১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিহত নজরুলের স্বজনদের নামে আওয়ামী লীগ নেতার দুই মামলা

  • নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ৩০ জুলাই ॥ নারায়ণগঞ্জে ৭ হত্যাকা-ে নিহত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের শ্বশুর, ভাই, শ্যালক, ভাগিনাকে আসামি করে আদালতে পৃথক দুটি নালিশী মামলা দায়ের করেছেন সাত খুন মামলার চার্জশীট থেকে অব্যাহতি পাওয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া।

গত ২৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে (‘ক’ অঞ্চল) পৃথক দুটি মামলা (সিআর মামলা নং-৬৮ ও ৬৯/২০১৫) দায়ের করেন ইয়াছিন মিয়া। তবে গণমাধ্যম কর্মীরা মামলা দায়েরের খবর জানতে পারেন ৩০ জুলাই সন্ধ্যায়। দুটি মামলায়ই বাদী ইয়াছিন মিয়া নিজেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উল্লেখ করেছেন। একটি মামলায় (সিআর মামলা নং-৬৯/২০১৫) বাদী ইয়াছিন মিয়া অভিযোগ করেছেন, ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল বিকেল ৫টায় আসামিরা বাদীর অংশীদারিত্বে পরিচালিত মেসার্স শামস ফিলিং স্টেশনে গিয়ে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আসামিরা ফিলিং স্টেশনের ক্যাশ বাক্স ও লোহার সিন্দুক ভেঙ্গে নগদ ২০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং ৫ লরি অকটেন, পেট্রোল, ডিজেলে আগুন ধরিয়ে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বিনষ্ট করে যার আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকা। এই মামলায় ইয়াছিন মিয়া আসামি করেছেন নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম, ভাই আবদুস সালাম, দুই শ্যালক সাইদুল ও মামুন, ভাগ্নে রনি ও শহীদুল ইসলামের স্বজন রফিকুল ইসলাম মিন্টুকে।

অপর মামলায় (সিআর মামলা নং-৬৮/২০১৫) বাদী ইয়াছিন মিয়া অভিযোগ করেছেন, ২০১৪ সালের ১ মে রাত ৮টায় আসামিরা বাদীর মিজমিজি পশ্চিমপাড়ার বাসায় হামলা চালিয়ে ১৫ লাখ টাকায় স্বর্ণালঙ্কার, নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়, দরজা-জানালা আসবাবপত্র ভাংচুর করে দুটি কক্ষে অগ্নিসংযোগ করে। এই মামলায় আসামি করা হয়েছে নিহত নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম, ছোট ভাই আবদুস সালাম, দুই শ্যালক মামুন ও সাইদুল, ভাগিনা রনি, নিহত নজরুলের সমর্থক কবির হোসেন, বাবুল মিয়া, মোঃ আলী, রফিকুল ইসলাম মিন্টুকে। মামলায় বাদী পক্ষের আইনজীবী মহসিন আলী সাংবাদিকদের জানান, আদালত নালিশী মামলা দুটি গ্রহণ করে অভিযোগ তদন্ত করে আসামি ৩০ আগস্টের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে দায়েরকৃত নালিশী মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াছিন মিয়া উলেখ করেছেন গত ৮ জুলাই তিনি ৭ খুনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়ে এলাকায় ফিরেছেন।

ইয়াছিন মিয়ার নালিশী মামলা দায়ের সম্পর্কে নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, ইয়াছিনের সহযোগতিা পেয়েই নূর হোসেন ৭ জনকে অপহরণ, খুন ও লাশ গুমের দুঃসাহস দেখিয়েছে। ৭ জনকে অপহরণ, খুনের পর নূর হোসেন, ইয়াছিনের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ নানা অপকর্মের শিকার বিক্ষ্ব্ধু এলাকাবাসী তাদের যাত্রা প্যান্ডেল, জুয়া-মাদকের আস্তানায় হামলা চালিয়েছে, যা বিভিন্ন গণমাধ্যম সরাসরি সম্প্রচার করেছে। সম্প্রতি ইয়াছিন এলাকায় ফিরে এসে আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ সেদিন ইয়াছিন, নুর হোসেনদের অপকর্মের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামলেও এক বছর পরে আসামি করা হয়েছে শুধু আমাদের পরিবারের সদস্যদের। মিথ্যা অভিযোগে হয়রানিমূলক মামলা করে ইয়াছিন আবারও প্রমাণ করলেন নূর হোসেনের সঙ্গে তিনিও ৭ খুনে জড়িত। আমার দায়েরকৃত মামলায় এজাহারভুক্ত কোন আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করেনি। অভিযোগপত্রে নূর হোসেন ছাড়া অন্য ৫ আসামিকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। পুলিশের অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি পাওয়া আমিনুল ইসলা রাজু, ইকবাল হোসেনও এলাকায় ফিরে এসে আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।