২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যশোরে অপহরণকারীরা সক্রিয়

  • স্বজনরা না জানালে কিছু করার নেই ॥ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোরে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের একটি চক্র গড়ে উঠেছে। অপহরণের পর তাদের পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হচ্ছে। অনেকে অপহরকারীদের ভয়ে থানা পুলিশকে জানায় না। জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই বিকেলে ব্যবসায়িক কাজে যশোরে এসে অপহৃত হন চৌগাছার সিংহঝুলি মল্লিকবাড়ির হাসান মল্লিক। অপহরণকারীরা দুই দফায় তার পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে গভীর রাতে তাকে যশোর সদরের চূড়ামনকাটিতে ছেড়ে দেয়। এর আগে গত ১৩ জুলাই চৌগাছার দীঘলসিংহা গ্রামের আক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে যশোর জজ আদালত চত্বর থেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। পরে আক্তারের পরিবার-সদস্যরা দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করে তাকে অপহরণকারীদের কাছ থেকে মুক্ত করে নিয়ে যায়।

এ দু’টি ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, চৌগাছা অঞ্চলের বেশকিছু মানুষ সম্প্রতি যশোর শহরে আসার পথে অথবা যশোর শহরে এসে অপহরণের শিকার হয়েছে। অপহরণকারীদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন স্বজনরা। এছাড়া চৌগাছা সিংহঝুলি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুচ আলী সম্প্রতি যশোর শহর থেকে অপহৃত হন। স্বজনরা অপহরণকারীদের ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। ২০ জুলাই অপহৃত হন সিংহঝুলি গ্রামের নছু খাঁর ছেলে মাছ ব্যবসায়ী ইমদাদুল হক ইন্তা। তার পরিবার অপহরণকারীদের ১৩ হাজার টাকা দিয়ে তাকে মুক্ত করে। ২২ জুলাই অপহৃত হন সিংহঝুলি গ্রামের মতি খাঁর ছেলে জসিমউদ্দিন। তাকেও পরিবারের সদস্যরা ১৫ হাজার টাকা দিয়ে উদ্ধার করে নিয়ে যান। অপহৃতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মূলত দু’টি কারণে ঘটনাগুলো চেপে যাচ্ছেন। প্রথমত, অপহরণকারীরা ভয়ঙ্কর প্রকৃতির। তাদের কাছে রয়েছে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র। ফলে ঘটনা জানাজানি হলে বিপদ বাড়বে বই কমবে না। দ্বিতীয়ত, অপহরণকারীদের নেটওয়ার্ক যশোর শহর থেকে চৌগাছা পর্যন্ত বিস্তৃত। অন্যদিকে, মালয়েশিয়া প্রবাসী মণিরামপুর উপজেলার কোদলা গ্রামের যুবক সাহিবুল ইসলামকে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী গত ১৪ জুলাই জিম্মি করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অপহৃত যুবকের ভাই নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করে তাকে ছাড়িয়ে আনেন। প্রবাসী সাহিবুল পরদিন ১৫ জুলাই কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

কিন্তু পুলিশ তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করে দশ দিন পর। যশোর পুলিশের মুখপাত্র ও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক বলেন, ‘যে কয়টি ঘটনা পুলিশকে জানানো হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে ভিকটিম বা তার স্বজনরা যদি পুলিশকে কিছু না জানায়, তাহলে আমাদের করার কিছু নেই।’