাগ কোম্পানির দর হারানো দিনে পাশাপাশি কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। মানবতাবিরোধী অপরাধে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় আপীল বিভাগে বহাল রাখার দিনে বিনিয়োগকারীদের মাঝে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। যার কারণে সকাল থেকেই বিনিয়োগকারীদের দ্রুত মুনাফা তোলার প্রবণতা দেখা দেয়। ফলে বুধবার দিনশেষে দেশের পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের পতন হয়েছে ১৯.২৬ পয়েন্ট। দিনশেষে সূচক গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৭৭.৯০ পয়েন্টে। মঙ্গলবার সূচক বেড়েছিল ২১.৮৯ পয়েন্ট।

এদিকে মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার লেনদেন কমেছে ৮৯.৮৮ কোটি টাকা। মঙ্গলবার ৭২০ কোটি ১২ লাখ টাকা লেনদেন হলেও বুধবার তা কমে হয়েছে ৬৩০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ডিএসইতে এই লেনদেন কমার এ হার ১২.৪৮ শতাংশ।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ কমে যাওয়ায় বাজারে লেনদেন ও সূচকে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ছয় মাসের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে। মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রাক্কালে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা লেনদেনের ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করছেন। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৩১৫টি ইস্যুর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৫টির, কমেছে ১৩৮টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৩২টির দর।

দিনটিতে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে বেক্সিমকো ফার্মা। গত কয়েক দিন ধরে লেনদেনের শীর্ষে থাকা লাফার্জ সুরমা সিমেন্টকে হটিয়ে বুধবার দিনশেষে বেক্সিমকো ফার্মা স্থানটি দখল করে নিয়েছে। দিনশেষে বেক্সিমকো ফার্মার ২৬ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্কয়ার ফার্মার লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৪৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা। ২৫ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে খুলনা পাওয়ার। লেনদেনে এরপর রয়েছে যথাক্রমেÑ লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, বেক্সিমকো, মবিল যমুনা, ফ্যামেলি টেক্স, ইউনাইটেড এয়ার, ফার কেমিক্যাল, পিপলস লিজিং।

ডিএসইর দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : এপেক্স ফুডস, ন্যাশনাল হাউজিং এ্যান্ড ফাইনান্স লিমিটেড, জাহিন স্পিনিং, রহিম টেক্সটাইল, প্রাইম টেক্সটাইল, পপুলার প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, ঢাকা ডাইং ও এলআর গ্লোবাল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড।

ডিএসইতে খাতওয়ারি লেনদেনের শীর্ষে ছিল ওষুধ এবং রসায়ন খাত। সারাদিনে খাতটির মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১২ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৮ ভাগ। জ্বালানি এবং শক্তি খাতটি সার্বিকভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। খাতটির মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০৩ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৭২ ভাগ। মোট ১শ’ কোটি টাকার লেনদেন করে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রকৌশল খাত। সার্বিকভাবে খাতটি মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ১৭ ভাগ দখল করেছে।

দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও সূচকের সঙ্গে লেনদেন কমেছে। সকাল থেকে সূচকের ওঠানামার পরে সেখানকার সার্বিক সূচক বা সিএসসিএক্স ৪১.২০ পয়েন্ট কমে দিনশেষে ৮ হাজার ৯২১.১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮৯টির, কমেছে ১৩২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৫টির দর।