২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় কোমেন, উপকূলে ৭ নং বিপদ সঙ্কেত

  • আজ দুপুরে আঘাত হানতে পারে ॥ তিন-পাঁচ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা, স্কুল কলেজ বন্ধ ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় কোমেন। আজ দুপুর নাগাদ এটি উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেত, মংলা ও পায়রাবন্দরে জারি করা হয়েছে ৫ নম্বর বিপদ সঙ্কেত। ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে তিন থেকে পাঁচ ফুট জলোচ্ছ্বাসও হতে পারে। বুধবার রাতে আবহাওয়া অধিদফতরের ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাস কেন্দ্রের উপ-পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ এই তথ্য জানিয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসায় উপকূলীয় এলাকায় স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনসাধারণকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আবহাওয়া অধিদফতরে দায়িত্বরত আবহাওয়াবিদ সালাউল হক বলেন, বুধবার রাত দশটার পর ৭ নম্বর, পায়রা ও মংলা সমুদ্র বন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। কক্সবাজারে বিমান ওঠানামা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর দিকে বেশ খানিকটা অগ্রসর হয়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। নিম্নচাপটি স্পষ্ট ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। সাইক্লোনটি উপকূলের দিকে আরও অগ্রসর হতে পারে। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিকটবর্তী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার জন্য আমরা প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছি। সন্ধ্যায় গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা, ট্রলার ও জাহাজকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হলেও বর্তমানে তাদের উপকূলের কাছাকাছি যে কোন বন্দরে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের দেয়া তথ্যানুযায়ী ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৪ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

চট্টগ্রাম ॥ চট্টগ্রাম অফিস জানায় রাত বারোটা ২০ মিনিটে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চট্টগ্রামে দমকা হাওয়া বইছিল। ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেত জারি হওয়ার পরই একটি কন্ট্রোল রুম খুলেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস ৮ নম্বরে উন্নীত হলেই উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণকে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাসির।

স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার থেকে জানান, আজ দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে কক্সবাজারে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে। কক্সবাজারে ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেত জারি করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে এগারোটায় জেলায় ৭ নম্বর সঙ্কেত জারি করা হয়। কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, নিম্নচাপটি কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে। এটি ১০০ থেকে ১২০ কিমি বেগে কক্সবাজারের দিকে ধেয়ে আসছে। এটি দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে।

সমুদ্র থেকে সব ধরনের ফিশিং ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সন্ধ্যায় জরুরী সভায় মিলিত হয়। সভা শেষে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক অনুপম সাহা জানান, মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে গঠন করা হয়েছে উদ্ধারকারী দল। পাশাপাশি জেলার সব আশ্রয় কেন্দ্র গত বুধবার রাত থেকেই খুলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া রেড ক্রিসেন্ট ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাত একটায় প্রাপ্ত সর্বশেষ খবরে কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবদিয়া দ্বীপাঞ্চলে রেডক্রিসেন্ট সদস্যরা লোকজনকে নিরাপদে আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য মাইকিং করছে। দমকা ও ঝড়ো হাওয়ায় সেন্ট মার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপে পনের থেকে বিশটি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। কয়েকটি বাড়ির চাল উড়ে গেছে। উপড়ে পড়েছে বেশ কিছু গাছপালা। তবে প্রাণহানির কোন খবর পাওয়া যায়নি।