২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’ এর ছোট্ট মেয়েটি

মুন্নি। ছয়-সাত বছরের এক মূক বালিকা। ওকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে ‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’ চলচ্চিত্রের কাহিনী। এই মেয়েটি পাকিস্তান থেকে ভারত চলে আসে। ওকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয় পবনকুমার চতুর্বেদি ওরফে ‘বাজরাঙ্গি’ নামের এক যুবক। মুন্নির আসল নাম হার্শালি মালহোত্রা। সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে হার্শালি জানায় ওর মনের কথা। বিস্তারিত লিখেছেন ইসমাইল হোসেন সোহাগ

প্রথমবার সালমান খানের সঙ্গে দেখা হলে হার্শালি বলে ওঠে, ‘তুমি কি আমাকে সুপারস্টার বানিয়ে দেবে?’ প্রশ্নটা শুনে চমকে ওঠেন সালমান। চমকে ওঠারই কথা। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, এ কথা ওকে কেউ শিখিয়ে দেয়নি। নিজ থেকেই বলেছে। বড় হয়ে তুমি কী করতে চাও? এমন প্রশ্নে বরাবরই ও জানায়, ‘আমি একজন সুপারস্টার হতে চাই।’ বললেন হার্শার মা।

‘সালমান মামার সঙ্গে দেখা করার আগে ভেতরে ভেতরে খুব উত্তেজিত ছিলাম, খুশিতে লাফাচ্ছিলাম আমি।’ বলছিল পিচ্চি মেয়েটি। সালমান খানকে মামা বলেই ডাকে ও। ‘খুব মজায় মজায় সালমান মামার সঙ্গে আমি কাজ করেছি। প্রথমে যখন কাজ শুরু করেছিলাম, তখন তাঁকে আঙ্কেল বলে ডাকতাম। এখন আমি মামা বলেই ডাকি।’ কিন্তু কেন! ‘ছবিটির শেষ দৃশ্যে সালমান খানকে আমি মামা বলে ডাকি, তারপর থেকেই তিনি আমার মামা।’

‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’-এর আগে ‘কবুল হ্যায়’, ‘যোধা আকবর’ আর ‘সাবধান ইন্ডিয়া’য় অভিনয় করেছে হার্শালি। শুধু তা-ই নয়, ফেয়ার এ্যান্ড লাভলী, হরলিকসসহ বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপনচিত্রেও মডেল হয়েছে ও। সর্বশেষ ওকে টিভি চ্যানেলের ‘লট আও তৃষা’ সিরিজে দেখা গেছে। এই সিরিজের মাধ্যমেই অভিনয়ে ফিরেছেন ভাগ্যাশ্রী। তাঁর মেয়ের চরিত্রে ছিল হার্শালি। মজার বিষয় হচ্ছে, বড় পর্দায় ভাগ্যাশ্রীরও অভিষেক হয়েছিল সালমানের বিপরীতেই, ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ ছবির মাধ্যমে।

শূটিংয়ের সেটে সালমান বেশ কয়েকবার খেলেছে ওর সঙ্গে। হেরেছেও.. ‘আমি যখনই তাঁকে খেলতে বলেছি, সে আমার সঙ্গে খেলেছে। আমরা অনেকবার টেবিল টেনিস খেলেছি এবং বহুবার তাঁকে হারিয়ে আমি জিতেছি।’ খুশিতে ছটফট করতে করতে বলছিল ও।

মুন্নি চরিত্রের জন্য এক হাজারেরও বেশি শিশুর অডিশন নেয়া হয়। অবশেষে হার্শার মাঝেই মুন্নিকে খুঁজে পান পরিচালক কবির খান। তবে ছবি মুক্তির আগে সব ধরনের প্রচারণামূলক কার্যক্রম থেকে ওকে সরিয়ে রাখা হয়। শুধু তাই নয়, মেয়ের অভিনীত চরিত্র গোপন রাখতে ওর মা-বাবাকে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিতে সই করতেও হয়েছিল।

