২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সবার এক হওয়া জরুরী ॥ লিটন ভূঁইয়া

দেশের গুণী চিত্রশিল্পী লিটন ভূঁইয়া। শিল্পকলায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে এই শিল্পীর চার দিনব্যাপী তৃতীয় একক চিত্র প্রদর্শনী। এটি শিল্পীর তৃতীয় একক প্রদর্শনী। এর আগে তিনি দুটি একক প্রদর্শনী করলেও ঢাকা এবং চট্টগ্রামে অসংখ্য যৌথ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। চট্টগ্রাম আর্ট কলেজ থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রী সম্পন্ন করা লিটন ভূঁইয়া মূলত ফ্রিল্যাঞ্চার শিল্পী হিসেবে ছবি আঁকেন এবং বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশ নেন। এ পর্যন্ত সহস্রাধিক ছবি তিনি এঁকেছেন। চিত্রশিল্পীর পাশাপাশি তিনি একজন সাহিত্যিক ও নাট্যকার। তার রচিত অসংখ্য নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হয়েছে। এছাড়া প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে আরও বেশকিছু নাটক। চিত্র প্রদর্শনী এবং অনান্য বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হয়।

আজ থেকে আপনার সমসাময়িক আঁকা চিত্র প্রদর্শনী শুরু হচ্ছে?

লিটন ভূঁইয়া : হ্যাঁ। দিনটি আমার জন্য অনেক আনন্দের। কারণ আজ বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার তৃতীয় তলার গ্যালারিতে শুরু হচ্ছে আমার চার দিনব্যাপী ইধহহবৎ ড়ভ ঠরপঃড়ৎু বা ‘বিজয় কেতন’ শিরোনামে তৃতীয় একক চিত্র প্রদর্শনী। প্রদর্শনী চলবে আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত। আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রর্দশনী উদ্বোধন করবেন শিল্পী হাসেম খান। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকি।

প্রদর্শনীতে কয়টি চিত্র স্থান পাচ্ছে?

লিটন ভূঁইয়া : প্রদর্শনীতে আমার সাম্প্রতিক সময়ে আঁকা বড় ক্যানভাসের মোট ৪০টি চিত্রকর্ম স্থান পাচ্ছে। প্রর্দশনী প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। প্রর্দশনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীতে সহযোগিতা করছে বেঙ্গল গ্রুপ।

প্রর্দশনীর প্রেক্ষাপট কি?

লিটন ভূঁইয়া : আমার সাম্প্রতিক সময়ের আঁকা ছবিগুলো এবারের প্রদর্শনীতে এনেছি। চারদিকে অস্থিরতা আর বিশ্বাসহীনতা। এমনি সময়ে এই প্রদর্শনীর ছবিগুলোর মাধ্যমে আমি মনে করিয়ে দিতে চাই আমাদের সোনালি অতীত। বিশেষ করে সেটা অনেক রক্তঝরা সময়ের কাল হলেও তখন এদেশের মানুষ একটি লক্ষ্যে এক হয়েছিল। মানুষের সংগ্রাম, পুঞ্জিভূত শক্তি আর শক্তির আন্দোলিত গতি জীবনের মুক্তির হাতিয়ার হয়েছিল। ফলে ১৯৭১ এ সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে। সেই যুদ্ধে আছে অনেক আত্মত্যাগের ইতিহাস আর সব শেষে বিজয়ের জয়গান। এখানে আমার উদ্দেশ্যটা একদম পরিষ্কারÑ আবার এক হই সবাই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সময়ের প্রয়োজনে এখন সবার এক হওয়া খুব জরুরী।

প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া চিত্রগুলোর বিষয়বস্তু কি?

লিটন ভূঁইয়া : আমার চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনার যে প্রলেপ আমার চিন্তা ও মননে ছাপ ফেলে সেখান থেকে উঠে আসা উপলদ্ধিগুলো আমাকে ছবি আঁকার দায়িত্ববোধের কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। সেখানে দাঁড়িয়ে আমি কেবল নিজের জন্য ছবি আঁকতে পারি না। আমার রূপ ও রঙের ভাষায় আমি মানুষের কথা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই। ফলে চিত্রকলা শাস্ত্রের ইজম আমার ভাবনার বিষয় হয় না। আমি কেবল আমার ভাষায় কথা বলতে চাই আর ইচ্ছে করি সবাই যেন আমার ভাষা বুঝতে পারেন। ফলে মানুষ হয়েছে আমার ছবির উপজীব্য।

ঠিক এই সময়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়টি কেন বেছে নিলেন?

লিটন ভূঁইয়া : দেখুন সাম্প্রতিক সময়ের আধুনিকতার নামে অতিমাত্রায় যান্ত্রিকতায় চারপাশ ধোঁয়ায় গন্ধময়, মতানৈক্যের কোলাহলে যখন মানুষের কান্না চাপা পড়ে যায়, তখন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার গৌরব গাথা আরেকবার স্মরণ করিয়ে দেয়া আমার কর্তব্য মনে করেছি। আমি জানি আমার ছবিগুলোর কোন সঠিক ক্রমানুসার তৈরি করা যাবে না। সেটা আমার লক্ষ্যও ছিল না। ঐক্যবদ্ধ মানুষের শক্তি, স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধে বাঙালীর জীবন দানের কথা, পাশাপাশি রীরাঙ্গনা মায়েদের আত্মত্যাগের ইতিহাস ও তাঁদের প্রতি বাঙালী সমাজের পশ্চাদপদ দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিজয়ের গান এ সবই আমার ছবির বিষয় হয়ে উঠেছে। স্বাধীনতার সংগ্রামে আমাদের কি প্রত্যাশা ছিল, কোথায় কোথায় ত্রুটি ছিল, আজ সেগুলোকে মনে করে আত্ম-উপলব্ধির মধ্য দিয়ে ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী বাঙালী জাতি হয়ে দাঁড়াতে হবে। তবেই আমাদের সঠিক বিজয় রচিত হবে। আমার চিত্রকলায় আমি সেই সরল আহ্বানটাই জানাতে এসেছি।

আপনার প্রদর্শনী কি নিজ উদ্যোগে নাকি কেউ সহযোগিতা করেছে?

লিটন ভূঁইয়া : মোটামুটি নিজ উদ্যোগেই বলতে পারেন। তবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তারা এ প্রদর্শনীতে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে। এছাড়া আমার এ প্রদর্শনীর স্পন্সর করেছে ব্যাঙ্গল প্লাস্টিক। তাদের আমি অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

আপনি তো সাহিত্যচর্চা করেন, নাটকও লিখেছেন?

লিটন ভূঁইয়া : হ্যাঁ আপনি ঠিকই শুনেছেন চিত্রশিল্পীর পাশাপাশি আমি সাহিত্যিচর্চাও করি। এছাড়া আমার লেখা খ-নাটক এবং টেলিফিল্ম মিলে ১৫টি নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হয়েছে। এর মধ্যে ৫ ছিল মুক্তিযুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে লেখা। এছাড়া প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে আরও বেশকিছু নাটক। -সাজু আহমেদ