২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এ কোন্ কাল এলো

সামাজিক অপরাধের ঘটনা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। বর্তমান সময়ে এই অপরাধগুলো মাত্রা অতিক্রম করে চলেছে। এখনই লাগাম টেনে ধরা না গেলে সামাজিক অপরাধ ভয়াবহ রূপ নেবে। দেশে ভয়াবহ ব্যাধির মতো দানা বাঁধছে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়। পিটিয়ে হত্যার মতো পৈশাচিক ঘটনাগুলো মনে আর দাগ কাটে না যেন। হয়ত ঘটনায় কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়। সমাজের কর্তাব্যক্তিদের ব্যর্থতার কারণে নির্যাতনের শিকার হয় শিশু-কিশোর-নারীরা। সমাজের কয়েকজন মাত্র লোক এ ধরনের ঘটনা ঘটায়। মানবিকবোধসম্পন্ন মানুষ এসব ঘটনায় নির্বিকার থাকতে পারে না। কিন্তু তার প্রকাশ নেই। তাৎক্ষণিক বিহ্বল হয়ে পড়ে তারা। কিছুদিন আবেগপ্রবণ থাকে, তারপর সেই একই অবস্থা। এ কারণে এমন সব জঘন্য, বিকৃত বীভৎস ঘটনা ঘটে, যার হোতাদের চরিত্র বিশ্লেষণ সামাজিক বিজ্ঞানীর পক্ষেও কঠিন। তারা বলছে, এটা এক ধরনের পৈশাচিক আনন্দ। এক ধরনের বিকারগ্রস্ততা। এমন করে কেন হত্যা করা হচ্ছে, তা মেলানো কঠিন। মারতে মারতে উল্লাসে ফেটে পড়ে হত্যাকারীরা। সমাজে কী পরিমাণ ঘুণ ধরেছে, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ শিশু-কিশোরসহ মানুষকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাগুলো। ঘটে যাওয়া সহিংসতা আমাদের ভেতর ভয় সৃষ্টি করে। বিপদে মানুষকে সাহায্য করা, এমনকি সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা থেকেও এই ভয় বিরত রাখে। এই সমষ্টিগত নিষ্ক্রিয়তা সমাজের সুরক্ষা বুনোটগুলোকে এবং নিপীড়িতের প্রতি অনুভূতিগুলোকে কুরে কুরে খায়। তবুও সমাজের রীতিনীতি ও কাঠামোর প্রতিটি পর্যায়ে সহিংসতার প্রতি এক অদ্ভুত গ্রহণযোগ্যতা দেখা যায়। যেন কোন এক নিয়ন্ত্রিত বাস্তবতায় অভ্যস্ত হয়ে আমরা একই সঙ্গে সহিংসতার প্রতি সক্রিয় অসার নিষ্ক্রিয় দর্শকে পরিণত হচ্ছি। আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ; মানুষের প্রতি মানুষের মায়ামমতা লোপ পাওয়া এবং উন্নাসিকতারই পরিচায়ক। এর ফলে সমাজের সর্বত্র অল্পসংখ্যক দুষ্টচক্র, সন্ত্রাসী, মস্তান প্রশ্রয় পেয়ে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকজন যেন জিম্মি হয়ে পড়েছে। অন্যায় দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে যাচ্ছে। পরিবার ও সমাজের কল্যাণের জন্য সম্মিলিত সামাজিক শক্তি নিয়ে যে অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই নৈতিক দায়িত্ব, সেটা অনেকেই যেন উপলব্ধি করেন না। এক ধরনের পলায়নপর মনোবৃত্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রত্যেকে কেমন যেন নিজস্ব খোলসের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। দেশব্যাপী যে নৃশংসতার ঘটনা চলছে, তার যথাযথ বিশ্লেষণ মিলছে না। তদুপরি সমাজ ও মনোবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সামাজিক আচার-আচরণে বিরূপ পরিবর্তন, প্রথা নষ্ট হওয়া এবং পারস্পরিক সম্পর্কের চিড় ধরার কারণে পিটিয়ে হত্যার মতো বিবেকবর্জিত ঘটনা ঘটছে। বলা হচ্ছে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও আইনের শাসন না থাকায় কিছু মানুষ বর্বর থেকে বর্বরতম পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। আইন করে খুনীদের রক্ষা করা ও খুনের ঘটনার বিচার করতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করার কারণে পুরো দেশেই পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটছে।

দেশে এ কেমন কাল এলো? সমাজের সর্বস্তরে এক ধরনের অরাজকতা বিদ্যমান। এছাড়া পারিবারিক শিক্ষা, প্রথাগুলো আগের মতো মানা হচ্ছে না। ফলে মানুষের মধ্যে বিবেকহীনতা চরমে পৌঁছে যাচ্ছে। এ থেকে বের হয়ে আসা সহজ নয়। তবে সবক্ষেত্রে সুস্থ ও সুষ্ঠুতার চর্চা করা গেলে পরিস্থিতি থেকে ধীরে ধীরে বের হওয়া সম্ভব। এসব ঘটনাকে কোনভাবেই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা যাবে না। পাশাপাশি হত্যা, নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ও যুক্ত ব্যক্তিদের বিচার হওয়া বাঞ্ছনীয়। শিশু, যুবক হত্যার ঘটনাগুলোর দ্রুতবিচার নিশ্চিত করা সমাজকে সুশৃঙ্খল ও সভ্য রাখার জন্য জরুরী।