১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিআইএ জানত ওমরের হদিস!

২০১১ সালের প্রথম দিকে তৎকালীন সিআইএর পরিচালক লিওন প্যানেটা একটি উদ্বোগজনক গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের মুখোমুখি হন।

তথ্যটি হলো এই গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পেরেছে যে, ৯/১১’র হামলার পর বিশ্বের সবচেয়ে হন্যে হয়ে খোঁজা ফেরারি মোল্লা মোহাম্মদ ওমর পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান এমনকি তার চিকিৎসা নেয়ার স্থানটিরও নামোল্লেখ করেন : করাচীর আগা খান ইউনিভার্সিটি হসপিটাল। তিনি বলেন, সিআইএর কাছে ‘এ সংক্রান্ত কিছু প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে’ যা তাদের পাকিস্তানের প্রতিপক্ষের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।

কূটনৈতিক ফাইলে সংরক্ষিত এই বাক্য বিনিময়ের সার সংক্ষেপে একথা জানা গেছে। ২০১১’র জানুয়ারিতে পাকিস্তানের সে সময়ের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি মার্কিন কূটনৈতিক রিচার্ড হলব্রুকের স্মরণে প্রার্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ওয়াশিংটন গেলে তাঁদের দু’জনার মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এখন মনে করছেন, ওমর সম্ভবত ওই সাক্ষাতের দু’বছর পরে মারা যান এবং এ সপ্তাহে আফগান কর্মকর্তারা বলেছেন, তিনি করাচীর একটি হাসপাতালে গুরুতর ব্যাধিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ইতোপূর্বে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যেও এমন আভাস দেয়া হয়েছিল। ওমর কিডনি বিকল হয়ে পড়া থেকে শুরু করে মেনিনজাইটিস ইত্যাদি রোগে ভুগছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

চলতি সপ্তাহে ওমরের বিলম্বিত মৃত্যু সংবাদ ছায়ামূর্তিসম এই তালেবান প্রধানের লৌকিক উপখ্যান আরও রহস্যের জন্ম দিয়েছে। এই মানুষটি এমনই দৃষ্টি এড়ানো অধরা ছিল যে, দৃশ্যত ৯/১১’র ঘটনার পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অন্যতম শীর্ষ নিশানা আর বেঁচে নেই তা নির্ণয় করতে দু’বছর লেগে যায়।

তবে, ওমরের মৃত্যুকে ঘিরে যে সব খুঁটিনাটি বিবরণ বেরিয়ে আসছে তা হয়তো তার অব্যাহতভাবে প্রভাবশালী ও অদৃশ্য থেকে যাওয়ার সক্ষমতার মাত্রা ব্যাখ্যায় সাহায্য করতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ দমনে অংশীদারিত্বে পরস্পর বিরোধী প্রায়শ গোপন কর্মসূচীর প্রতিফলন ঘটেছে। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ওমরের হদিস সম্পর্কে মাঝে মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেলেও আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে ধরতে যে মাত্রায় সুসংগঠিত অভিযান চালানো হয়েছিল ওমরের সন্ধান পেতে কখনই সে রকম সমন্বিত উদ্যোগ ছিল না। একই সঙ্গে এক চোখ হারানো তালেবান নেতার বন্দরনগরী করাচীতে চিকিৎসা লাভের আপাত সক্ষমতা দীর্ঘদিনের এই সন্দেহকেই জোরালো করেছে যে, পাকিস্তান ওমরকে আশ্রয় দিয়েছিল। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে সিআইএর সাবেক চর মিল্ট বিয়ারডেন বলেন, ‘এটা খুবই বিভ্রান্তিকর’ যে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও কড়া নজরদারির সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও এত দীর্ঘ সময়েও ওমরের মৃত্যু নিশ্চিত করা যায়নি।

তবে বিয়ারডেন বলেন, বিশ্বের ওই অংশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ কেন এত দুরূহ তা আরেকটি বিষয়। সেখানে সত্যের নানা স্তর এবং বহুবিধ কর্মসূচী রয়ে গেছে যার কোনটাই আমরা কখনই সত্যিকারভাবে উপলব্ধি করতে পারিনি। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখনও আফগান কর্তৃপক্ষের এই দাবি সমর্থন করেনি যে, ওমর করাচির একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। তবে তারা উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (আইএসআই) সেই ১৯৮০’র দশক থেকে তালেবানের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে, যে সময় আইএসআই আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী লড়াইয়ে ইসলামপন্থী জঙ্গীদের মার্কিন অস্ত্র ও অর্থ প্রদানের মাধ্যম হিসেবে কাজ করত। ওমর পাকিস্তানে মারা গেছেন কিংবা সরকার সে দেশে তার (ওমর) উপস্থিত সম্পর্কে অবহিত ছিলেন এই দাবিকে পাকিস্তানের একজন কর্মকর্তা ‘ভিত্তিহীন জল্পনাকল্পনা’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাসের মুখপাত্র নাদিম হোতিয়ানা বলেন, তার মৃত্যুর স্থান বা তারিখ সম্পর্কে কোন নিশ্চিত ধারণা নেই। হোতিয়ানা ওমরের মৃত্যু নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার তালেবানের প্রচারিত এক বিবৃতির উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, সেখানে সুনিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মোল্লা ওমর কখনও আফগানিস্তান ছেড়ে যাননি।’ বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ওমর সম্ভবত অসুস্থ, অবস্থায় করাচীতে আছেন একথা জানতে পেরেও সিআইএ ওমরকে পাকড়াও করতে কোন অভিযানে নেমেছিলেন বলে তাদের জানা নেই। সিআইএ সে সময় অন্য জরুরী অগ্রাধিকার নিয়ে ব্যস্ত ছিল। তার একটি ছিল পাকিস্তানের এ্যাবোটাবাদের একটি বাড়িতে বিন লাদেনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া। এর ৪ মাস পর মার্কিন নেভি সিলের হামলায় লাদেন সেখানে নিহত হন। -ওয়াশিংটন পোস্ট