২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিরাপদ খাদ্য আইন বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ নেই

  • ভেজালের ছড়াছড়ি

শাহীন রহমান ॥ নিরাপদ খাদ্য আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নেই। ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধে ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে আইনটি পাশ হলেও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ নেই। গঠন করা হয়নি এ আইনের অধীনে কোন কর্তৃপক্ষও। ফলে ভেজাল রোধে কার্যকর সঠিক কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু ভেজালরোধে শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে তেমন কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন শুধু নিরাপদ খাদ্য আইন নয় জেভালরোধে সরকারের পক্ষ থেকে বার বার পদক্ষেপ নেয়া হলেও তা বরাবরই ব্যর্থ হয়েছে। এর আগে আইনের মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর গঠন করা হলে এখনও এ প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। ফলে এ প্রতিষ্ঠানটিও ব্যাপক পরিসরে কাজ করতে পারছে না। এর কার্যক্রম রয়েছে শুধু রাজধানী কেন্দ্রিক। তাও আবার অনিয়মিত। এর বাইরে বিভাগীয় জেলায় এর অফিস করা হলেও কোন জেলা পর্যায়ে এর কার্যক্রম পৌঁছেনি। আবার ২০০৯ সালে আদালতের আদেশে সারাদেশে প্রতিটি জেলায় একটি করে খাদ্য আদালত গঠনের কথা থাকলেও এর পূর্ণাঙ্গ রূপ এখনও পায়নি। ফলে ভেজাল রোধে এখন পর্যন্ত যতগুলো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সেগুলোর বাস্তবায়ন না থাকায় ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও পরিবেশ সংগঠন পবার নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান বলেন, ভেজাল রোধে ১৯৫৯ সালের আইন (২০০৫ সালে সংশোধিত) বিলুপ্ত করে নিরাপদ খাদ্য আইন পাশ করা হলেও এখন পর্যন্ত এ আইন বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সরকার গুরুত্ব দিয়ে আইনটি পাশ করলে এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব আইন মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু এ আইনের অধীনে আজ পর্যন্ত যে কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছিল আইন পাশের পর ২ বছরেও এটা সম্ভব হয়নি। ফলে এ আইনের অধীনে খাদ্যে ভেজাল রোধে কোন পদক্ষেপ নেয়াও সম্ভব হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনের জন্য খাদ্য অপরিচার্য। দেশের প্রতিটি নাগরিকের বিষমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য পাওয়ার অধিকার সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকার। কিন্তু আজ এ অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে।

নিরাপদ খাদ্য আইন পাশ করা হলে এখনও এ আইনের অধীনে গঠন করা হয়নি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। অসাধু ব্যবসায়ী সামান্য মুনাফা লাভের আশায় খাদ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক মিশিয়ে ধীরে ধীরে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমানে এমন কোন খাদ্যদ্রব্য নেই যাতে ফরমালিন, কার্বাইডসহ মারাত্মক ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মেশানো হয় না। উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণের প্রতিটি স্তরে রয়েছে খাদ্যে ভেজালের ছড়াছড়ি। সহজপ্রাপ্যতা, আইনের দুর্বলতা, আর যথাযথ নজরদারির অভাবে এসব ঘটে চলেছে। যাতে করে রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাচ্ছে। বিষযুক্ত ও ভেজাল খাদ্যের প্রভাব হতে সমাজের দরিদ্র মানুষ থেকে শুরু করে অতি বিত্তবান কেউই রেহাই পাচ্ছে না। তারা বলেন এভাবে ভেজাল খাবার খেয়ে একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক জাতি গঠন হতে পারে না।

২০০৯ সালের ১ জুন হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সরকারকে প্রতিটি জেলা ও মহানগরে খাদ্য আদালত (ফুড কোর্ট) স্থাপন এবং খাদ্য বিশ্লেষক ও খাদ্য পরিদর্শক নিয়োগের আদেশ দিয়েছিলেন। উচ্চ আদালত একই রায়ে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা উপদেষ্টা পরিষদ গঠনেরও আদেশ দিয়েছিলেন। আদালত তার রায়ে বলেছেন, দেশের জনগণ অসুস্থ থাকলে রাষ্ট্রের কোন পরিকল্পনারই অগ্রগতি হতে পারে না। জানা গেছে আদালতের এ আদেশ এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন হাইকোর্টের আদেশ, পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন এবং জনগণের অব্যাহত আন্দোলন, গণমাধ্যমের সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকার ফলশ্রুতিতে বিষাক্ত খাদ্যের ভয়াবহতা বিবেচনায় সরকার ২০১৩ সালের অক্টোবরে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ প্রণয়ন করেছে। এরপরও পেরিয়ে গেছে প্রায় দুই বছর। এ আইন বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত কোন অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। নিরাপদ খাদ্য আইন জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিরাপদ খাদ্য (খাদ্যদ্রব্য জব্দকরণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ পদ্ধতি) বিধিমালা-২০১৪ গেজেট আকারে প্রকাশ করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আইন কার্যকরের ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় গত ২৬ জানুয়ারি।