২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ২ হাজার ৮৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের সংশোধিত ৬৪২ কোটি ৮৭ লাখ টাকার বাজেটও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ঘোষিত এ বাজেট গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় তিন গুণ বেশি। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরভবনের সভাকক্ষে সংস্থার ডিএসসিসির প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোঃ সাঈদ খোকন এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই বাজেট ঘোষণা করেন। মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই তার প্রথম বাজেট। এর আগে মেয়র কাউন্সিলরদের সঙ্গে বোর্ড সভা করেন। বৈঠকে সর্ব সম্মতিক্রমে চলতি অর্থবছরের এ বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়। গত অর্থবছরের বাজেট ছিল ১ হাজার ৫৬৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকারী-বেসরকারী ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট অংশীদারিত্ব (পিপিপি) বিভিন্ন প্রকল্প খাত থেকে প্রস্তাবিত আয় ধরা হয়েছিল ৭৬৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা যা সংশোধিত বাজেটে করা হয় মাত্র ৫৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

প্রস্তাবিত এ বাজেটে নিজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৩২ কোটি ৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারী অনুদান (থোক) থেকে ২৭ কোটি টাকা, সরকারী বিশেষ অনুদান ৩০০ কোটি, সরকারী ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প এবং সরকারী ও বেসরকারী অংশীদারিত্ব (পিপিপি) ভিত্তিক প্রকল্প এক হাজার ৬০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ও অন্যান্য আয়ের খাত থেকে ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ২২ লাখ টাকা।

বাজেট ঘোষণাকালে মেয়র বলেন, নিজস্ব উৎস থেকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৩২ কোটি ৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে ভ্যাটস এ্যান্ড ট্যাক্স বাবদ বকেয়াসহ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮৫ কোটি এবং সালামি ও ভাড়া বাবদ ১৩০ কোটি টাকা। এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স ফি বাবদ ৬০ কোটি, বিজ্ঞাপন কর বাবদ ৬ কোটি, বাস ট্রাক টার্মিনাল থেকে ৫ কোটি, পশুরহাট ইজারা বাবদ ৫ কোটি, রাস্তা খনন ফি বাবদ ২৫ কোটি, যন্ত্রপাতি ভাড়া বাবদ ৫ কোটি ৫০ লাখ, সম্পত্তি হস্তান্তর কর খাতে ৭৫ কোটি, শিশুপার্ক থেকে ৪ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে সরকারী ও সরকারী বিশেষ অনুদান বাবদ ৩২৭ কোটি টাকা সাহায্য হিসেবে পাওয়ার আশা করেন মেয়র।

বাজেট বক্তৃতায় মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ডিএসসিসির রাজস্ব ব্যয়ের খাতগুলোর মধ্যে বেতন-ভাতা বাবদ ১৮০ কোটি, সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়ন খাতে ১৮১ কোটি ৫০ লাখ, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ/উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ৯৭ কোটি ৯০ লাখ, বিদ্যুত, জ্বালানি, পানি ও গ্যাস বাবদ ৬৮ কোটি, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ২৮ কোটি, মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাবদ ১২ কোটি ৫০ লাখ, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সরবরাহ বাবদ ২৫ কোটি, বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প খাতে ২৮ কোটি, অপ্রত্যাশিত উন্নয়ন খাতে ব্যয়ের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কবরস্থান/ শ্মশানঘাট সংস্কার ও উন্নয়ন খাতে ৬ কোটি ২৫ লাখ, বিজ্ঞাপন প্রচার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক খাতে ৭ কোটি ৫০ লাখ, নাগরিক বিনোদনমূলক সুবিধাদি উন্নয়ন খাতে ১৬ কোটি ৩৫ লাখ, পরিবেশ উন্নয়ন খাতে ৫৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, পরিকল্পনামন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, তোমাদের যেসব রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য যে সমস্যা রয়েছে সেগুলো প্রকল্প আকারে পাঠাও, আমরা তা যাচাই-বাছাই করে যৌক্তিকভাবে অনুমোদন করবো। সেই কারণেই এ বাজেট প্রকল্প নির্ভর। তবে যদি যৌক্তিকভাবে রাজস্ব আয় বাড়ানো যায় তাহলে প্রকল্প নির্ভরতা কমে আসবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সিটি কর্পোরেশনের জন্য প্রকল্প নির্ভরতা ও সরকারী অনুদানের কোন বিকল্প নেই। এটাকে কেন্দ্র করে নাগরিকদের চাহিদা পূরণে সমন্বয় করতে প্রস্তাবিত এ বাজেটকে প্রকল্প নির্ভর করা হয়েছে বলে তিনি জানান। মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব। ইতোমধ্যে নগরীতে বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনছার আলী খান, সচিব খান মোঃ রেজাউল করিম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা উপসচিব মোস্তফা কামাল, প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহাবুব হোসেন, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন রকিব উদ্দিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব এবং ডিএসসিসির বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান, সকল আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।