২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারত ও যুক্তরাজ্য সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন খালেদা

  • পরবর্তী নির্বাচন টার্গেট

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ আবার ভারত ও যুক্তরাজ্য সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। পরবর্তী নির্বাচনকে টার্গেট করে এ দু’টি প্রভাবশালী দেশ সফর করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে সম্পর্ক উন্নয়নের কৌশল নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে প্রথমেই তিনি যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে সেদেশের সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর লন্ডনে সপরিবারে অবস্থানরত ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করবেন। যুক্তরাজ্য সফরের পর তিনি ভারত সফরে গিয়ে সরকারী ও বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে চান বলে জানা গেছে।

জানা যায়, আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই যুক্তরাজ্য সফরের প্রস্তুতি নিয়েছেন খালেদা জিয়া। তবে ভারত সফরের দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। তবে দলের ক’জন সিনিয়র নেতা খালেদা জিয়ার হয়ে ভারতের বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে

চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যখনই সুযোগ হবে তখনই তিনি ভারত সফরে যেতে চান। এর আগে ২০১২ সালে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ভারত ও যুক্তরাজ্য সফরে গিয়েছিলেন। সূত্র মতে, টানা ৯২ দিনের হরতাল অবরোধ কর্মসূচী ব্যর্থ হওয়ার পর বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে পড়ে। আন্দোলনের আগে বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের বিএনপির প্রতি নেক নজর থাকলেও ওই আন্দোলনে পেট্রোলবোমাসহ ব্যাপক নাশকতামূলক কর্মকা- হওয়ায় বিএনপির প্রতি অসন্তুষ্ট হয় অনেক প্রভাবশালী দেশ। এমনকি সৌদি আরবের সঙ্গেও আগের মতো আর সুসম্পর্ক নেই বিএনপির। এ কারণেই বিগত রমজান মাসে ওমরাহ করতে সৌদি আরব যাওয়া হয়নি খালেদা জিয়ার। এসব কারণে দলীয় হাইকমান্ডের মনোবল ভেঙ্গে যায়। তবে এ অবস্থার অবসানে আবারও নতুন করে বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খালেদা জিয়া। এদিকে এবার রমজান মাসে সৌদিআরব সফর বাতিল হওয়ায় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়নি খালেদা জিয়ার। একদিকে কম সফরসঙ্গী নিয়ে খালেদা জিয়াকে সৌদি সফরে যেতে বলা এবং ক’জন সফরসঙ্গীকে সৌদি ভিসা না দেয়া এবং অপরদিকে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারেক রহমান সৌদি আরবে আসতে না পারায় খালেদা জিয়াও সৌদি সফর বাতিল করেন। তাই এবার লন্ডন গিয়ে ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে দল ও পারিবারিক বিষয়ে খালেদা জিয়া বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে খালেদা জিয়া ভারত সফরে গেলে (২৮ অক্টোবর থেকে ৩ নবেম্বর) তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয় ভারতের তৎকালীন কংগ্রেস সরকার। সে সফরে গিয়ে তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ক’জন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া তিনি সে দেশের বিরোধী দলের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এক সময় বিএনপি ভারতবিরোধী বক্তব্য নিয়ে স্বোচ্ছার থাকলেও খালেদা জিয়ার ভারত সফরের পর ভারত বিরোধিতার পরিবর্তে সে দেশের পক্ষে বক্তব্য রাখতে থাকেন খালেদা জিয়াসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা। তবে খালেদা জিয়ার ভারত সফরের পর ভারতের পক্ষ থেকে তাকে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করাসহ কিছু পরামর্শ দেয়া হয়। এ খবর শুনে জামায়াত ক্ষুব্ধ হয়। তাই রাজনৈতিক জোট রক্ষার স্বার্থে বিএনপি জামায়াতকে সঙ্গে নিয়েই একের পর এক আন্দোলন কর্মসূচী পালন করে। তবে এ বিষয়টিকে ভাল চোখে দেখেনি ভারত। পরে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী বাংলাদেশ সফরে এলে জামায়াতের ডাকা হরতাল থাকায় পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাত অনুষ্ঠানে যায়নি খালেদা জিয়া। এ কারণে ভারতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তাই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী দেশ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিরোধিতা করলেও নিরব থাকে ভারত। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ সফরে যেতে চান খালেদা জিয়া। তবে কবে কোন দেশে তিনি যাবেন তা আমরা জানি না। দিনক্ষণ ঠিক হলে অবশ্যই সবাই জানতে পারবে।