২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অজয়-টাবুর চমক !

বয়স তাঁর ৪৩। অথচ এ বছর তাঁর অভিনয় জীবনের বয়স ৩৫ পূর্ণ হয়েছে। মাত্র আট বছর বয়স থেকে অভিনয় করছেন তিনি। কিন্তু পরিপূর্ণ নায়িকা হয়েছেন ২৩ বছর বয়সে। ৩৫ বছরের অভিনয় ক্যারিয়ারে ঝুলিতে আছে মাত্র ১২টি ছবি। ২০০৭ সালে ‘চিনিকম’ ছবির পর দীর্ঘ সাত বছর বিরতি দিয়ে গত বছর ‘হায়দার’ ছবির মাধ্যমে আবারও পর্দায় ফিরলেন বলিউডের এক সময়কার সেনসেশন টাবু। ঝুলিতে ছবির সংখ্যা মাত্র ১২টি হলেও এর মধ্যে দর্শকদের তিনি উপহার দিয়েছেন ‘ভিজাপাথ’, ‘ভিরাসাত’, ‘চাঁদনী বার’, ‘চিনিকম’ এর মতো বেশকিছু দর্শক নন্দিত ছবি।

অপরদিকে ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ খ্যাত অজয় দেবগন যেন বারবার হোঁচট খেয়েও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। ১৯৯১ সালে ‘পুল অর কান্তি’ ছবি দিয়ে বলিউডে তাঁর পদচারণা শুরু“হয়। মাত্র ২৪ বছরের অভিনয় জীবনে টাবুর তুলনায় সাতগুণ বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন অজয়। ফলে তাঁর সফলতা ও ব্যর্থতার পাল্লা যেন সমানে-সমান। অজয় ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ ছবির মাধ্যমে যেমন আকাশচুম্বী প্রশংসা কুড়িয়েছেন, ঠিক তেমনি ‘এ্যাকশন জ্যাকসন’ ছবির জন্য প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়েছিলেন। তখন চলচ্চিত্র সমালোচক অনুপমা চোপড়া তাঁর সমালোচনায় লিখেছিলেন, ‘জীবনে অনেক বাজে ছবি দেখেছি। কিন্তু এতটা বাজে ছবি দেখা হয়নি এর আগে। আমি নিশ্চিত যে, এই ছবি দেখে আমার মস্তিষ্কের কিছু স্নায়ু অকেজো হয়ে গেছে’। তাছাড়া ভারতীয় এক সংবাদ মাধ্যম লিখেছে, ‘জ্যাকসন যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে এমন নিকৃষ্ট ছবিতে তাঁর নামের সংযুক্তির জন্য নিশ্চিত মামলা ঠুকে দিতেন’। ঠিক এভাবেই যেন চলছে অজয় দেবগনের ভাঙা গড়ার ক্যারিয়ার।

ক্যারিয়ারের এতগুলো বছর অতিবাহিত হওয়ার পর ‘দিশাম’ ছবির মধ্য দিয়েই এই প্রথমবারের মতো জুটিবদ্ধ হলেন অজয় দেবগন ও টাবু। এখানে তাঁরা দুজনেই নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। তাছাড়া তাঁদের সঙ্গে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তেলেগু ছবির অন্যতম সেনসেশন শ্রিয়া সরন। যিনি কিনা পরবর্তীতে একাধারে ভারতীয় অভিনেত্রী, মডেল ও উপস্থাপিকার খেতাব অর্জন করেন। ২০০১ সালে তেলেগু ছবি ‘ইসতাম’ দিয়ে তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু এবং ২০০৩ সালে ‘তুযে মেরি কসম’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। এখন পর্যন্ত মাত্র চারটি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তবে নায়িকা হিসেবে তার যতখানি না খ্যাতি আছে তাঁর চেয়ে লক্ষগুণ খ্যাতি আছে উপস্থাপনায়। সর্বশেষ ২০১২ সালে ‘গালি গালি মে চোর হ্যায়’ ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয়ের পর এবার দিশাম ছবিতে আবারও নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন শ্রিয়া সরন। মালায়াম ছবি দিশাম এর রিমেক ভার্সন হলো বলিউডের দিশাম ছবি। মালায়াম লেখক ও অভিনেতা জিথু জোসেপের গল্প অবলম্বনে প্রথম মালায়াম ভাষায় ছবিটি হয়েছিল ২০১৩ সালে। পরবর্তীতে পরিচালক নিশিকান্ত কমত ছবিটি ভারতীয় ভাষায় তৈরি করেন। যা আগামী ৩১ জুলাই সারা ভারতজুড়ে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ছবিটিতে প্রথমে সাইফ আলী খান অভিনয় করার কথা থাকলেও পরে কিছু জটিলতার কারণে সাইফের পরিবর্তে অজয়কে নেয়া হয়। এ ব্যাপারে পরিচালক বলেন, আমার এই ছবিটি যেহেতু থ্রিলার ড্রামা , সেহেতু আমি মনে করেছি যে এর জন্য অজয় সাইফের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই শেষ পর্যন্ত অজয়কেই সিলেক্ট করা হয়। তাছাড়া ছবির কাজ শেষে আমি উপলব্ধি করেছি যে, আমার সিদ্ধান্তটা যথার্থ ছিল। কারণ আমি যা চেয়েছি অজয় যেন তারি প্রতিফলন ঘটিয়েছে। তাছাড়া অজয়, টাবু ও শ্রিয়া প্রথমবারের মতো একসঙ্গে হয়েছেন। সেজন্য প্রথম প্রথম আমার মাঝে কিছুটা ভয় কাজ করেছিল ,কিন্তু পুরো ছবির কাজ শেষে আমি তাঁদের অভিনয় কেমিস্ট্রি দেখে তৃপ্ত। তাই আমি এখন নির্ভয়ে বলতে পারি যে, আমার এই ছবি দর্শক নন্দিত হয়ে ওঠা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। তাছাড়া ছবির হিরো অজয়ও তাঁর এ বছরের প্রথম ছবি নিয়ে ভালই আশাবাদী। দিশাম ছবিটি মূলত চারটি গানের সমারোহে তৈরি হয়েছে, যেখানে কণ্ঠ দিয়েছেন রাহাত ফাতেহ আলী খান, কে-কে, আরিজিত সিংয়ের মতো গুণী শিল্পীরা।

নাজমুল আহমেদ তন্ময়