১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাকিদের প্রতিদানের সিরিজ!

  • পরিবর্তিত সূচীতে জিম্বাবুইয়ে সফর করবে পাকিস্তান

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অবশেষে বিতর্কিত ত্রিদেশীয় সিরিজ বাতিল করে ‘সাপও মরল, লাঠিও ভাঙল না’ নীতিতে জিম্বাবুইয়ে সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। পূর্ব নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী ১৭ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর এই সিরিজ হওয়ার কথা ছিল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশগ্রহণের সুযোগ যাতে হাত ছাড়া না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে এখন এক মাস পিছিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর তিন টি২০ ও সমসংখ্যক ওয়ানডে খেলতে জিম্বাবুইয়ে যাবে পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কা সফরে ৩-২এ ওয়ানডে সিরিজ জয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে ‘আট’ নম্বর স্থানে উঠে আসার পাশাপাশি ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা নিশ্চিত করে আজহার আলির দল। আইসিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ এর মধ্যে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল ওই টুর্নামেন্টে খেলবে। পাকিস্তান তাই সফর শুরু করবে টি২০ দিয়ে, যাতে ওয়ানডেতে কোনরকম প্রভাব না পড়ে!

জিম্বাবুইয়ে ক্রিকেট বোর্ডের (জেডসি) সঙ্গে আলোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত ঠিক করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ‘পরিবর্তিত সূচী অনুযায়ী জিম্বাবুইয়ে সফরে পাকিস্তান তিনটি করে টি২০ ও ওয়ানডে খেলবে। সেপ্টেম্বররের শেষ সপ্তাহে শুরু হওয়া সিরিজে ওয়ানডের আগেই হবে টি২০।’ সংবাদ মাধ্যমকে জানান পিসিবির এক মুখপাত্র। বিষয়টি শিকার করেছে জিম্বাবুইয়েও। জেডসির চেয়ারম্যান উইলসন মানাসে বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভাল। পুনর্নির্ধারিত সিরিজ নিয়ে পিসিবি প্রধান শাহরিয়ার খানের সঙ্গে কথা হয়েছে। দুই বোর্ডের সিদ্ধান্তে নতুন সূচী অনুযায়ী তারা আমাদের এখানে খেলতে আসছে।’ প্রস্তাবিত ত্রিদেশীয় সিরিজ না হওয়া নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মানাস।

আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের ‘আট’ নম্বরে থাকা পাকিস্তানের রেটিং পয়েন্ট ৯০, নয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৮৮। ব্যবধান মাত্র ২। এই পরিস্থিতিতে আগেই জিম্বাবুইয়ের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে ‘ষড়যন্ত্রের’ ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজটি বাতিল করে পাকিস্তান। এরপর শোনা গিয়েছিল দ্বিপক্ষীয় সফর করবে না তারা। এবার নতুন ফন্দি আবিষ্কার করে জাত-কুল দুই রাখতে যাচ্ছে পিসিবি! সফর করবে ঠিকই, তবে ওয়ানডে খেলবে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা নিশ্চিত হওয়ায় আর ঝুঁকির মধ্যে যেতে চায় না পাকিরা। ষড়যন্ত্রের ত্রিদেশীয়সহ জিম্বাবুইয়ে সফর বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা প্রায় নিয়ে ফেলেছিল। দু’দিন আগে পিসিবির এক কর্তা পরিষ্কার সেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সন্ত্রাসী হামলার সূত্র ধরে দীর্ঘদিন পাকিস্তানের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধ ছিল। কোন বিদেশী দল সেখানে আসেনি। ঠিক তখনই গত মে মাসে ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তান সফর করে জিম্বাবুইয়ে। পিসিবির কর্তা থেকে শুরু করে সাবেক ক্রিকেটার, এমন কি দেশটির সরকার প্রধানও অতিথিদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারই প্রতিদান দিতে শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুইয়ে সফর করতে যাচ্ছে পাকিস্তান। তবে সেটি নিজেদের স্বার্থ ঠিক রেখে। কুটকৌশলের জন্য পুরষ্কার থাকলে তাতে নিশ্চিত নোবেল পেত পাকিস্তান! কারণ প্রথমে ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনে তাদের চেষ্টাটাই ছিল ‘গাদ্দারির’ অংশ। বাংলাদেশ সফরে টাইগারদের কাছে লজ্জাজনকভাবে হেরে তিন ধাপ পিছিয়ে ‘নয়ে’ নেমে গিয়েছিল পাকিরা। তখনই বাংলাদেশকে ছিটকে দিতে ভেতরে ভেতরে ওই ষড়যন্ত্রের ত্রিদেশীয় আয়োজন করতে তৎপর হয়ে উঠেছিল তারা!

এরপর দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ‘সাত’ নম্বরে (৯৬ পয়েন্ট) উঠে যখন নিরাপদ দূরত্বে বাংলাদেশ, অপ্রত্যাশিতভাবে শ্রীলঙ্কা জয়ে নিজেরা পেয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির টিকেট, তখন অনৈতিকভাবে নতুন করে জিম্বাবুইয়ে-উইন্ডিজকে নিয়ে ছেলেখেলা করল পাকিরা।