২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অবশেষে ইয়াকুব মেমনের ফাঁসি কার্যকর

  • মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের শেষ মুহূর্তের আবেদন নাকচ সুপ্রীম কোর্টের

ভারতের বাণিজ্যিক নগরী মুম্বাইতে বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ইয়াকুব মেমনের ফাঁসি বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ৬টা ৩৫ মিনিটে মহারাষ্ট্রের নাগপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কার্যকর করা হয়েছে। এরপর বিমানে করে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মুম্বাইয়ের বাড়িতে। ইয়াকুবের ফাঁসি নিয়ে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেজন্য মুম্বাইয়ে তার বাড়ি ঘিরে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কড়া সতর্কতা রয়েছে দেশজুড়েও। খবর এনডিটিভির।

এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টায় সুপ্রিম কোর্ট ফাঁসি স্থগিত করতে ইয়াকুবের শেষ মুহূর্তের আবেদন নাকচ করেন। নজিরবিহীনভাবে এ নিয়ে গভীর রাতে শুনানির পর ভোরে আদেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত। ইয়াকুবের ক্ষমা প্রার্থনা বুধবার নামঞ্জুর করেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। এর আগে তার ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিমকোর্ট। ১৯৯৩ সালে পরপর বিস্ফোরণে তৎকালীন বোম্বে (বর্তমান মুম্বাই) শহরে ২৫৭ জন নিহত ও ৭০০ জন আহত হয়েছিলেন। তদন্তে প্রমাণিত হয়, বিস্ফোরণের ছক পুরোটাই ছিল মেমন পরিবারের। ঘটনার আগে পরিবারের অধিকাংশই দেশ ছেড়ে চলে যান। পরবর্তী সময়ে ইয়াকুব আত্মসমর্পণ করেন। সেই আত্মসমর্পণ শর্তাধীন ছিল কি না (অর্থাৎ ইয়াকুবকে প্রাণদ- দেয়া হবে না), এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

কিন্তু সুপ্রিমকোর্টের কাছে ইয়াকুব যে যুক্তিতে ফাঁসির স্থগিতাদেশের আবেদন জানিয়েছিলেন, দিনভর শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত বুধবার তা খারিজ করে দেন। মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসবিরোধী টাডা আদালত ইয়াকুবকে ফাঁসির নির্দেশ দেন। প্রথমে বোম্বে হাইকোর্ট এবং পরে সুপ্রিমকোর্ট সেই আদেশ বহাল রাখেন। ইয়াকুবের পক্ষে এরপর রায় পর্যালোচনার আবেদন জানানো হয়। সে আবেদনও খারিজ হওয়ার পর পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করা হয়।

একের পর এক আর্জি খারিজের পরে ইয়াকুবের ফাঁসি অন্তত ১৪ দিন স্থগিত রাখার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হন তার পক্ষের আইনজীবীরা।

তাছাড়া মহারাষ্ট্রের জেল ম্যানুয়ালেও আছে, কোন আসামির প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো যায় না। সেই আবেদনের নিষ্পত্তি করতে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে কার্যত নজিরবিহীনভাবে রাত আড়াইটায় খোলা হয় সুপ্রিমকোর্ট। সেই শুনানিতেই ইয়াকুবের আর্জি খারিজ করে দেয় ওই বেঞ্চ। সম্প্রতি ইয়াকুবের অন্তিম আবেদন বা কিউরেটিভ পিটিশন খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট। কিন্তু সেই আবেদন নিয়ম মেনে শোনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতের দুই বিচারপতির মধ্যেই মতপার্থক্য তৈরি হয়। তখন মামলা শুনতে তিন বিচারপতির নতুন বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি।

বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন সেই বেঞ্চই বুধবার বিকেলে বলেছিল, প্রাণদ-ের আদেশ নির্ভুল। এতে কোন আইনী ত্রুটি নেই। এমনকি কিউরেটিভ পিটিশনের শুনানির প্রসঙ্গ টেনেও বিচারপতিরা বলেন, যেখানে তিনজন প্রবীণতম বিচারপতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেখানে কোন ভুল ধরা যায় না। টাডা কোর্ট ইয়াকুবের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল। সেই খবর পরিবারকে জানানো হয় ১৩ জুলাই। গত ২০ বছর ধরে কারাগারে বন্দী ছিলেন ইয়াকুব।

১৯৯৬ সাল থেকে তিনি ‘সিজোফ্রেনিয়া’ রোগী ছিলেন। নানা তর্ক-বিতর্ক ও নাটকীয়তার পর শেষমেষ জন্মদিনেই ফাঁসিকাষ্ঠে যেতে হলো ইয়াকুবকে। বৃহস্পতিবার ইয়াকুবের ৫৩ বছর পূর্ণ হয়। জন্মদিন উপলক্ষে বুধবার মধ্যরাতে কারাগারে ইয়াকুবের জন্য কেক পাঠিয়েছিল পরিবার।