১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল

চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল
  • মোহামেডানের বিরুদ্ধে নাটকীয় জয়ে শিরোপা অক্ষুণœ, শেখ জামাল ৩-২ মোহামেডান

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ঠিক গত মৌসুমের মতো এবার নিজেদের দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই মান্যবর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লীগের শিরোপা অক্ষুণœ রেখেছে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব লিমিটেড। তবে সেটা অনেক ঘাম ঝরিয়ে, নাটকীয়ভাবে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গত লীগের শিরোপাধারী শেখ জামাল ধানম-ি ৩-২ গোলে হারায় ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডকে। খেলার প্রথমার্ধে ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল মোহামেডানই! এ নিয়ে পেশাদার লীগের অষ্টম আসরে জামাল শিরোপা জিতল তিন বার। এর আগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০১০-১১ এবং ২০১৩-১৪ মৌসুমে। খেলা শেষে শিরোপাজয়ী জামালের অধিনায়ক মামুনুল ইসলামের হাতে ট্রফি তুলে দেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী মোঃ সালাউদ্দিন। এছাড়া পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ, শেখ জামালের সভাপতি মনজুর কাদের, শেখ জামাল ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নুসহ অনেকে। ট্রফি পেয়ে জামালের কোচ জোসেফ আফুসিকে নিয়ে দলের ফুটবলার, কর্মকর্তা, সমর্থকরা মেতে উঠেন বাধভাঙ্গা উল্লাসে।

নিজেদের অষ্টাদশ ম্যাচে এটা জামালের চতুর্দশ জয়। পয়েন্ট ৪৫। মোহামেডানের ১৮ ম্যাচে এটা তাদের চতুর্থ হার। ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে আগের দ্বিতীয় স্থানেই তারা। এখন পরের দলগুলো বাকি সব ম্যাচ জিতলেও ছুঁতে পারবে না জামালকে। বরং পরের দুটি ম্যাচ জিতলে নিজেদের আরও উপরে নিয়ে যাবে মামুনুল শিবির। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ম্যাচে ছিল বাড়তি উত্তেজনা। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মাঝে ছিল দুই দলের শক্তির প্রদর্শনের মহড়াও। দুই মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত শেখ জামাল। তবে এমেকা ডার্লিংটনের শট চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে। ছয় মিনিটে ভাগ্যের ছোঁয়া না থাকায় গোল পায়নি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। বক্সের সামান্য বাইরে থেকে ফ্রি কিক নিয়েছিলেন হাবিবুর রহমান সোহাগ। তবে তা প্রতিহত হয় শেখ জামালের মানবপ্রাচীরে। কিন্তু ভাগ্য ভাল জামালের। পোস্টে লেগে বল ফেরত আসে।

২৪ মিনিটে ব্যর্থ মোহামেডানের মোবারক হোসেন ভুইয়া। তার নেয়া শট চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে। তবে এর মিনিট পাঁচেক পরই বক্সের বাইরে থেকে নয়নকাড়া ফ্রি কিক নিয়েছিলেন মোহামেডানের সোহাগ। এবার বাধা হয়ে দাঁড়ান শেখ জামালের গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিপদমুক্ত করেন তিনি। প্রথম গোলের সূচনাটা করে শেখ জামালই। ৩৩ মিনিটে ডার্লিংটন চমক। অধিনায়ক মামুনুল ইসলামের কর্নার কিকে মাথায় ছুঁইয়ে দলকে লিড এনে দেন নাইজেরিয়ান এই ফরোয়ার্ড (১-০)। ম্যাচে ফিরতে মরিয়া তখন মোহামেডান। সুযোগটা এসেও যায় মিনিট ছয়েক পরই। ইসমাঈল বাঙ্গুরার পাসে দুর্দান্ত ভলিতে গোল করেন তরুণ রাইট উইঙ্গার জুয়েল রানা। ম্যাচে সমতা আসে ১-১ ব্যবধানে।

৪৩ মিনিটে লিড নিতে পারত শেখ জামাল। তবে হয়নি। ডার্লিংটনের পাসে ওয়েডসনের শট চলে যায় পোস্টের ওপর দিয়ে বাতাস লাগিয়ে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে চমক দেখায় মোহামেডান। অধিনায়ক অরুপ কুমার বৈদ্যেও নিখুঁত ক্রসে ঠা-া মাথার হেডে শেখ জামালের জাল কাঁপান ইসমাঈল বাঙ্গুরা। ২-১ এ লিড নেয় সাদাকালো শিবির।

পিছিয়ে পড়া শেখ জামাল দ্বিতীয়ার্ধে ক্ষুধার্ত বাঘের মতো হামলে পড়ে মোহামেডানের রক্ষণভাগে। মুহুর্মহু আক্রমণে কাঁপিয়ে তোলে প্রতিপক্ষর ডিফেন্স। ৫৫ মিনিটে ম্যাচে সমতাও আনে তারা। এমেকার ক্রসে ওয়েডসনের দুর্দান্ত হেড। ২-২ গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় মামুনুল শিবির। সমতা আসার পর শেখ জামাল ছিল আরও আক্রমণাত্মক। ৭৪ মিনিটে বক্সের সীমানা ঘেঁষে ফ্রি কিক পায় শেখ জামাল। তার সদ্ব্যবহার করেন গাম্বিয়ান মিডফিল্ডার ল্যান্ডিং ডারবো। তার নেয়া দুর্দান্ত ফ্রি কিকের গতি প্রকৃতি বুঝতেই পারেননি মোহামেডান গোলরক্ষক আশরাফুল হক রানা। ৩-২ গোলে এগিয়ে যায় শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব।

শেষ পর্যন্ত আর কোন দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে ৩-২ গোলের জয় দিয়ে শিরোপা উৎসবে মাতে গোটা শেখ জামাল শিবির।