২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ২৪৩ কোটি টাকা রাজস্ব বকেয়া

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) উৎসে কর ও মূল্যসংযোজন কর মিলিয়ে ২৪৩ কোটি ১৪ লাখ টাকার রাজস্ব বকেয়া পড়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সূত্র মতে, এনবিআরের দাবিনামা অনুযায়ী বেবিচকের কাছে উৎসে কর ও ভ্যাট বাবদ এনবিআরের রাজস্ব বকেয়া পড়েছে ২৪৩ কোটি ১৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৬১ টাকা। আর ওই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ে বেবিচকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই আইনী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সকল মূসক কমিশনারকে এনবিআর থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিমানের মূসক বকেয়ার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এনবিআরে একটি জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা (উত্তর), যশোর, রংপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী অঞ্চলের মূসক কমিশনাররা বেঠকে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কমিশনাররা এনবিআরকে জানান, বেবিচকের কাছে উৎসে কর ও মূসক বাবদ প্রায় ২৪৩ কোটি ১৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা দাবিনামা জারি করা হয়েছে। শিগগিরই এ টাকা আদায় করা হবে। বৈঠকে বিভিন্ন খাতে বকেয়া পড়া ওই রাজস্ব দ্রুত আদায়ে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে বেবিচকের সকল ধরনের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এ ভ্যাট আদায় করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে এসআরও জারি করা হয়নি। এর ফলে সিদ্ধান্ত নিলেও বেবিচক এনবিআরের নির্ধারিত ভ্যাট আদায় করতে পারছে না।

উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং, পার্কিং, রুট নেভিগেশনসহ বিভিন্ন এ্যারোনটিক্যাল ও নন-এ্যারোনটিক্যাল কার্যক্রমের জন্য দেশী-বিদেশী সব এয়ারলাইনসের কাছ থেকে ফি আদায় করে বেবিচক। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের শুরু থেকে এসব ফির ওপর ১৫ শতাংশ মূসক আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয় এনবিআর। এর আগে বেবিচকের আদায়কৃত ফি থেকে ভ্যাট আদায়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন এনবিআরের উর্ধতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে বেবিচকের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাদের উপস্থিতিতেই এয়ারলাইনসগুলো থেকে এ্যারোনটিক্যাল মাশুলের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এয়ারলাইনসগুলো থেকে বেবিচকের আদায় করা এ্যারোনটিক্যাল বিভিন্ন ফির মধ্যে রয়েছে উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং, পার্কিং, হাউজিং অব এয়ারক্রাফট, রুট নেভিগেশন, বোর্ডিং ব্রিজ ও এম্বারকেশন ফি। আর নন-অ্যারোনটিক্যাল মাশুলের মধ্যে রয়েছে- বিমানবন্দরে কক্ষভাড়া, পানি, বিদ্যুত, টেলিফোন সংযোগ বিল ও লাইসেন্স ফি।