২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাঘ সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে খুলনাঞ্চলের মানুষ উদাসীন

  • সুন্দরবনকেন্দ্রিক মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাঘ সংরক্ষণে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন ও তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। বিশ্ব বাঘ দিবসের এক আলোচনাসভায় তারা বলেছেন, সুন্দরবনের সঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এসব মানুষ বাঘ সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে উদাসীন। কেবল অর্থ সাহায্য দিয়ে এসব মানুষকে বনের জন্য হুমকিস্বরূপ কর্মকা- থেকে নিবৃত্ত করা যাবে না। স্থায়ী বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি লবণাক্ততা ও দূষণরোধে বনসংলগ্ন এলাকায় জাহাজ ও নৌ চলাচল বন্ধ করাও জরুরী।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বিশ্ব বাঘ দিবস ও মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর সমাপনী অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন। ২৯ জুলাই ছিল বিশ্ব বাঘ দিবস। দিবসটি উপলক্ষেই বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগিতায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণাঞ্চলের মাটি নতুন। ওখানে বাঘ মাইগ্র্যান্ট (অভিবাসী) প্রাণী হিসেবে এসেছে। খুলনা এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে বাঘ সংরক্ষণের ব্যাপারে কোন উপলব্ধি এখনও তৈরি হয়নি। তাই বাঘ সংরক্ষণে সবার আগে প্রয়োজন তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জ্বালানির বিকল্প হিসেবে কাঠ ছাড়া কিছুই নেই। তাই তারা স্বেচ্ছায় সুন্দরবন ধ্বংস করছেন বা গাছ কাটেন বিষয়টি এমন নয়। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে সুন্দরবন রক্ষা সহজ হবে। বাঘ বিষয়ক সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরিসংখ্যানের তথ্যকে মিথ্যা দাবি করে মন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনে দিনে দু’বার জোয়ার ভাটা হয়। তাই কেবল পায়ের ছাপ দেখে আর ক্যামেরার মাধ্যমে বাঘের সংখ্যা নির্ধারণ সম্ভব নয়। এ সময় সাম্প্রতিক জরিপে বাঘের সংখ্যা কমে ১০৬ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি কৌতুক করে বলেন, কে বলল বাঘ কমে গেছে? বাঘ পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনে বেড়াতে গেছে। আবার চলে আসবে। পৃথিবীর যত বাঘ জঙ্গলে আছে তার চেয়ে বেশি খাঁচায় বন্দী আছে ও কোনদিন বাঘ বিলুপ্ত হবে না বলেও দাবি করেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা ফিরোজ সুন্দরবনের বাঘ বিষয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রবন্ধে তিনি বলেন, সুন্দরবনে বাঘের প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয় করা কঠিন। ১৯৬৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সুন্দরবনে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে বাঘের সংখ্যা ছিল ৫০ থেকে ৪৫০-এর মধ্যে। তবে নানান সীমাবদ্ধতায় এসব জরিপের কোনটিই গ্রহণযোগ্য হয়নি। কারণ এসব জরিপের অধিকাংশই করা হয়েছে সুন্দরবনের মাত্র ১০ শতাংশ এলাকায়। সর্বশেষ ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপটি করা হয়েছে বনের ৪০ শতাংশ এলাকায়। তবে সুন্দরবনে বাঘের অস্তিত্ব বর্তমানে সংকটাপন্ন এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। চারশ’র বেশি বাঘের খাবার যোগান দেয়ার সামর্থ্যও সুন্দরবনের নেই। তাই বিদ্যমান বাঘগুলোর প্রজনন ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সংরক্ষণের পরিকল্পনা করতে হবে।

প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুছ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, বিশ্ব ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি হেড ক্রিস্টিন ই কাইমস, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার রাকিবুর রহমান ও প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আকবর হোসেন। বন সংরক্ষক ড. তপন কুমার দে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এর আগে সকাল সাড়ে দশটায় রাজধানীর বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী বাঘের প্রতিকৃতি হাতে বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করে।