২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নতুন মাইলফলক স্টেইনের

নতুন মাইলফলক স্টেইনের
  • টেস্ট ইতিহাসে পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে ৪ উইকেট শিকার

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বরাবরই তেমন সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ দল। আর সেটা যদি টেস্ট ক্রিকেটের মোকাবেলা হয়, সেক্ষেত্রে তো কোন কথাই নেই- বিপর্যস্ত বাংলাদেশের করুণ চেহারাটাই ফুটে উঠেছে বার বার। আর সে জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধ্বংসের নাম ছিলেন ডেল স্টেইন। এবারও বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের জন্য অন্যতম শত্রু এবং হন্তারক হিসেবে ধরা হয়েছিল স্টেইন ‘গান’ খ্যাত বর্তমান বিশ্বের এক নম্বর এ টেস্ট বোলারকেই। মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে কার্যত তাই ঘটালেন তিনি। দিন শেষে বাংলাদেশের মূল্যবান তিন উইকেট নিয়েছেন মাত্র ৩০ রান দিয়ে। তবে পুরনো সেই বারুদটা দেখা যায়নি আগের মতো স্ফুলিঙ্গ চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে। পুরো একটা দিন বোলিং করে থেকে ছিলেন উইকেটশূন্য। স্টেইন ভীতিটা কাটিয়ে উঠেছিল বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা। তবে শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেট নিয়ে স্বরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিংয়ের সুযোগ না পাওয়াতে আর রেকর্ড গড়ে নতুন মাইলফলক ছোঁয়া হয়নি ভয়ঙ্কর এ গতিধর পেসারের। দুর্ভাগ্যই বলতে হবে। তবে মিরপুরে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনেই ৪০০ উইকেট শিকারি হয়ে গেছেন তিনি টেস্ট ইতিহাসের ১৩তম বোলার হিসেবে। যে একটি উইকেটের প্রয়োজন ছিল, তামিম ইকবালকে আউট করে বাংলাদেশ ইনিংসে প্রথম আঘাত হেনে তা পূর্ণ করেন। পেসারদের মধ্যে দ্রুততম বোলার হিসেবে তিনি ৮০ টেস্টেই এ মাইলফলক ছুঁলেন। টেস্টে ৪০০ উইকেট শিকারি হিসেবে শন পোলকের পর দ্বিতীয় দক্ষিণ আফ্রিকান বোলার তিনি। আর সবমিলিয়ে ১৬ হাজার ৬৩৪ বল ছুড়েই এ মাইলফলক ছুঁয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন স্টেইন। এর আগে এত কম বলে কেউ এ মাইলফলক স্পর্শ করেননি।

চট্টগ্রামের উইকেট ছিল অনেক ধীর এবং পেসারদের জন্য তেমন সুবিধার ছিল না। সেখানেও শেষ পর্যন্ত ঝড় তুলেছিলেন স্টেইন। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে নামার আগে আর ৪ উইকেট প্রয়োজন ছিল তার ৪০০ উইকেট শিকারি ক্লাবের গর্বিত সদস্য হওয়ার জন্য। কিন্তু সেটা হয়নি। তিন উইকেট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। দুর্ভাগ্যই বলতে হবে স্টেইনের, আর এক উইকেটের জন্য তাকে আরেকটি টেস্ট খেলতে হয়েছে। কারণ টানা দু’দিন বৃষ্টি হওয়ার কারণে আর খেলা হয়নি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং করারই সুযোগ পাননি। সেটা ছিল স্টেইনের ৭৯তম টেস্ট। আরেকটি উইকেট নিতে পারলেই ইতিহাসে পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে ৪০০ উইকেট শিকারি ক্লাবের সদস্য হয়ে যেতেন। অপেক্ষায় ছিলেন মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্টে নেমে নতুন কীর্তি গড়ার। আগে থেকেই বলা হচ্ছিল মিরপুরে কিছুটা বাউন্স ও সুবিধা পাবেন পেসাররা। উইকেট কাজে লাগিয়ে দারুণভাবে শুরু করেছিলেন স্টেইন। সফলতাও পেলেন বেশ দ্রুতই। ইনিংসে পঞ্চম আর নিজের তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলেই বাংলাদেশী ওপেনার তামিমকে শিকার করলেন। আর হয়ে গেলেন ৪০০ উইকেট শিকারি ক্লাবের ১৩তম সদস্য।

দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে পোলকের পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে ৪০০ উইকেটের মালিক হয়ে যান। পোলক ১০৮ টেস্ট খেলে ৪২১ উইকেট শিকার করেছিলেন। সবমিলিয়ে টেস্ট ইতিহাসে এর আগে ৮ পেসার ৪০০ উইকেট শিকারের গৌরব দেখিয়েছিলেন। নবম পেসার হিসেবে একই গৌরব দেখালেন স্টেইন। তবে অন্য যে কোন পেসারের চেয়ে সবচেয়ে কম ৮০ ম্যাচ খেলে তিনি এ কীর্তি গড়লেন। যদিও এর আগে নিউজিল্যান্ডের সাবেক ফাস্ট বোলার স্যার রিচার্ড হ্যাডলিও ৮০ ম্যাচ খেলে ৪০০ উইকেট শিকারি ক্লাবের সদস্য হয়েছিলেন। ১৯৯০ সালে ভারতের বিপক্ষে ক্রাইস্টচার্চে এই মাইলফলক ছুঁয়ে ছিলেন খেলোয়াড় থাকা অবস্থায়ই ‘নাইটহুড’ পাওয়া একমাত্র ক্রিকেটার হ্যাডলি। টেস্ট ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে ৪০০ উইকেট স্বাদ পেয়েছিলেন এই হ্যাডলিই, খুলে ছিলেন নতুন মাইলফলকের ক্লাব। তবে সার্বিকভাবে সবচেয়ে দ্রুত এ মাইলফলক ছুঁয়ে ছিলেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অফস্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরন। তিনি ৭২ টেস্টেই এ কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন। এই কীর্তি গড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম সময় লেগেছিল সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রার। তিনি ৮ বছর ৩৪১ দিন ক্রিকেট খেলেই এ মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন। স্টেইনের লেগেছে ১০ বছর ২২৫ দিন। তবে এক হিসেবে এদের সবাইকেই পেছনে ফেলেছেন স্টেইন। সবচেয়ে কম বল ছুড়তে হয়েছে তাকে ৪০০ উইকেট পেতে। অসাধারণ এই মাইলফালক ছুঁতে স্টেইনের লেগেছে ১৬ হাজার ৬৩৪ বল। পরে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মোঃ শহীদের উইকেটও পেয়েছেন স্টেইন।