১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজনের বাড়িতে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে পাকা ঘর হচ্ছে

  • তিন পুলিশকে শোকজ

সালাম মশরুর, সিলেট অফিস ॥ সিলেটে নির্মম নির্যাতনের শিকার শিশু সামিউল আলম রাজনের মৃত্যু মানুষের বিবেককে জাগ্রত করেছে। একের বেদনা অপরকে ব্যথিত করে। মানুষ প্রতিবাদী হতে সময় লাগেনা সেটাই প্রমাণ করেছে রাজনের মৃত্যু। এক সঙ্গে বিশ্ব বিবেক প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে। এগিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে রাজনের পরিবারের পাশে। সিলেট শহরের কুমারগাঁও বাদেয়ালী গ্রামের শিশু রাজন। রাজনের পরিবারে এখনও আছে শোক, সেই সঙ্গে আছে ভালবাসা। রাজনের পরিবার এখন আর একা নয়। সঙ্গে আছে কোটি জনতার সাহসী সেøাগান। রাজন হত্যার বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসছেন বাদেয়ালী গ্রামে। হয়ত বেড়াতে এসেছেন কেউ সিলেটে। একবার ঘুরে দেখার তাগিদ যেন মন থেকেই উঠছে। সবাই সমবেদনা জানাচ্ছেন রাজনের পরিবারের সদস্যদের। যে শিশুটিকে দরিদ্র ও প্রতিবাদীহীন ভেবে ঘাতক ময়না চোর সাব্যস্ত করে নির্যাতন চালিয়েছিল, অন্যান্য ঘাতক টাকা আর দাপট দেখিয়ে শিশু রাজনের মৃত্যুকে ধামাচাপা দেবার মতো মানসিকতা পোষণ করেছিল, তারা আজ রাজনের কাছে হেরে গেছে। সাহায্যের হাত এগিয়ে আসছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জজ কোর্টের পিপি এ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেছেন, সিলেটের সকল আইনজীবী রাজনের পরিবারের পাশে থাকবে। রাজন হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে। বুধবার রাজনের মা-বাবার যৌথ এ্যাকাউন্টে এক লাখ টাকা অনুদানের চেক প্রদানকালে এ কথাগুলো বলেন।

শিশু সামিউল আলম রাজনের বাড়িতে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন পাকা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সেই ঘরের নির্মাণ কাজের উদ্বোধনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে ঘর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী মদিনাতুল খাইরী আল ইসলামী ইউকে’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মাওলানা ফয়েজ আহমদ। মদিনাতুল খাইরী আল ইসলামী ইউকে’র অর্থায়নেই রাজনদের নতুন পাকা ঘর নির্মিত হচ্ছে। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মাওলানা ফয়েজ আহমদ জানান, শুধু ঘর নির্মাণই নয়, অন্য সব ক্ষেত্রেও তিনি রাজনের পরিবারের পাশে থাকবেন।

তিন পুলিশকে কারণ দর্শানোর নোটিস ॥ সিলেটে নির্মম নির্যাতনে শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যাকা-ের ঘটনায় জালালাবাদ থানার সাময়িক বরখাস্তকৃত ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন এবং দুই এসআই আমিনুল ইসলাম ও জাকির হোসেনকে এবার কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। সাতদিনের মধ্যে তাদের সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে হবে।