২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবার নিজেদের দায়িত্বের বাইরেও জনগণের জন্য কাজ করবেন ডিসিরা

  • তিন দিনের সম্মেলন শেষ ॥ ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের নির্দেশনা জনপ্রশাসনমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এবার ‘বৃত্তের বাইরে’ গিয়েও কাজ করবেন জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি)। তিনদিনের সম্মেলন শেষে এমন অঙ্গীকার নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন তারা। ২৮ থেকে ৩০ জুলাই তিনদিনব্যাপী ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৫’ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা।

সাংবাদিকদের একটি কাগজ দেখান তিনি। সেখানে দুটি বৃত্ত আঁকা রয়েছে। ছোট বৃত্তটি ডিসিদের কাজের পরিধি বোঝাচ্ছে। আর দ্বিতীয় ও বড় বৃত্তটি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত পরিধি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরকারী কর্মকর্তাদের বলেছেন, নিজেদের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে সচিব ডিসি সম্মেলনের মূল বিষয়বস্তুগুলো তুলে ধরেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ বলেন, জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের নির্দেশনা দিয়েছেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রী কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন। কতটুকু ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ হবে, সেটি সম্পর্কে বলেছেন। বিকেন্দ্রীকরণ কার্যক্রম সময়সাপেক্ষ। যেমন- অস্ত্র চালানো জানে কিনা, সেটি না জেনে কারো হাতে অস্ত্র যেমন তুলে দেয়া যায় না, ক্ষমতার ক্ষেত্রেও তাই। তিনি বলেন, এর সঙ্গে অনেক কিছুই জড়িত। এক্ষেত্রে ভাল দিক-নির্দেশনা পেয়েছি আমরা মন্ত্রীর কাছ থেকে। একটি হলো-রাজনৈতিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। আর স্থানীয় কার্যালয়গুলো থেকে হবে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ।

এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, আগত জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) কোন উদ্বেগের কথা জানাননি। একান্ত আলোচনায়ও হয়েছে তাদের সঙ্গে। কিন্তু তারা ব্যক্তিগত পর্যায়ের কোন ইস্যুও উত্থাপন করেননি। এতে বলা যায়- প্রশাসনে সুন্দর ব্যবস্থাপনা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে।

সচিব বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৫-এ মোট ২২টি কার্য-অধিবেশন ছিল। এছাড়া চারটি আলাদা অধিবেশনও হয়। ছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনা ও রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতও। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় এসেছে ৩১টি প্রস্তাব। তিনি বলেন, সম্মেলনের আগে জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছিলাম ২৫৩টি। এ তিনদিনে আরও ২৮১টি যোগ হয়েছে। মোট ৫৩৪টি প্রস্তাব নিয়ে বসব আমরা। তখন হয়ত কিছু প্রস্তাব ওভারলেপিং পাওয়া যাবে। তখন কমে আসবে। আরও কিছু হয়ত পাওয়া যাবে, যা বাস্তবায়নযোগ্য নয়। সেগুলো আবার বাদ যাবে। তবে তেমন প্রস্তাব নিশ্চয়ই কমই থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ ভূইঞা বলেন, আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি প্রস্তাবে বেশ জোর দিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সে সব অনুসরণ করবেন। এলাকাভেদে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য থাকে। সেসব মাথায় রেখে কাজ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিটি জেলা থেকে অন্তত একটি পণ্য রফতানির উদ্যোগ, সবার জন্য ঘর, যাতে কেউ গৃহহীন না থাকেন; তেমনি কেউ যেন নিরক্ষর না থাকেন, সে লক্ষ্যে সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ করতে হবে। এছাড়া নৌপথের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোগ নেয়া, জলাধার সংরক্ষণ- প্রভৃতি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

সচিব বলেন, আমরা চেয়েছি, অধিবেশনগুলো যেন অংশগ্রহণমূলক হয়। সবাই প্রশ্ন করবেন, সবাই জবাব দেবেন। তাই, সময় বেশি লেগেছে। বাস্তবায়ন হবে কিছু মন্ত্রণালয় পর্যায়ে, কিছু সংগঠন ও কিছু স্থানীয় পর্যায়ে হবে। সামগ্রিকভাবে যে বাস্তবায়ন, সেগুলো কেবিনেট থেকে মনিটরিং হবে নিয়মিত। সর্বাধিক প্রস্তাব শিক্ষা বিষয়ে মোশাররাফ বলেন, সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব এসেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। সেটাই স্বাভাবিক, কারণ শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবচেয়ে বেশি রয়েছে।

আইন ॥ মামলাজট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতি সম্পর্কে জনগণকে উৎসাহিত করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এছাড়া লিগ্যাল এইডের বিষয়ে জানাতেও নির্দেশনা দেন তিনি। অন্যদিকে মোবাইল কোর্ট আইনে সাজা দেয়ার পর কোন আসামি যাতে ছাড়া না পান সে বিষয়ে এ্যাসিস্টেন্ট পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করার কথাও জানান মন্ত্রী।

তথ্য ॥ ‘যুগ পাল্টেছে, গণমাধ্যম চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পরে যারা প্রশাসনে আছেন তাদের গণমাধ্যমের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হবে। অতীতে যেমন নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত হতো, এখন গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পরে প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসকদের গণমাধ্যমের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হবে।’ পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের জন্য বঙ্গবন্ধুর পদচারণার স্মারক ও স্বাধীনতা সংগ্রামের চিহ্ন সংগ্রহের জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছে তথ্যমন্ত্রী।

চলতি জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এসব কথা বলেছেন। বৃহস্পতিবার সকালের অধিবেশনে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

নৌ-পরিবহন ॥ ড্রেজার সঙ্কটকেই নদী খনন কাজে প্রধান প্রতিবন্ধকতা উল্লেখ করে নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান এ কাজে আরও ২০টি ড্রেজার আনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ২৪টি নদী খননের কথা রয়েছে। কিন্তু ড্রেজার স্বল্পতায় কাজ এগোচ্ছে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময় আনা ৭টি ড্রেজার দিয়ে এতোদিন কাজ চালানো হয়েছে। আমাদের আগের মেয়াদে ১১টি আনার কথা হয়েছিল এবং এবার মোট ২০টি ড্রেজার আনার প্রক্রিয়া চলছে। সেগুলো পেলে নদীগুলো খনন দ্রুত হবে। সচিবালয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৫- এর তৃতীয় দিনে বৃহস্পতিবার নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কার্য-অধিবেশন শেষে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

নির্বাচিত সংবাদ