২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধূমকেতু থেকে টুইট!

ধূমকেতুর বুকে প্রথম অবতরণকারী মহাকাশ যান ফিলে ‘ঘুম থেকে জেগে’ উঠেছে। ধূমকেতুর পৃষ্ঠে ঠিকমতোই কাজ করছে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ইএসএ) রোবটযান ফিলে। কয়েক দিন নীরব থাকার পর পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের পর যন্ত্রটি থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সর্বশেষ যোগাযোগের ব্যাপ্তি ছিল ১৯ মিনিট। জার্মান এ্যারোস্পেস সেন্টার কর্তৃপক্ষ এ খবর প্রকাশ করেছে। ফিলে যেখানে রয়েছে, সেই ধূমকেতু (সিক্সটিসেভেনপি) এখন সূর্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইএসএর মূল নভোযান রোসেটা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ফিলে গত ১২ নবেম্বর ওই ধূমকেতুর পৃষ্ঠে অবতরণ করে। মহাকাশবিজ্ঞানের ইতিহাসে এটি ছিল এ ধরনের অভিযানে প্রথম সাফল্য। ভ্রাম্যমাণ গবেষণাগার হিসেবে ফিলে ওই ধূমকেতুর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে পৃথিবীতে পাঠাচ্ছে। তবে সেখানে অবতরণের পর ফিলের ব্যাটারির শক্তি কমে আসায় পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে দীর্ঘ কয়েক মাসের নীরবতার পর ১৩ জুন এটি আবার সাড়া দেয়।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় সাত মাস বিচ্ছিন্ন থাকার পর ওই যানটি পৃথিবীর সঙ্গে আবারও সংযোগ স্থাপন করেছে ও বার্তা পাঠাতে শুরু করেছে। গত বছরের নবেম্বরে ফিলে ধূমকেতুতে অবতরণ করে। এর মাত্র ৬০ ঘণ্টা পরই এর সঙ্গে পৃথিবীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

জেগে ওঠার পর ফিলের সঙ্গে জুড়ে দেয়া এ্যাকাউন্ট থেকে একটি টুইট করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘হ্যালো পৃথিবী, তুমি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছ?’

ফিলে ধূমকেতুর একটি অন্ধকার জায়গায় অবতরণ করায় বিজ্ঞানীরা তখনই এর ভবিষ্যত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। কারণ এই যানটি সৌরশক্তির সাহায্যে চলছিল। মহাকাশ সংস্থার বিজ্ঞানীরা বলছেন, ধূমকেতুটি এখন সূর্যের অনেক বেশি কাছে গিয়ে পৌঁছেছে। ফলে ছোট্ট রোবটের গায়ে বসানো সোলার প্যানেলে আলো পড়ছে; এতেই ফিলে আবারও ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। আর রিচার্জড হওয়ার কারণেই পৃথিবীর সঙ্গে এর যোগাযোগ পুনর্স্থাপিত হয়েছে। ধূমকেতুর বরফ আর পাথর পরীক্ষা করে দেখার জন্য এ যানটি পাঠানো হয়েছিল।

সূত্র : সায়েন্স ডেইলি

প্রকৃতি ও বিজ্ঞান ডেস্ক