২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্বল্প পুঁজিতে অধিক মুনাফা লণ্ড্রি ব্যবসায়

  • দিনে আয় ২৫ থেকে ৩ টাকা

এমদাদুল হক তুহিন ॥ রাজধানী ঢাকার পান্থপথের একটি গলিতে আল মদিনা লন্ড্রিতে কাজ করেন মোঃ মিজান। জামা-কাপড় ইস্ত্রি করে প্রতি পিসে ২ টাকা করে পান, তা দিয়েই সুখেশান্তিতে সংসার চলছে দু’সন্তানের ওই জনকের। দিনপ্রতি গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হয় তার। এছাড়া সহধর্মিণী পোশাক কারখানায় কাজ করেন; ফলে দু’জনের পরিশ্রমে সংসারে বিন্দুমাত্র কষ্ট নেই তাদের। লন্ড্রি দোকানের কর্মচারী মিজান জনকণ্ঠকে বলেন, কয়েক বছর ধরে লন্ড্রি দোকানে কাজ করছি। দিন তো কেটে যাচ্ছে, কারো কাছে হাত পাততে হয় না। দিনে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মতো আয় হয়। তা দিয়ে ভালই চলে। শুধু মিজান নন, সারা দেশে লন্ড্রি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মালিক-কর্মচারীরা অন্য আট-দশটা পেশার মানুষের মতো ভালই আছেন। লন্ড্রি ব্যবসার আয় থেকে অন্য ব্যবসাও প্রসারিত করেছেন অনেকে। স্বল্প পুঁজিতে অধিক মুনাফার ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের একাংশ লন্ড্রি ব্যবসার দিকে ঝুঁকছে। তবে, লন্ড্রি ব্যবসায়ী মালিকদের সমিতি থাকলেও ঢাকা শহরে মোট কি পরিমাণ লন্ড্রির দোকান রয়েছে তা জানা সম্ভব হয়নি।

তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বার্ধক্যে পা ফেলা প্রতিটি মানুষই পোশাকের ব্যাপারে অতি সচেতন। নিজের পছন্দের পোশাকটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের জন্য ধোয়ার পর ইস্ত্রি করে পরিধান করা আবশ্যকীয় বটে। তবে নাগরিক কর্মব্যস্ততার কারণে নিজ বাসায় পরিধেয় কাপড় ধোয়া কিংবা ইস্ত্রি করা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। আর সে কাজটি করে দিতেই বহু বছর ধরে শহুরে অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রসারিত হয়েছে এ ব্যবসা। বর্তমানে রাজধানী ঢাকাসহ সব নগরীর আবাসিক এলাকার অলিগলিতে দেখা মেলে লন্ড্রি দোকানের। জানা গেছে, স্বল্প পুঁজিতে অধিক মুনাফার ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও এ ব্যবসার দিকে ঝুঁকছে। জানা গেছে, কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকেও ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগও রয়েছে।

মহাখালীস্থ শাহীনবাগের একটি গলিতে লন্ড্রি ব্যবসা করেন মোঃ ইদ্রিস। তিনি ছাড়াও তার দোকানে একজন কর্মচারী আছেন। লন্ড্রি দোকানের এই মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে শুধু তিনি নন, তার কর্মচারীরাও ভালই চলছেন। তিনি বলেন, ব্যবসা ভালই চলছে। সারাদিনই ব্যস্ত থাকি। নাখালপাড়া, শাহিনবাগসহ আশপাশের এলাকায় মোট ৮০ টি লন্ড্রি দোকান আছে বলে জানি। জানামতে তারাও ভাল আছেন।

ফার্মগেটের তেজকুনিপাড়ার হুন্ডা গলি, ফার্মেসি গলি, ব্যাংকের গলির কয়েকটি লন্ড্রি দোকানের মালিক-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু লন্ড্রি ব্যবসা করে পুরো পরিবার চলছে এমন অনেকেই আছেন। লন্ড্রি ব্যবসার সঙ্গে সঙ্গে অন্য ব্যবসাও প্রসারিত করেছেন অনেকে। মোবাইলে টাকা লোড, বিকাশ ছাড়াও মনিহারি দোকানও করেছেন এ ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে। তাদের কেউ কেউ বলেন, সততার ভিত্তিতে ব্যবসা করলে সকল ব্যবসাই সাফল্যের মুখ দেখায়।

খোদ ঢাকা শহরে বসবাসকারী ব্যাচেলরের সংখ্যা নিহায়ত কম নয়। তাদের বড় অংশটি কাপড় ঠিকঠাক রাখতে লন্ড্রি দোকানের দ্বারস্থ হন। লন্ড্রি দোকান থেকে কাপড় ইস্ত্রি করার তালিকায় রয়েছেন শাহিনবাগের বাসিন্দা সজিব হাসান। তিনি বলেন, ব্যস্ততার কারণে বাসায় কাপড় ইস্ত্রি করা হয় না, কিন্তু ইস্ত্রি ছাড়া সব কাপড় পরাও যায় না। ফলে লন্ড্রি দোকানে যেতেই হয়। বাসায় ইস্ত্রি করলে হয়ত টাকা বেঁচে যেত, তবে লন্ড্রি দোকান থাকার বাড়তি সুবিধা রয়েছে। চাইলে সময়ের অভাবে কাপড় ধুয়ে নেয়াও সম্ভব। সবার পক্ষে বাসাবাড়িতে ভালভাবে কাপড় ইস্ত্রি করা সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে তাদের লন্ড্রি দোকানে যেতে হয়। পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারী তেমন একজন ফয়সাল মাহমুদ নীল। টঙ্গিতে বসবাসকারী তরুণ এ শিক্ষর্থী জনকন্ঠকে বলেন, বাসায় ইস্ত্রি করার ক্ষেত্রে বিদ্যুত খরচ বেশি হলেও ইস্ত্রির মান তেমন ভাল হয় না। পরিবারের সবাই ব্যস্ত থাকেন, অধিকাংশ সময় কাপড় বাসায় ইস্ত্রি করার সময়ও থাকে না।

অন্যদিকে লন্ড্রি দোকানের আয়রনের মান ভাল হওয়াসহ একাধিক কারণে কাপড়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে তারাই আমাদের শেষ ভরসা।

জানা গেছে, কিছুটা উন্নত লন্ড্রির দোকানে কাপড় ইস্ত্রি করা ছাড়াও কাপড় পালিশ, কাপড় ড্রাই ও রিপু করা যায়। যেসব দোকানে এসব সুবিধা থাকে তাদের আয় অন্য আটদশটা লন্ড্রি দোকানের থেকে বেশি। সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে সবার মন আকর্ষণ করতে পারলে অল্প সময়ে সাফল্য আসে, জানান একাধিক লন্ড্রি ব্যবসায়ী। তারা জানান, মাত্র ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা বিনোয়োগ করে দিনে ৮শ’ থেকে এক হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। সকাল ৮ টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১১ টা পর্যন্ত অধিকাংশ লন্ড্রি দোকানই খোলা থাকে। জানা গেছে, দীর্ঘ এ সময়ে তাদের হাতে কাজের কোন কমতি থাকে না। প্রতিনিয়তই চলে কাপড় চকচকে ঝকঝকে করার কাজ।