২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জিএসপি পুনর্বহালের আশ্বাস মার্কিন সিনেটর মারফির

  • রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশকে জিএসপি পুনর্বহালের আশ্বাস দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর ক্রিস্টোফার মারফি। তিনি এ বিষয়ে উদ্বিগ্নতা নিরসনেরও প্রতিশ্রুতি দেন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে সিনেটর ক্রিস্টোফার মারফি তাঁর ক্যাপিটাল হিল কার্যালয়ে আলোচনাকালে এ আশ্বাস দেন।

কানেক্টিকাট থেকে নির্বাচিত ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর মারফি যুক্তরাষ্ট্র সিনেট ফরেন রিলেশন্স কমিটির সদস্য। প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠকে তারা জিএসপি পুনর্বহাল এবং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। দূতাবাসের মিনিস্টার (প্রেস) শামিম আহমদ এবং কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) নাঈম আহমেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে জিএসপি পুনর্বহালের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে অনুরোধ জানান। তিনি আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়ে আহবান জানান। রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন উল্লেখ করেন, এলডিসি দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোন বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অথচ ট্রান্সপেসিফিক অংশীদারী চুক্তির অধীন দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাণিজ্যিক সুবিধা গ্রহণ করে আসছে।

জিয়াউদ্দিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিকারকরা অধিক হারে শুল্ক দিচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পোশাক শিল্প খাতের ক্রমবর্ধমান উন্নতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীর উপদেশ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান সরকার ইপিজেডগুলোতে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠনসহ প্রচুর সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজ করছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন এটি, সর্বমহলে স্বীকৃত যে, শ্রমিকদের অধিকার এবং নিরাপত্তা বিধানে বর্তমানে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। সরকার ও বাংলাদেশের জনগণ তৈরি পোশাক শিল্পকে একটি উৎপাদনমুখী এবং স্বচ্ছ শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

সভায় সিনেটর মারফি বাংলাদেশকে জিএসপি পুনর্বহালে বাংলাদেশের উদ্বিগ্নতা যাতে নিরসন হয় সে বিষয়ে আশ^াস দেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের বর্তমান শ্রমিকদের অবস্থাও পর্যালোচনা করবেন।

রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন বলেন, ঢাকা এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে চমৎকার সু-সম্পর্ক বজায় রয়েছে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে দুদেশের মধ্যে সহযোগিতা গভীর হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন দুদেশ পার্টনারশিপ ডায়লগ, সিকিউরিটি ডায়লগ এবং টিকফা বাস্তবায়নে নিয়মিত বৈঠক করছে।

রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন সিনেটরকে বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের উত্থান এবং বিএনপি ও জামায়াত জোটের সহিংস কর্মকা- সম্পর্কেও অবহিত করেন।