১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পোকায় খাওয়া পচা চাল ॥ বাজারে ছাড়ার পাঁয়তারা

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট, ২৯ জুলাই ॥ শহরের গোশালা বাজারের সরকারী খাদ্য গুদামের টিআর, কাবিখা ও জিআরের পচা ও হাতীপোকা খাওয়া প্রায় দুইশ’ বস্তা চাল পুরনো বস্তা থেকে নতুন বস্তায় ভরে মজুদ করেছেন এক ব্যবসায়ী। পচা চালগুলো অত্যাধুনিক স্যুটার মেশিনে দিয়ে ঝকঝকে করে পুনরায় সরকারীভাবে ক্রয়কৃত খাদ্য গোডাউনে দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

সোমবার রাত ৮টায় এই পচা চাল নতুন বস্তায় ভরানোর খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে খাবারের অনুপোযোগী চালের নমুনা সংগ্রহ করে মঙ্গলবার পরীক্ষা করতে ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সরকারী প্রকল্পে সহায়তার চাল টিআর, কাবিখা ও জিআর চাল কমমূল্যে কিনে নিয়ে পুরনো খাদ্য বিভাগের বস্তা থেকে নতুন বস্তা ভরে স্যুটার মেশিনে ঝকঝকে করে পুনরায় সরকারী গোডাউনের পচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ চাল উৎকোচের বিনিময় পুনরায় সরকারী গোডাউনে বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। লালমনিরহাটে হাটবাজারে উন্নতমানে চাল ২৫-২৮ টাকা দরে পাওয়া যায়। সরকারীভাবে খাদ্য বিভাগের মাধ্যমে চাল কিনছে ৩২ টাকা দরে। বাজারে ধান প্রতি মণ ৫২০-৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারীভাবে খাদ্য বিভাগের মাধ্যমে ৮৮০ টাকা মণ দরে ধান সরকার কিনছে। সরকার কৃষক কৃষির উন্নয়নে চাল ও ধানের দাম বেশি দিলেও মাঠ পর্যায়ের কৃষক এর সুবিধা ভোগ করতে পারছে না। ধান ও চালে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা এর সুবিধা ভোগ করছে। কৃষকের আর্থিক ক্ষতিই থেকে যাচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শরিফুল ইসলাম চালপট্টিতে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। পরে তিনি পচা চালের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। নমুনাকৃত চাল ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করতে পাঠান বলে জানান।

ব্যবসায়ী মোসলেম দেওয়ান পুরনো বস্তা থেকে নতুন বস্তায় চাল প্যাকেটের কথা স্বীকার করেন। চালগুলো বৃষ্টির পানিতে পচে গেছে ও হাতীপোকা ধরেছে। স্যুটার মেশিনে স্যুটিং করলে খাদ্যাপযোগী ও ঝকঝকে হবে বলে জানান।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, পচা ও হাতীপোকা খাওয়া চালের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। চালের এই নমুনা সংগ্রহ করে খাদ্য বিভাগের মাধ্যমে পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষাগারের ফলাফলের ওপর ভ্রাম্যমাণ আদালত চালের বিষয়টি নিয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির নিয়মিত সভাটি কালেক্টরেট ভবনের হল রুমে শুরু হয়েছে। সভার শুরুতে জেলার বিভিন্ন বিভাগের চলমান কার্যক্রম, সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা-পর্যালোচনা শুরু হয়।

একপর্যায়ে জেলা খাদ্য বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মোঃ মফিজুল ইসলাম ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানের অগ্রগতি বর্ণনা করেন। এ সময় এ বিভাগের ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে লাগামহীন দুর্নীতির নানা দিক উঠে আসে।