হার্শালির বয়স এখনও খুবই কম। মাত্র ছয়-সাত। লেখাপড়া করে মুম্বাইয়ের সেভেন স্কয়ার এ্যাকাডেমিতে। খুব মেধাবী ও। লেখাপড়ায় যেন কোন ক্ষতি না হয়, সেজন্য স্কুল ছুটি থাকার সময় ওর অংশের দৃশ্যধারণ করা হয়। শূটিংয়েও বেশ মজা করেছে হার্শালি। জানাল, ‘খুব মজা করতে করতে আমরা শূটিং শেষ করেছি। বিশেষ করে কাশ্মীরে তুষারপাতের মধ্যে আমরা কাজ করার সময় খুব মজা করেছি।’

বলিউডে সালমান খান ছাড়া কারিনা কাপুর, ক্যাটরিনা কাইফ, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী এবং সোনাক্ষি সিনহাকে খুব ভাল লাগে ওর। ক্যাটরিনা কাইফের সঙ্গে অভিনয়ের ইচ্ছেও আছে মনে মনে।

শূটিংয়ের সেটে এই বয়সের একটা মেয়ে দুষ্টুমি করবে না তা কি হয়! করেছে ও.. স্বীকারও করেছে। ‘হ্যাঁ, একটু দুষ্টুমি করেছি। সালমান মামা এবং টিমের অনেককে স্নো-বল ছুঁঁড়ে দিতাম, কিন্তু কেউই রাগ করেনি।’

মারামারির দৃশ্যগুলো ও পছন্দ করত না। বলল, ‘যারা মারামারি করত, তাদের আমি পছন্দ করতাম না। আমি কবির আঙ্কেলকে বলেছি, ওইসব দৃশ্য দেখলে আমার ভয় হয়।’

হার্শালির মেজাজ বুঝে ওর দৃশ্যধারণের মাঝে কলাকুশলীরা ২-৩ ঘণ্টা পরপর বিরতি নেয়ায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন। একবার তো গোটা ইউনিটকে ছয় ঘণ্টা বসে থাকতে হয়েছিল। সবাই-ই খুব আদর করত ওকে। কারিনা এক সাক্ষাতকারে বলেই ফেললেন, ‘সালমানের সঙ্গে কাজ করলে সাধারণত আমিই সবার চেয়ে আদুরে থাকি। কিন্তু, এবার ছিল হার্শালি। ও-ই ছবিটির সবচেয়ে বড় তারকা। ও বলিউডের অভিনেত্রী হতে বেশ উচ্চাকাক্সক্ষী।’

এর আগে হার্শা সালমান খানের আরেক ছবি সুরজ বরজাতিয়া পরিচালিত ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’র জন্যও নির্বাচিত হয়েছিল। এমনকি পোস্টারের জন্য কয়েকটি দৃশ্যেও কাজ করেছে। কিন্তু কবির খানের কাছ থেকে ভাল প্রস্তাব পেয়ে সিদ্ধান্ত পাল্টায় ওর মা।

‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’ ছবিতে আবেগপ্রবণ দৃশ্যে কাজ করতে গিয়ে সালমানের চোখে জল দেখলেই হার্শালি মালহোত্রা কেঁদে ফেলত। সালমান যতবার কেঁদেছে, ও ঠিক ততবারই কেঁদেছে। পঞ্চম শ্রেণিতে ওঠার পর দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত কোন কাজ করবে না হার্শা। লম্বা বিরতি নেবে। এরপর মন চাইলে আবারও অভিনয়ে আসবে, নতুবা না...। ভবিষ্যতে কী হবে, সেটা না হয় মহাকালই ভাল জানবে; কিন্তু এই ছবির ছোট্ট মেয়েটির সাফল্য ঠেকাবে কে? ও তো এখন সালমান-কারিনার চেয়েও বড় তারকা সবার চোখে!

নির্বাচিত সংবাদ