১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জন্মদিন এল তব আজি, ভরি লয়ে সংগীতের সাজি...

জন্মদিন এল তব  আজি, ভরি লয়ে সংগীতের সাজি...
  • বর্ষাদিনের গানে শৈলজারঞ্জন স্মরণ

মোরসালিন মিজান

বাঙালী মানসের পুরোটাজুড়ে আছেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর সৃষ্টির আলোয় আলোকিত চারদিক। বিশেষ করে রবীন্দ্রসঙ্গীত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। এ সঙ্গীতের আলোচনায় আরও একটি নাম খুব প্রাসঙ্গিক। নামটিÑ শৈলজারঞ্জন মজুমদার। বিশ্বকবির তিনি ঘনিষ্ট সহচর। গুরুর কাছে গান শেখার পাশাপাশি দুই শতাধিক রবীন্দ্রসঙ্গীতের স্বরলিপি করেছেন তিনি। দুই শতাধিক রবীন্দ্রসঙ্গীতের স্বরলিপি! একা করেছেন! ভাবা যায়! তদুপরি তিনি বাংলাদেশের মানুষ। নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে জন্ম। অথচ, কী আশ্চর্য, অনেকটাই বিস্মৃতির আড়ালে। গুণী এই ব্যক্তিত্বের অবদান অল্পস্বল্পই স্মরণ করা হয়। শুক্রবার সে বন্ধ্যত্ব কিছুটা যেন কাটানো গেল। এদিন জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে উদ্যাপন করা হলো তাঁর ১১৬তম জন্মবার্ষিকী। ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের সহায়তায় অনুষ্ঠান আয়োজন করে চয়নিকা নামের একটি সংগঠন। শৈলজারঞ্জনকে স্মরণের পাশাপাশি এদিন বর্ষাকে স্বাগত জানান দুই বাংলার শিল্পীরা। ছিল আলোচনা। গান।

বিকেলে মিলনায়তনে প্রবেশ করতেই অন্য রকম আবহ। মঞ্চে ছবি হয়ে আছেন শৈলজারঞ্জন মজুমদার। পাশেই রবির আলো। সৌম্য শান্ত চেহারার রবীন্দ্রনাথ যেন প্রিয় সহচরকে উদ্দেশ্য করে তাঁর লেখা থেকে পাঠ করছিলেন আশির্বাদবাণীÑ জন্মদিন এল তব আজি,/ভরি লয়ে সংগীতের সাজি/ বিজ্ঞানের রসায়ন রাগ রাগিণীর রসায়নে/পূর্ণ হল তোমার জীবনে।/কর্মের ধারায় তব রসের প্রবাহ যেথা মেশে/সেইখানে ভারতীর আশীর্ব্বাদ অমৃত বরষে। চমৎকার এ আবহের মধ্যেই শুরু হয় অনুষ্ঠান। প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জয়শ্রী কু-, সুজিত কুমারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথের যোগ্য সহচর ছিলেন শৈলজারঞ্জন। নিজের ভেতর বহু গুণের দুর্লভ সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন তিনি। তবে এই কীর্তিমানকে ভুলে থাকার একটি প্রবণতা খুব লক্ষ্য করা যায়। এ আয়োজনটির মাধ্যমে প্রায় অচেনা বনফুলকে নতুন করে প্রস্ফুটিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।

দ্বিতীয় পর্বে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। প্রথম পরিবেশনাটি সম্মেলক। সমবেত কণ্ঠে শিল্পীরা শ্রদ্ধা জানান শৈলজারঞ্জনকে। এ সময় গানে গানে তাঁরা বলেনÑ প্রথম যুগের উদয়দিগঙ্গনে/প্রথম দিনের উষা নেমে এল যবে/প্রকাশপিয়াসি ধরিত্রী বনে বনে/শুধায়ে ফিরিল, সুর খুঁজে পাবে কবে।/এসো এসো সেই নব সৃষ্টির কবি...। পরে ছিল একক সঙ্গীতের পরিবেশনা। আলো জ্বেলে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সালমা আকবর গেয়ে যানÑ এসো গো, জ্বেলে দিয়ে যাও প্রদীপখানি/বিজন ঘরের কোণে, এসো গো...। নীলোৎপল সাধ্যের কণ্ঠে ছিল বর্ষার আবাহন। তিনি গানÑ ওগো সাঁওতালি ছেলে,/শ্যামল সঘন নববরষার কিশোর দূত কি এলে...। সংযুক্তা দাসের সঙ্গে গেয়ে ওঠেন শ্রোতাও। কারণ বর্ষার খুব জনপ্রিয় গানটি ছিল তার কণ্ঠে। শিল্পী গানÑ বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান,/ আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান ...। সুচন্দা ঘোষ গানে গানেই গান শোনাবার আকুতি জানান। তাঁর কণ্ঠে ছিলÑ আজি তোমায় আবার চাই শুনাবারে/যে কথা শুনায়েছি বারে বারে...।

এভাবে সুন্দর এগিয়ে যায় অনুষ্ঠান। তবে শুরুটা এলোমেলো আর অগোছালো ছিল। সঙ্গীতের আসরে বক্তার চেয়ার এত হয়েছিল যে, খুব বেমানান মনে হয়েছে। অতিথিদের মঞ্চে আহ্বান করার পরও ছিল অতি আনুষ্ঠানিকতা। মঞ্চের সামনে পাতা চেয়ারে অতিথিরা বসেছিলেন। আর পেছনে দাঁড়িয়ে শিল্পীরা গেয়েছেন সম্মেলক গান। এই ধরনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারলে সবদিক থেকেই চমৎকার হবে আয়োজনটি।