২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

’বন্ধ হচ্ছে’ নেপালের পশু হত্যা উতসব

অনলাইন ডেস্ক ॥ নেপালে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পশুহত্যার মহোৎসব বন্ধ হতে যাচ্ছে বলে সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলনকারী প্রতিষ্ঠানের বরাতে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

বারা জেলার বরিইয়ারপুর মন্দিরে দেবী গাঁধীমাইয়ের উদ্দেশ্যে পশু বলিদানের রেওয়াজ চলে আসছে কয়েক শতক ধরে। প্রতি বছর পাঁচ বছর অন্তর মন্দিরটির সামনে লাখ লাখ মহিষ, পাঁঠাসহ বিভিন্ন পশু হত্যা করা হয়।

২৫০ বছর আগে এক পুরোহিত প্রচার করেন, তিনি স্বপ্নে দেখেছেন শক্তির দেবী গাঁধীমাই তাকে রক্ত উৎসর্গ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হবেন ওই পুরোহিত। এরপর থেকেই নেপালের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এ প্রথাটি পালিত হয়ে আসছে।

তবে দেবীর জন্য উৎসর্গের নামে লাখ লাখ পশু হত্যার এ উৎসবের বিরোধিতা করে আসছে বিভিন্ন সংগঠন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি গাঁধীমাই মন্দির কর্তৃপক্ষ এ প্রথাটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছরও এ উৎসব উপলক্ষ্যে পাঁচ লাখ মহিষ ও ছাগল বলি দেওয়া হয়।

গাঁধীমাই মন্দির ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান রামচন্দ্র শাহ বলেছেন, হত্যা ও সহিংসতার পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ পূজা এবং উদযাপনের সময় এসেছে।

ভারতের দিল্লি ও বিহারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল (এইচএসআই) ও এ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক নেপাল (এডব্লিউএনএন) এর পক্ষ থেকে পশুহত্যার প্রথাটি বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এ সময় মন্দিরটির প্রধান পুরোহিতসহ গুরুত্বপূর্ণ চার সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে রামচন্দ্র এতে উপস্থিত ছিলেন না।

বা্র্তা সংস্থা এএফপি’কে মন্দির ট্রাস্টের সেক্রেটারি মতিলাল প্রসাদ বলেন, আমরা প্রাণী উৎসর্গের এই প্রথা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

মন্দির কর্তৃপক্ষের এই অবস্থান ব্যক্ত করার পরপরই একে ‘বিজয়’ বলে উল্লেখ করেছে এইচএসআই ও এডব্লিউএনএন। চুলচেরা বিশ্লেষণের পর মন্দির কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে পশুহত্যা বন্ধে আন্দোলনকারী সংস্থা দুটো।

সংশয় থাকছেই

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে বিবিসিকে দেওয়া মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান রামচন্দ্র শাহের সাক্ষাৎকারের পর। সেখানে তিনি বলেছেন, পশুহত্যা নিষিদ্ধের সংবাদটি সত্য নয়। ধর্মানুরাগীদের পশুহত্যা বন্ধে অনুরোধ করা যায়, কিন্তু তাদের জোর করা যায় না।

তিনি পশুহত্যা বন্ধের পক্ষে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করলেও তা বন্ধে আইন প্রণয়নের বিরোধী।

এদিকে রামচন্দ্রের এ মন্তব্যে অবাক হয়েছেন এইচএসআইয়ের নারী মুখপাত্র নবমিতা মুখার্জী। তিনি বলেছেন, মন্দির কমিটি স্পষ্টভাবেই তাদের সিদ্ধান্তের কথা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছেন। রামচন্দ্রের বক্তব্য নিছকই তার নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা।

তিনি আরও বলেন, যদি বিষয়টি নিশ্চিতই না হয়, তাহলে আমরা ঘটা করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা জানাতে যাব কেন?

এডব্লিউএনএন-এর প্রেসিডেন্ট মনোজ গৌতমও পশুহত্যা বন্ধে মন্দির কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনিও রামচেন্দ্রর মন্তব্যকে তার নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা বলে উল্লেখ করেছেন