১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলা গানের নতুন ট্রেন্ড ‘আয় ভোর’- নচিকেতা

নচিকেতা চক্রবর্তী। বাংলা গানের জীবন্ত কিংবদন্তি। জন্ম কলকাতায়। কিন্তু বাপ-দাদার ভিটা বরিশালে। সম্প্রতি ‘লেজারভিশন’ থেকে প্রকাশিত হয়েছে ভিন্নধর্মী গানের এ্যালবাম ‘আয় ভোর’। ‘ছায়ামানবী’খ্যাত কণ্ঠশিল্পী আমিরুল মোমেনীন মানিকের এ এ্যালবামটিতে স্বরব উপস্থিতি আছে নচিকেতার। কণ্ঠ দিয়েছেন টাইটেল ট্র্যাকটিতে। অভিনয় করেছেন সেটার মিউজিক ভিডিওতেও। লিখেছেন ‘কলেজলাইফ’ শিরোনামের গানটি। সুরও করেছেন তিনি। ‘আয় ভোর’ নিয়ে আনন্দকণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেছেন নচিকেতা। সঙ্গে ছিলেন মাহবুবুর রহমান সজীব

‘আয় ভোর’ গানটি গাওয়ার গল্প..

নচিকেতা : আমি সাধারণত নিজের গান নিজেই লিখি ও সুর করি। তরুণ কণ্ঠশিল্পী মানিক আমাকে দীর্ঘদিন থেকেই অনুরোধ করছিল তাঁর নতুন একটি গানে কণ্ঠ দেবার জন্য। ওকে বলেছিলাম, গানের কথা ও সুর মানসম্মত হলে অবশ্যই গাইব। কিন্তু সময়-সুযোগ হয়ে উঠছিল না। বাংলাদেশ সফরে এলে একদিন মানিক আমাকে ‘আয় ভোর’ গানটা শুনাল। দারুণ কথা ও অদ্ভুত সুন্দর সুরে আমি আবিষ্ট হয়ে যাই। একবাক্যে বলে দিলাম, গানটি আমি করব।

আপনার সঙ্গে মানিক গেয়েছে কেমন?

নচিকেতা : মানিক নিঃসন্দেহে ভাল গেয়েছে। ওর মধ্যে একটা আগুন আছে। ওই আগুনটা যখন প্রজ্বলিত হবে, তখন পুরো বাংলাদেশ ওর গানে মুগ্ধ হবে; এটা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি। আমি বরাবরই তরুণদের ব্যাপারে ভীষণ আগ্রহী। যখন আমি সংগ্রাম করেছি, তখন অনেকেই আমাকে কোন সহযোগিতা করেনি। সেই যন্ত্রণা আমি বুঝি বলেই গান নিয়ে যারা সংগ্রাম ও সাধনা করে, সেইসব শিল্পীদের আমি স্যালুট করি। বাংলাদেশে এই প্রথম কোন জীবনমুখী দ্বৈত গান গাইলাম। এটির একটি দৃষ্টিনন্দন ভিডিও তৈরি হয়েছে। আউটডোরে গিয়ে ভিডিওতে অংশ নেয়াও এটি আমার জন্য প্রথম।

দু’জন পুরুষ কণ্ঠশিল্পীর দ্বৈত গান হয় না তো খুব একটা!

নচিকেতা : হ্যাঁ.. দ্বৈত গান সাধারণত পুরুষ এবং নারী কণ্ঠশিল্পীর মধ্যে হয়। তবে পশ্চিমবঙ্গেও আমি কবির সুমনসহ অনেকের সঙ্গে এ রকম গান করেছি। বাংলাদেশে এই প্রথম মানিকের সঙ্গে গাইলাম। ‘আয় ভোর’ এর মধ্য দিয়ে বাংলা গানে পুরুষে-পুরুষে দ্বৈত গান গাওয়ার একটা ট্রেন্ড চালু হোক, এটা আমি প্রত্যাশা করি। এ রকম গান হলে গানের বিষয়বস্তুরও ভিন্নতা আসবে। ‘আয় ভোর’ গানে সেই চেষ্টাই করা হয়েছে। গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করা।

গানটির কথাগুলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক না সর্বজনীন? কী মনে হয়েছে আপনার?

নচিকেতা : এটা প্রতীকী গান, প্রত্যাশার গান, আশাবাদী হওয়ার গান। প্রত্যেক মানুষই চায়, তার সকালটা, তার আগামী দিনগুলো যেন সুন্দর হয়। এই গানে সেই চাওয়ার কথাই বলা হয়েছে। গানটিকে একেকজন একেক রকমভাবে নিতে পারে। অনেকটা আমার ঢংয়ের গান। বাংলাদেশে এমন গান খুব একটা হতে দেখি না। ‘আয় ভোর’ এ যে ভোরকে ডাকা হয়েছে, এটাকে কেউ প্রেমিকা হিসেবেও কল্পনা করতে পারে। গানটির কথা ও সুর সাহিত্য ও শিল্পমান সমৃদ্ধ। মানিক যথেষ্ট মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছে। তানভীর তারেকের কম্পোজিশনও দারুণ হয়েছে। মোট কথা, এ রকম ভাল গান বারবার হয় না, হঠাৎ হঠাৎ হয়। ভিডিও’র কাজটি করেছে ইমন নামের একটা ছেলে। সব মিলিয়ে পুরো টিম ছিল পজেটিভ। ফলে একটা ভাল কাজ করতে পেরেছি।

বাংলাদেশের গান নিয়ে আপনার পর্যালোচনা..

নচিকেতা : বাংলাদেশ হলো বাংলা গানের আঁতুড়ঘর। রুনা লায়লা জি’কে আমি ভীষণ শ্রদ্ধা করি। তিনি বাংলা গানকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আলাউদ্দিন আলীও আমার প্রিয়। তরুণদের মধ্যেও অনেকেই ভাল কাজ করছে। ভাল কাজগুলোর প্রচার এখানে কম হয় বলে আমার ধারণা। তবে এখানকার চলতি কিছু গান আমার ভাল লাগে না। সেগুলোতে তুমি-আমি ছাড়া আর কোন কিছুই পাওয়া যায় না। তবে, যাই বলি না কেন, বাংলা গানের ভবিষ্যত কিন্তু এখন বাংলাদেশের সঙ্গীতজ্ঞদের উপরই নির্ভর করছে।