২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জামায়াতসহ সব জঙ্গীর বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসে ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তাব

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরসহ জঙ্গীবাদী সব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব তোলা হয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার নিশ্চিত করাসহ সব নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট দলীয় কংগ্রেসওম্যান তুলসী গ্যাবার্ড। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই সদস্যের প্রস্তাবে সমর্থন করেন আরিজোনার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান এবং প্রতিনিধি পরিষদে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সম্পর্কিত সাব-কমিটির চেয়ারম্যান ম্যাট স্যালমন এবং ইলিনয়ের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান বব ডোল্ড। দ্বিদলীয় উদ্যোগে উত্থাপিত এ প্রস্তাবে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাস প্রতিরোধেরও আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবটি উত্থাপনের সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বী তুলসী বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়কে দেশ ছাড়া করার যে সহিংস প্রবণতা চলেছে, তা বন্ধে অবশ্যই সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। নানাবিধ কারণেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতির প্রশ্নে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষত গত বছরের জানুয়ারিতে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সংঘাতের বিস্তার ঘটে এবং তা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে নাজুক করে ফেলে।

আমি বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বেশি চিন্তিত। বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা আমাকে বিচলিত করেছে। বাংলাদেশে খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ অন্যান্য ধর্ম-জাতিগোষ্ঠীও আক্রান্ত হচ্ছে। সংখ্যালঘু হামলায় জড়িতরা খুব কমই বিচারের সম্মুখীন হচ্ছে বা শাস্তি পাচ্ছে,’ উল্লেখ করেন এই কংগ্রেসওম্যান।

প্রস্তাব সমর্থন করে বব ডোল্ড বলেন, কোন দেশ নাগরিকদের, বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষায় ব্যর্থ হলে তা বরদাশত করা হবে না। বিশ্বের মানবিক মূল্যবোধের বৃহৎ শক্তি হিসেবে সে সব দেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্র এক সুরে এ বার্তা পাঠাতে বাধ্য। বাংলাদেশের সম্ভাবনা প্রচুর। আমরা সহিংস রাজনীতি পরিহারে বাংলাদেশের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে আইনের শাসন সুসংহত এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি ধর্মীয় উগ্রপন্থা দমনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছি।

গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয় ॥ প্রতিনিধি পরিষদ ১৯৭১ সালের এর মুক্তিযুদ্ধের ভিকটিমদের কথা স্বীকার করছে। আইনের শাসন, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও যুদ্ধাপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনে চলতে বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছে। চরমপন্থী গ্রুপ যেমন জামায়াত (জেইআই), ছাত্র শিবির (আইসিএস), যারা দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার জন্যে হুমকিস্বরূপ তাদের কর্মকা- ঠেকাতে এবং সকল নাগরিকের বিশেষত দুর্বল ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছে।

উল্লেখ্য এ প্রস্তাব উত্থাপনে যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, সেন্টার ফর ইনকোয়ারি, আমেরিকান হিউম্যানিস্ট এ্যাসোসিয়েশন, মুক্তমনা, দৃষ্টিপাত, দেলওয়ারের ভ্যালি বাংলাদেশী এ্যাসোসিয়েশন, সেক্যুলার কোয়ালিশন অব আমেরিকা ও হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার অন্যতম সংগঠক শিতাংশু গুহ জানিয়েছেন, ধর্মের নামে উগ্রপন্থী দমনের বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এ প্রস্তাব উত্থাপনী বক্তব্যে।