২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পেঁয়াজের বাজার হঠাৎ অস্থির, দাম বেড়েছে দ্বিগুণ

  • মিয়ানমার থেকে আমদানির প্রস্তুতি

এম শাহজাহান ॥ হঠাৎ অস্থির পেঁয়াজের বাজার। পনেরো দিনের ব্যবধানে অভ্যন্তরীণ বাজারে দিগুণ দাম বেড়ে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকা। দাম বৃদ্ধির এ হার আন্তর্জাতিক বাজারে চারগুণ। টনপ্রতি ১৪৫ ডলার থেকে বেড়ে বর্তমান বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ ডলারে। এটাকে উদ্বেগজনক মন্তব্য করে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- দাম বৃদ্ধির এ প্রবণতা সাময়িক। অভ্যন্তরীণ সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী হওয়ার সুবাদে বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হয়ে আসবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অতিরিক্ত দাম বাড়ার কারণে চাপের মধ্যে থাকবে দেশীয় বাজার। এছাড়া কোরবানি ঈদ সামনে রেখে ভারতের পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। পেঁয়াজের বর্তমান মজুদ পরিস্থিতি, দেশীয়-আন্তর্জাতিক বাজারে দাম এবং মূল্য কমিয়ে আনার কৌশল নির্ধারণে আগামী রবিবার জরুরী বৈঠক ডেকেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য। জানা গেছে, রবি মৌসুমে পেঁয়াজের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং এর প্রভাব অভ্যন্তরীণ বাজারে পড়তে পারে। এ আশঙ্কায় জুলাই মাসের শুরুতে ভারত সরকার রফতানি মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিটনে ১৭৫ ডলার রফতানি মূল্য বাড়ানো হয়েছে। ন্যূনতম রফতানি মূল্য (এমইপি) আগে ছিল ২৫০ ডলার বা ১৫ হাজার রুপি তা বাড়িয়ে করা হয় ৪২৫ ডলার বা ২৭ হাজার ২৭ রুপি। দেশের চাহিদা মেটাতে বরাবরই পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে ও পেঁয়াজ আনা হয়। তবে ভারতে রফতানি মূল্য বাড়ানোর পর থেকেই চাপের মুখে পড়েছে পেঁয়াজের বাজার। টানা বর্ষণে ভারতে পেঁয়াজের প্রথম মৌসুম চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই অবস্থা মিয়ানমার ও পাকিস্তানে বিরাজ করছে। এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির ফলে অস্থির হয়ে উঠছে পেঁয়াজের বাজার।

তবে দেশীয় মজুদ ও উৎপাদনের তথ্য দিয়ে বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন জনকণ্ঠকে বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়ায় দেশে সাময়িক চাপ তৈরি হবে। দাম আরও বাড়তে পারে। তবে অভ্যন্তরীণ সাপ্লাই চেইন অনেক শক্তিশালী অবস্থায় থাকায় শেষ পর্যন্ত পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসবে। তিনি বলেন, এটা অস্বাভাবিক দাম। কলকাতায় তিনগুণ দাম বেড়ে প্রতিকেজি ৪০Ñ৪৫ রুপি দরে বিক্রি হচ্ছে। আমাদের মজুদকৃত পেঁয়াজ যাতে পাচার না হতে পারে সেই দিকটায় এখন লক্ষ্য রাখা জরুরী হয়ে পড়ছে। বাণিজ্য সচিব বলেন, ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পূর্বাভাস সেল পেঁয়াজ নিয়ে বৈঠক করেছে। ওই বৈঠকে পেঁয়াজের নতুন বাজার খোঁজা ও আমদানির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এজন্য প্রাথমিকভাবে মিয়ানমারের কথা ভাবছে সরকার। কারণ ওই দেশটির উৎপাদন ও মজুদ পরিস্থিতি অনেক ভাল। তিনি বলেন, আগামী রবিবার একটি সরকারী প্রতিনিধিদল মিয়ানমারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ওখান থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে।