২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বৃষ্টিতে ভেসে গেল ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিন

  • চট্টগ্রাম টেস্টের পরিণতি হতে যাচ্ছে!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘বৃষ্টিতে খেলা না হওয়ায় হতাশ অবশ্যই। কিন্তু একইসঙ্গে আবহাওয়াটাও চমৎকার উপভোগ্য!’ নিজের ফেসবুক পেজে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন মুশফিক। লেখাটি যখন পোস্ট করেছেন, তখন হোটেলে ছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার দুই ঘণ্টা আগেই দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন পরিত্যক্ত হয়ে যায়। একটি বলও মাঠে গড়ায় না। এমনকি দুই দলের কোন ক্রিকেটারও হোটেল থেকে মাঠের উদ্দেশে বের হননি। এমনই বৃষ্টি হলো, হোটেলবন্দীই থাকতে হলো ক্রিকেটারদের। চট্টগ্রাম টেস্টের মতো ঢাকা টেস্টেও বৃষ্টি হানা দিল। তাতে দ্বিতীয় দিন বৃষ্টিতে ভেসে গেল।

তাহলে কী চট্টগ্রাম টেস্টের মতো ঢাকা টেস্টও বৃষ্টির জন্য ড্র হয়ে যাবে? হওয়ার সম্ভাবনা অনেক। প্রথমদিন ৮৮.১ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৬ রান করেছে বাংলাদেশ। এখনও ১৩ রানে

নাসির হোসেন এবং মুস্তাফিজুর রহমান ও জুবায়ের হোসেন ব্যাটিংয়ে আছেন। হাতে আছে বাংলাদেশের ২ উইকেট। প্রথমদিন খেলা যেখানে শেষ হয়েছে, দ্বিতীয় দিনের স্কোরবোর্ডেও তাই লেখা আছে। আজ তৃতীয় দিনও যে খেলা হবে, এর নিশ্চয়তা নেই।

যদি খেলা না হয় তাহলে দ্বিতীয় টেস্টও নিশ্চিত ড্র’ই হবে। এখনও বাংলাদেশের এক ইনিংসই শেষ হয়নি। আরও ৩ ইনিংস বাকি আছে। তৃতীয় দিনও বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়ে গেলে হাতে থাকবে দুই দিন। সেই দুইদিনে কী আর তিন ইনিংস শেষ হওয়ার কোন সুযোগ আছে? বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস তো আগে শেষ হতে হবে। যদি দক্ষিণ আফ্রিকা বড় স্কোর গড়ে তাহলেও তো তাদের কম করে হলেও পাঁচ সেশন খেলতে হবে। তা খেলতে গেলে দেড়টা দিন এমনিতেই শেষ হয়ে যাবে। চট্টগ্রাম টেস্টের মতো তাই ঢাকা টেস্টের পরিণতিও হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, তা আর থামেইনি। তাতে করে শুক্রবার দ্বিতীয় দিন একটি বলও মাঠে গড়ায়নি। সকাল থেকেই যখন বৃষ্টি মুষলধারে পড়তে থাকে তখনই বোঝা যায় দ্বিতীয় দিন খেলা হবে না। তখন স্টেইনের ৪০০ উইকেট নেয়া, মুস্তাফিজের বোলিং থেকে স্টেইনদের শিক্ষা নেয়ার বিষয়গুলোই আলোচনা হয়েছে। স্টেইনই যেমন বলেছেন, ‘আমরা বল সিম করানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু খুব একটা পারিনি এই উইকেটে (চট্টগ্রামে)। কিন্তু দেখলাম, বাংলাদেশের ওই (মুস্তাফিজুর রহমান) তরুণ বাঁহাতি পেসার ওই উইকেটেও দারুণ মুভমেন্ট পেয়েছে। আমরা দেখলাম, ওর দারুণ রিস্ট পজিশনের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। আমরা সেটা খেয়াল করলাম এবং ভাবলাম আমরাও এটা কাজে লাগাতে পারি।’

তা স্টেইন ভালভাবেই কাজে লাগিয়েছেন। যেখানে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথমদিনে উইকেটশূন্য ছিলেন, সেখানে দ্বিতীয় দিন ৩ উইকেট নিয়েছেন। এরপর ঢাকা টেস্টের প্রথমদিনেই ৩ উইকেট শিকার করে নিয়েছেন। ৪০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করে আরও ২ উইকেট পেয়েছেন। তাতে বাংলাদেশও প্রথমদিনেই বিপাকে পড়ে যায়। দ্বিতীয় দিন নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশ অলআউট হতো, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংস ব্যাটিং করা শুরু করত। তা করতে এখন তৃতীয় দিনের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

দ্বিতীয় দিন মাঠে আসার প্রস্তুতি নিয়েও কোন কাজ হয়নি। ক্রিকেটারদের হোটেলেই থাকতে হয়েছে। যেহেতু জুমার দিন ছিল। সুযোগ মিলেছে নামাজ পড়ার। তাই মুশফিক, সাকিব, মাহমুদুল্লাহ, তাইজুল, নাসির, রুবেল, মুমিনুলরা জুমার নামাজ আদায় করে নিয়েছেন। বসে থাকেননি দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলাও। তিনিও একই বাসে করে বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের সঙ্গে জুমার নামাজ পড়তে গেছেন। নামাজ আদায় করে আবার হোটেলে ফিরেছেন। এ সুযোগে একটু বিশ্রামও মিলে গেল দুই দলের ক্রিকেটারদের।

বৃষ্টিতে দ্বিতীয় দিনের খেলা না হওয়ায় বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম যেমন হতাশার সঙ্গে আবহাওয়া উপভোগ করার কথা বলেছেন, পেসার মোহাম্মদ শহীদ কিন্তু শুধুই হতাশা প্রকাশ করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং শুরু হওয়ার কথা, তাতে পেসার শহীদের যে বোলিং করতে থাকার কথা!

তাই তো শহীদ বলেছেন, ‘খুবই হতাশাজনক।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘সব সময় খেলতে পারলে ভাল লাগে। যদি এই ম্যাচে ৪০ ওভার বল করতে পারি তাহলে খেলোয়াড়ি জীবনে অনেক লাভ হবে। যত খেলব, ততই শিখব।’ শহীদের এ আশা পূরণ হবে কী? বৃষ্টিতে দ্বিতীয় দিন পুরোটাই ভেসে যাওয়ার পর সামনের দিনগুলোতে যে খেলা হবে এরই তো কোন নিশ্চয়তা নেই।