৩০ জুলাই ২০১৫

কক্সবাজারে কয়েক কোটি টাকার ॥ সম্পত্তি বেহাত

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এক শ্রেণীর ভূমিদস্যু ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের অসৎ কর্মকর্তাদের লোভের কারণে প্রতিনিয়ত পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে চলছে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা ও বহিরাগত ব্যক্তিরা ভূমিদস্যু ও দখলবাজ কিছু ব্যক্তির কাছ থেকে দখলস্বত্ব মূলে কিনে নিচ্ছে পাহাড় শ্রেণীর ওইসব জমি। সরকারী জমি বিক্রির লাখ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়ে থাকে ভূমিদস্যু এবং এক শ্রেণীর দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তার মধ্যে। অবৈধভাবে কেনা ওই জমিতে স্থাপনা তৈরি করে দিব্যি বসবাস করে চলছে রোহিঙ্গাসহ শত শত পরিবার। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মীদের দাপটে সরকারী ভূসম্পদ বেহাত হতে শুরু করে। নামমাত্র মূল্যে গণপূর্তের কোটি কোটি টাকা দামের জমি প্লটভিত্তিক ভাগ বণ্টন হয়ে যায় বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার ওইসব জমি প্লটভিত্তিক দলীয় নেতা, এমনকি মন্ত্রী, এমপি ও তাদের স্বজনদের নামে লিজ নিয়ে দখল করে নেয় পুরো সৈকত এলাকা। কিছু কিছু জমি লিজ না নিয়ে জবরদখল করে রাখা হয়। ১৯৯২ সালে তৎকালীন সরকারের মদদে মিয়ানমার থেকে দলে দলে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করলে এটি তাদের (বিএনপি) জন্য প্লাস পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। একদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নামে বিদেশী সাহায্য এনে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেছে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে জেলার বিভিন্ন স্থানে জবরদখলকৃত বন বিভাগের ও খাস জমি রোহিঙ্গাদের কাছে বিক্রি করে ওপারের নাগরিকদের এদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছে। রোহিঙ্গা জঙ্গী গোষ্ঠী তথা আরাকান বিদ্রোহী গ্রুপ আরএসও ক্যাডাররা ওইসময় বিএনপি-জামায়াতের মদদ পেয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। একশ্রেণীর নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় অনেকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছে। কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের কলাতলি হাইওয়ে রেস্ট হাউসের আশপাশের পাহাড় শ্রেণীর প্রায় জমি অবৈধভাবে বিক্রি হয়ে গেছে। এছাড়াও সরকারের ১নং খাস খতিয়ানের এবং বন বিভাগের মালিকানাধীন জেলার পাহাড় ও সমতল অধিকাংশ ভূমি বেহাত হয়ে গেছে সওজ, বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কতিপয় দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে দখলে নেয়ার পর তা প্লটভিত্তিক বিক্রি করে দিয়েছে গ্রাম থেকে শহরমুখী মানুষের কাছে। পাহাড়ের পাদদেশে এবং পাহাড়ের চূড়ায় বসতি গেড়ে দিনযাপন করছে ওইসব পরিবারের সদস্যরা। সওজ বিভাগের কর্মচারীরা কলাতলি হাইওয়ে রেস্ট হাউসের আশপাশের পাহাড় শ্রেণীর ওইসব জমি গোপনে বিক্রি করে দেয়ায় পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠেছে শতাধিক রোহিঙ্গা বসতি। এসব অবৈধ স্থাপনায় যেমন চলছে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ, তেমনিভাবে ঘটছে ব্যাপকভাবে পাহাড় কাটার মহোৎসবও।

জানা যায়, ’৯১ সালে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী কক্সবাজার বন বিভাগের আওতাধীন আরএস ৮০০১ দাগের কলাতলি এলাকায় ১০ একর বনভূমি অবমুক্ত করে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নামে বন্দোবস্তি দেয়। ওই জমির কিছু অংশে পরবর্তীতে সওজ বিভাগ ‘হাইওয়ে রেস্ট হাউস’ নামে একটি স্থাপনাও নির্মাণ করে। কিন্তু সওজের মালিকানাধীন ১০ একর জমির বেশিরভাগই ইতোমধ্যে বেহাত হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সওজ বিভাগ এবং পরিবেশ অধিদফতরও অজ্ঞাত কারণে নিশ্চুপ রয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদফতর কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রানা প্রিয় বড়ুয়ার সঙ্গে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠা জমিগুলো তাদের নয়, বন বিভাগের বলে দাবি করেন। তবে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ সূত্র দাবি করছে, পাহাড় কাটা এবং অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠা জমিগুলো তাদের নয়, সড়ক বিভাগের জমি বলেই ওখানে আমাদের করার কিছু নেই।