২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রান অনেক কম হয়েছে ॥ মুমিনুল

  • ধৈর্যের অভাবেই বাংলাদেশ বিপর্যয়ে পড়েছে ॥ প্রোটিয়া পেসার স্টেইন

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শুরুটা বাজে হলেও মাঝে বেশ ভাল ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ দল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ধৈর্য রাখতে পারেনি বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা। সে কারণেই মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে তেমন ভাল অবস্থান নিয়ে শেষ করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে উইকেটে ব্যাটিং-বোলিং দুটোই ভাল করার জন্য ধৈর্য প্রয়োজন যেটা দক্ষিণ আফ্রিকার দলে বেশি ছিল। কিন্তু ধৈর্যের অভাবেই ধস নেমেছে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। এমনটাই দাবি জানালেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার ডেল স্টেইন। দিনশেষে ৮ উইকেটে ২৪৬ রান নিয়ে শেষ করেছে বাংলাদেশ। এ রানটিকে একেবারেই কম মনে করছেন দলের টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক। তবে তিনি মনে করেন এখনও ৩০০ বা তারচেয়ে বেশি রান করা সম্ভব যেহেতু নাসির হোসেন উইকেটে আছেন। মুমিনুলের দাবি এ উইকেটে প্রথম ইনিংসে ৩৫০ রান করতে পারলে সেটা বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক হতো। বৃহস্পতিবার সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এ দুই ক্রিকেটার।

মিরপুরে প্রথম দিনশেষেই চাপে আছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ২৪৬ রান তুলতেই হারিয়েছে ৮ উইকেট। এ বিষয়ে মুমিনুল বলেন, ‘একটা টেস্টে ৩৫০ কিংবা ৪০০ রানের বেশি হলে ভাল হয়। তখন বোলাররাও ভাল মতো বোলিং করতে পারে। রানটা কম হয়ে গেছে।’ চট্টগ্রাম টেস্টের পর এবারও ব্যাটসম্যানরা উইকেটে থিতু হওয়ার পর টিকতে পারেননি। খেলতে পারেননি কেউ দীর্ঘ ইনিংস। আবার যেন দলের পুরনো সেই বেহাল ব্যাটিং চিত্রই ফুটে উঠছে। কিন্তু দ্বিমত পোষণ করলেন মুমিনুল, ‘শেষ ইনিংসটা দেখলাম আর আজকেরটা দেখলাম। যারা ওপেনিং খেলছে তারা এক শ’ই করে। যেমন তামিম ভাই এক শ’, দুই শ’ করল। যারা করছে ৬০-৭০-৮০ এমনই করছে। আমি মনে হয় এই প্রথম ৪০ এর ঘরে আউট হলাম। মানুষ তো মাঝে মধ্যে ভুল হয়েই যায়।’ তবে নিজের এবং কয়েকজনের আউট হওয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই সময় আমি একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি ওই বলটাতে। এই কারণে হতে পারে। আমার মনে হয় না মনোযোগ সরে যাওয়ার কোন কারণ আছে। আমার স্কোরিং শটস কিন্তু কাট। আমার মনে হয় আমরা ওদের উইকেট দিয়ে এসেছি।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা দারুণ ছন্দে বোলিং করেছেন। তবে নিজেদের দোষটাকেই বড় করে দেখছেন মুমিনুল। তবে সবকিছু দেখে তার মনে হয়েছে আজ এবং পরদিন থেকে স্পিনাররা এ উইকেটে সুবিধা পাবে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উইকেটের চেয়ে ওরা রান করার জন্য বল খুব কম দেয়। সব সময় স্টাম্প টু স্টাম্প বল করে। বিশ্বের সেরা তিন পেস বোলার ওদের। ওদের স্পিন আক্রমণও ভাল আছে। উইকেটে আমার মনে হয় কালকে কিংবা পরশু থেকে স্পিনাররা ভাল সুবিধা পাবে। ওদের বোলারদের মধ্যে শুধু তাদের পেসাররাই ভাল বোলিং করেছে। ডুমিনি হয় তো একটা উইকেট ভাল পেয়েছে। বাকিটা আমাদের ভুল।’ তবে এখনও হাতে যে তিন উইকেট আছে মুুমিনুল আশা করছেন ৩০০ রান করতে পারবে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব যদি ৩০০ করা যায়। আমি মনে করি ৩০০ করা সম্ভব। নাসির যদি ভাল খেলতে পারে ইনশাআল্লাহ।’ সবমিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য অনেক ভাল একটা দিন কেটেছে বলে মনে করেন ৪০০ উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়া পেসার স্টেইন। তিনি বলেন, ‘দেখেন এটা ভাল দিন ছিল আমাদের। আমরা সবসময় জানি যদি তাদের ৬ জনকে তুলে নিতে পারি সেক্ষেত্রে তাদের লোয়ার অর্ডাররা বেশিক্ষণ টিকতে পারবে না। আর সেগুলো আমরা তাড়াতাড়িই নিতে পেরেছি এবং এখনও গুটিয়ে যায়নি কিন্তু সেটা করাই প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল। আর পুরোদিনে তাদের খেলায় নিয়ন্ত্রণ নিতে দেইনি। এটা ব্যাটিং-বোলিংয়ের জন্য কিছুটা কঠিন কন্ডিশন। কারণ বল কিছুটা নরম হয়ে যায় এবং ইকোনমি রেট কখনও ২.৮ ছাড়িয়ে যায় না। সে জন্য আমরাও চেয়েছি যাতে সেটা ২.৫ এর মতো থাকে।’ আর এ উইকেটে ধৈর্য না রাখলে ভাল করা কঠিন বলেই মনে করেন স্টেইন। তবে প্রোটিয়া বোলাররা সবসময়ই বিশ্বাস করেছেন যে দ্রুত কিছু উইকেট নিতে পারবেন তারা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময়ই অনুভব করেছি যে আমরা নতুন বলে উইকেট নিতে পারব। তামিম এমন একজন আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান যাকে আপনি গা ছাড়া ভাব নিয়ে বোলিং করলে তিনিও দাপটের সঙ্গেই ব্যাট চালাবেন। কিছুটা বাউন্স ছিল এবং আমি দু’বার সেটা ভালভাবে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছি।’ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ধৈর্যের অভাবে ভাল করতে পারেনি। কিন্তু প্রোটিয়া বোলাররা ভাল করেছে ধৈর্য থাকার কারণে। এমন দাবি করে স্টেইন বলেন, ‘আপনার অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে কে বেশি ধৈর্যশীল। সকালে তামিম তেমন ধৈর্য রাখতে পারেনি এবং তিনি উইকেট ছুড়ে দিয়ে গেছেন এবং আমাদের জন্য ভাল শুরু দিয়ে গেছেন। এটা আসলে একটা ধৈর্যের খেলা। আমি মনে করি বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে অনেক ভাল হয়েছে। কিন্তু সার্বিকভাবে দিনশেষে দেখা গেছে আমরাই বেশি ধৈর্য দেখিয়েছি।’