২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে পারা ভাল লাগার বিষয় ॥ শামীম আরা নীপা

নৃশিল্পী শামীম আরা নীপা। নৃত্য সাধনাই যার জীবনের ব্রত। নিরলস চেষ্টা ও অদম্য ইচ্ছাকে আকড়ে ধরে নৃত্য সাধনা করে চলেছেন। নৃত্যধারায় নিজেকে শিক্ত করার পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তাঁর লব্ধ নৃত্যশৈলী। সম্প্রতি চতুর্থ চীন শিনজিয়াং আন্তর্জাতিক নৃত্য উৎসবে তাঁর সংগঠন নৃত্যাঞ্চলের অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন। এ সম্পর্কে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।

চীনের আন্তর্জাতিক নৃত্য উৎসবের অভিজ্ঞতা কেমন?

শামীম আরা নীপা : বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের আমন্ত্রণে আমরা এ উৎসবে যোগদান করি। আমাদের সংগঠনের ২৯ জন সদস্য নিয়ে আমরা সেখানে যাই। দলের ২৫ জনই সেখানে পারফর্ম করেছে। এতগুলো সদস্য নিয়ে সেখানে আমাদের দেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে পারাটা বিশেষ ভাল লাগার এক বিষয় ছিল। আমরা সেখানকার বিভিন্ন মঞ্চে কালারফুল ও ভ্যারিয়েশন ক্রিয়েট করতে পেরেছি। দীর্ঘক্ষণ ধরে শুধু নাচ দিয়েই আমরা অনুষ্ঠান করেছি। সব মিলিয়ে বড় রকমের অভিজ্ঞতাই অর্জন করেছি বলা যায়।

উৎসবে কেমন সাড়া পেলেন?

শামীম আরা নীপা : ভীষণ ভাল সাড়া পেয়েছি। উৎসবের তিনটি পৃথক মঞ্চে চারটি সন্ধ্যায় আমরা নৃত্য পরিবেশন করেছি। নৃত্য পরিচালনায় ছিলাম আমি নিজে। আমাদের শিল্পীদের ক্লাসিক্যাল, আধুনিক, লোকজ ও ফিউশন নৃত্যমালা চীনা দর্শকের খুবই প্রশংসা লাভ করে। প্রতিটি সন্ধ্যায় মিলনায়তন ভর্তি দর্শক ছিল।

উৎসবে আপনাদের পরিবেশনা সম্পর্কে বলুন

শামীম আরা নীপা : দুই বছর অন্তর সেখানে এ নৃত্য উৎসবটি হয়। এবার প্রথম আমরা এ উৎসবে অংশ নিয়েছি। উৎসবের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি সন্ধ্যায় একটি মঞ্চে একটি দেশের নৃত্যশিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। আমাদের কোন কোন শিল্পীর একই অনুষ্ঠানে ৫টি করে নাচ করতে হয়েছে। ড্রেস চেঞ্জ করতে হয়েছে ৩ মিনিটে। আমরা প্রতিটা শোতে দুই ঘণ্টা ধরে নাচ করেছি। মোটামুটি আমাদের পরিবেশনায় সব ধরনের নাচই ছিল, যা আমরা প্রায়ই সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিবেশন করে থাকি।

উৎসবে আর কোন্ কোন্ দেশ অংশ নিয়েছে?

শামীম আরা নীপা : শিনজিয়াং প্রদেশের এই আন্তর্জাতিক নৃত্য উৎসব উরুমকি শহর ছাড়াও আরও চারটি শহরে একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। মোট দশটি দেশ ও রিজিওন এই নৃত্য উৎসবে অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশসহ আরও অংশগ্রহণ করে বেলারুশ, রাশিয়ান রিপাবলিক অব টাটারাসটান, তুরস্ক, সার্বিয়া, ইথিওপিয়া, কাজাকিস্তান, উজবেকিস্তান, আলজিরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, চায়না-হংকং আর্টস গ্রুপ। স্থানীয় দলের মধ্যে ছিল : চায়নীজ অপেরা ড্যান্স থিয়েটার, জোয়ানডং সং এ্যান্ড থিয়েটার, বেইজিং ড্যান্স একাডেমিসহ আরও কয়েকটি নৃত্য সংগঠন।

আপনাকে সেখানে সম্মাননা দেয়া হয়েছে?

শামীম আরা নীপা : সব দেশকেই তারা সম্মানিত করেছে। আমাদের দলের শেষ দিনের পরিবেশনার আগে ২৭ জুলাই স্থানীয় কম্যুনিস্ট পার্টির কালচারাল ব্যুরোর সদস্য ও ডিসিপ্লিন লিডার ইয়াং ক্লেপিং আমাকে একটি সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন। এটা আমার জন্য তো বটেই, আমাদের দেশের জন্যও বড় এক সম্মান।

আমাদের দেশে নৃত্যের অনুষ্ঠান কম হয় কেন?

শামীম আরা নীপা : বাইরের দেশে টিভিতে তাদের নিজস্ব একটা ভাবধারা থাকে, তারা এর বাইরে কিছু করে না। সেখানে নৃত্যের ক্ষেত্রে যারা নান্দনিক কিছু করে তাদের প্রাধান্য কম। নিজের উদ্যোগে সংগঠনের দ্বারা নৃত্যের অনুষ্ঠান করা কষ্টসাধ্য। স্পন্সরের অভাবে নৃত্যের অনুষ্ঠান কম হয়। সব জায়গায় নৃত্যের অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয় না। প্রপার মঞ্চ ছাড়া নাচ হয় না। আমাদের দেশে শিল্পকলা ছাড়া নাচের জন্য তেমন কোন মঞ্চ নেই। তার পরেও অনেক জায়গায় নাচের অনুষ্ঠান হচ্ছে।

নতুনদের নাচের প্রতি আগ্রহ কেমন?

শামীম আরা নীপা : অনেকেই ভাল। কেউ কেউ আছে নাচ না শিখে নাচতে চায়। তবে স্কুলগুলোতে নাচ শেখানো হচ্ছে, এটা একাট পজেটিভ দিক।

সম্প্রতি নাচকে বিভিন্ন ধারায় নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চলছে, আপনি কি মনে করেন?

শামীম আরা নীপা : অস্থিরতা আছে। দেখলে হ্যাস্যকর মনে হয়। এগুলো সাময়িক।

নৃত্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু ?

শামীম আরা নীপা : একান্তভাবে আমি মনে করি, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে নৃত্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া প্রয়োজন। নৃত্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে লেখাপড়ার অন্যান্য বিষয়ের মতো এটার প্রতিও মনোযোগী হতে হবে। কিন্তু স্কুল পর্যায় থেকে এ বিষয়টি গড়ে না উঠলে সেটা সম্ভব নয়।

নৃত্য নিয়ে দলের আগামী পরিকল্পনা কি?

শামীম আরা নীপা : অনেক পরিকল্পনা রয়েছে সামনে। এ মাসেও দুই তিনটা শো আছে।

-গৌতম পা-ে