২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হামলার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা

  • ভারতসহ যে কোন স্থানে মার্কিন নাগরিকের ওপর হামলা হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্র ভারতসহ বিশ্বজুড়ে এর নাগরিকদের ভ্রমণের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষত বিশ্বে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিস্তার ঘটার কারণে হুমকির মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হলো। খবর পিটিআইয়ের।

যুক্তরাষ্ট্র এর পরামর্শ বার্তায় উল্লেখ করে যে, লস্কর-ই-তৈয়বার মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো ভারতের প্রতি এক বড় হুমকির সৃষ্টি করেছে। ২০১৪ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও এর আঞ্চলিক অংশীদাররা আইএসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। আইএস সিরিয়া ও ইরাকে তৎপর এক তালিকাভুক্ত সংগঠন। বুধবার যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ওই বিবৃতিতে বলেছে, ওই সব বিমান হামলার জবাবে আইএস যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই বিদেশীদের ওপর হামলা চালাতে এর সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ মনে করে যে, বিশ্বজুড়ে বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, ইউরোপ ও এশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিমা দেশ ও কোয়ালিশন অংশীদারদের স্বার্থের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা ঘটার ক্রমবর্ধমান আশঙ্কা রয়েছে। দফতর বলেছে, ভারতের সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহী তৎপরতা ঘটেই চলেছে এবং তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মার্কিন নাগরিকদের প্রভাবিত করতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতে সক্রিয় পাশ্চাত্যবিরোধী সন্ত্রাসী দলগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ হরকাত-উল জিহাদ-ই-ইসলামী, হরতকাত-উল মুজাহিদীন, মুজাহিদীন জৈইশ-ই-মোহাম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈয়বা। অতীতে পশ্চিমাদের উপস্থিতি ঘটে এমন কোন কোন স্থানসহ বড় বড় শহরগুলোর যেমন- বিলাসবহুল ও অন্যান্য হোটেল, ট্রেন, রেলস্টেশন বিপণিবিতান, সিনেমা হল, মসজিদ ও রেস্তরাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বিপণিবিতান ও অন্যান্য জনাকীর্ণ স্থানে কর্মব্যস্ত সন্ধ্যায় হামলাগুলো চালানো হয়। তবে সেগুলো যে কোন সময়ই ঘটতে পারে। এতে বলা হয়, মার্কিন সরকার খবর পাচ্ছে যে, দক্ষিণ এশিয়ার সন্ত্রাসী দলগুলো সম্ভবত মার্কিন সরকারের স্থাপনা, এর নাগরিক স্বার্থের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। পররাষ্ট্র দফতর জানায়, আল কায়েদা, তালেবান, লস্কর-ই-তৈয়বা, দেশীয় সাম্প্রদারিক দল ও অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠনের উপস্থিতি ওই অঞ্চলে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সম্ভাব্য বিপদের কারণ হয়ে রয়েছে। এদের অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন।

ওই দফতার বলেছে, সন্ত্রাসীরা ও তাদের প্রতি সহানুভূতিশীলরা মার্কিন নাগরিক বা পশ্চিমারা সমবেত হয় বা যাতায়াত করে এমন স্থানগুলোতে হামলা চালানোর ইচ্ছা ও সামর্থ্য দেখা যাচ্ছে। দফতরের মতে, কয়েকটি দেশী ও বিদেশী সন্ত্রাসী দলের উপস্থিতি পাকিস্তানের সর্বত্র মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে রয়েছে।

দফতর জানায়, দেশজুড়ে বেসামরিক লোকজন সরাসরি ও বিদেশী লক্ষ্যস্থলের ওপর সন্ত্রাসীদের হামলা প্রায়ই ঘটে থাকে। পাকিস্তানী সামরিক স্থাপনা ও বিমানবন্দরসহ কড়া পাহারাধীন স্থানগুলোতে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। পাকিস্তান সরকার বিশেষত বড় বড় শহরে কড়া নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে। সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্রগুলো মুক্তিপণের জন্য প্রায়ই লোকজনকে অপহরণ করে থাকে।