২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দিন শেষে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ২৪৬

দিন শেষে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ২৪৬

মিথুন আশরাফ ॥ ‘রানটা অনেক কম হয়ে গেছে।’ মুমিনুল হকের এ কথাতেই বোঝা যাচ্ছে প্রথম ইনিংসে প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে যে ২৪৬ রান করেছে বাংলাদেশ, তাতেই ঢাকা টেস্টে বিপাকে পড়ে গেছে। রানের হিসেব করলে প্রথমদিনে স্কোরবোর্ডে ভাল রানই জমা হয়েছে। কিন্তু উইকেট যে ৮টি পড়ে গেছে, তাতেই বিপত্তির মধ্যে পড়ে গেছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম টেস্টে দুর্দান্ত ব্যাটিং করার পর ঢাকা টেস্টে এসে টসে জেতে আগে ব্যাট করে ব্যাটিং ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে মুশফিক বাহিনী। জেপি ডুমিনি (৩/২৭) ও ডেল স্টেইন (৩/৩০) মিলে এমন বোলিংই করলেন, বাংলাদেশের ইনিংসে ধসই নামিয়ে দিলেন। মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ মিলে যদি চতুর্থ উইকেটে রেকর্ড ৯৪ রানের জুটি না গড়তেন, স্কোরবোর্ড আরও মলিনই দেখাত!

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্ট ঠিকমতো হবে কি না এ শঙ্কা ছিল। প্রথম টেস্ট বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় দ্বিতীয় টেস্ট নিয়ে সেই ভাবনা ছিল। কিন্তু দুপুরে বৃষ্টিতে ৫ মিনিটের বিরতি পড়েছে। এছাড়া কোন সমস্যাই হয়নি। প্রথমদিনটি ভালভাবেই শেষ হয়েছে। সেই ভালর ছোঁয়া কেবল দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটারদের গায়েই লেগেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের গায়ে সেই পুরনো চিত্রই আঁকা হয়েছে। ধৈর্য হারা হয়ে আউট হওয়ার গল্পই আবার লেখা হচ্ছে। তাই তো ৪০০ উইকেট শিকারের মাইলফলক অতিক্রম করার পর ডেল স্টেইন বড় গলায় বলতেও পারছেন, ‘এটা ধৈর্যের খেলা। বাংলাদেশ বছরজুড়েই ভাল খেলছে। তবে দিন শেষে আমরাই মনে হয় ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছি।’

স্টেইন এ কথাটি তামিম, মুমিনুলের ধৈর্য হারা হয়ে অহেতুক আউট হওয়ার ধরন দেখেই বলেছেন। শুরুতেই ১২ রানের সময় তামিম (৬) যেভাবে শট খেলতে গিয়ে স্টেইনের বলে আউট হলেন, আগ বাড়িয়ে বল মারতে গিয়ে সাজঘরে ফিরলেন, তা দেখে শুধু এ পেসারই নন; যে কেউ ভুলটা বুঝতে পারবেন। সেখানে স্টেইন তো ঝানু বোলার। তামিমকে আউট করেই ৪০০ উইকেট শিকার করেছেন স্টেইন। এখানে স্টেইনের যতটানা কৃতিত্ব, তারচেয়ে বেশি তামিম যেন নিজে থেকে উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসলেন।

তামিম আউটের পর খেলায় একটু আমেজ আসে। সেই আমেজ নিয়ে আসেন ইমরুল কায়েস ও মুমিনুল হক। দ্বিতীয় সেশন অতিক্রম করার আশাও দেখান। কিন্তু ৬৯ রানের জুটি গড়ার পর দলীয় ৮১ রানে গিয়ে জেপি ডুমিনির বলে কাট করতে গিয়ে আউট হয়ে যান মুমিনুল (৪০)। পরপর দুটি উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসে বাংলাদেশ। সেখানে যেন মনোবলও নষ্ট হয়ে যায়। মুমিনুল তা বুঝতেও পারেন। তাই তো বলেছেনও, ‘আমি সিদ্ধান্তটা একটু ভুল নিয়েছি। আজকের (কালকের) দিনে আমার সব সিদ্ধান্তই ভাল ছিল। এই সিদ্ধান্ত শুধু খারাপ নিয়েছিলাম। আগের ম্যাচেও সিদ্ধান্তটা খারাপ ছিল। আগের টেস্টে আমার স্কোরিং শটস কিন্তু ছিল কাট। আমি বেশিরভাগ রানই কাটে করি। মাঝে মধ্যে নিজের সেরা শটটাও কাজে লাগে না। এমন হয়ই। যেদিন হয়ও না সেদিন হাফ সুযোগগুলোও হয় না। এই বিষয়ে আমার আরও সচেতন হওয়ার দরকার।’

মুমিনুল এখন দ্বিতীয় ইনিংসে সতর্ক হলেই হয়। কিন্তু প্রথম ইনিংসের হিসেবই যে আগে আসছে। যে ইনিংসে মুমিনুল আউট হতেই ৮৬ রানে ইমরুলও (৩০) সাজঘরে ফেরেন। তাতে করে দলও বিপাকে পড়ে যায়। সেখান থেকে চতুর্থ উইকেটে মাহমুদুল্লাহ-মুশফিক মিলে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। মনে হচ্ছিল, দিনটি এ দুইজনই শেষ করে দেবেন। দুই দলের মধ্যকার চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড জুটিও গড়ে ফেলেন। দুইজনই সমান তালে এগিয়েও যেতে থাকেন। কিন্তু ১৮০ রানে গিয়ে মাহমুদুল্লাহ’ও (৩৫) আউট হয়ে যান। ৪ উইকেট পতনে বিপাকে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

মুশফিক-সাকিব, দলের দুই সেরা ব্যাটসম্যান একসঙ্গে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন। স্কোরবোর্ডে ২১৫ রান জমা হতেই রিভিউ নিয়েও মুশফিক (৬৫) বাঁচতে পারেননি। ব্যক্তিগত ১০ রানের সময় স্টেইনের বল স্ট্যাম্পে লাগলেও বেল পড়েনি। এমন ভাগ্যের সহায় নিয়ে অর্ধশতকও করেন। কিন্তু এমন এক সময় আউট হলেন যখন দিন শেষ হতে বাকি আর ১৫ ওভারের মতো। এলগার একটি মাত্র উইকেট শিকার করলেন। সেটিই মুশফিকের। এ এক উইকেট হারানোই বাংলাদেশকে পুরোদমে বিপত্তিতে ফেলে দেয়। এরপরও আশা থাকে, সাকিব, লিটন, নাসির যে ব্যাটিংয়ে থাকেন। কিন্তু তুরুপের তাসের মতোই ভেঙ্গে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং।

স্টেইন বলেছেন, ‘৬ উইকেট নিতে পারলেই নিচের সাড়ির ব্যাটসম্যানরা বিপদের মধ্যে পড়বে জানা ছিল।’ তার কথাই ঠিক হয়েছে। মুশফিক আউটের পর ২২০ রানে লিটন কুমার দাস (৩) ও ২৪৫ রানে সাকিব (৩৫) আউট হয়ে যান। আর ১ রান যোগ হতেই মোহাম্মদ শহীদও (১) সাজঘরে ফেরেন। এ সময়ই দিন শেষ হওয়ার ঘোষণা দেন আম্পায়াররা। যদি ৯০ ওভার পুরোও খেলা হতো, তাহলে আরও ১১ বল বাকি থাকত। কে জানে এই ১১ বলে বাংলাদেশের হাতে থাকা ২টি উইকেট পড়েও যেতে পারত। সেক্ষেত্রে প্রথমদিনেই অলআউট হয়ে যেত বাংলাদেশ।

এখন ১৩ রানে ব্যাট করতে থাকা নাসির হোসেনের সঙ্গে মুস্তাফিজ ও জুবায়ের আছেন। মুমিনুলের আশা, ‘নাসির যদি ভাল ব্যাট করে তাহলে ৩০০ রান করা সম্ভব। তা হলে ভাল স্কোর হবে।’ সঙ্গে একটি শর্ত নিজেই জুড়ে দিলেন, ‘যদি আমরা ভাল জায়গায় বোলিং করতে পারি।’ এ শর্তই এখন বাংলাদেশের মূল পুঁজি হতে পারে। তা না হলে মুমিনুলও বুঝছেন ম্যাচের ফল কোন দিকে মোড় নিচ্ছে!