২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এমপিওভুক্তকরণে জালিয়াতি

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ নামেমাত্র পরিচালিত ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এমপিওভুক্ত করানোর জন্য সরেজমিন পরিদর্শনে এসেছিলেন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ডিজির নিয়োগকৃত প্রতিনিধির প্রতিনিধি। তাই তাকে আকৃষ্ট করার জন্য আয়োজন করা হয়েছিলো রাজকীয় আতিথেয়তার।

পাশাপাশি ওই কর্মকর্তাকে দেখানোর জন্য ক্লাস চলছিলো ভুয়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দিয়ে। যেখানে সিকিউরিটি গার্ডকে বানানো হয়েছিলো ভোকেশনালের নিবন্ধনকৃত মেকানিক্যাল ট্রেড ইন্সটেক্টর (ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার)। এছাড়াও ব্যাপক ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার আলোশিখা সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালিত ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রাজিহার গ্রামে স্বেচ্ছাসেবী এনজিও আলোশিখা রাজিহার সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্রর পরিচালক জেমস মৃদুল হালদার ২০১০ সালে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেন। এ জন্য তিনি দাতা দেশের কাছ থেকে ১০ কোটি টাকার অনুদান গ্রহণ করে শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে নামেমাত্র প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছিলেন।

প্রথমদিকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কিছু শিক্ষার্থী থাকলেও দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবত কোন বেতন ভাতা না দেয়ায় শিক্ষকরা চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থী শুন্য হয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। ওই ১০ কোটি টাকা হজম করতে সম্প্রতি তিনি (মৃদুল হালদার) ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি এমপিওভুক্ত করার জন্য উঠে পড়ে লাগেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ছিল ঢাকা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ডিজির প্রতিনিধি ও বরিশাল সরকারী পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের। কিন্তু তিনি ব্যস্ত থাকায় তার স্থলে সেখানে পরিদর্শনে যান ভাইস প্রিন্সিপ্যাল আইউব আলী।

সূত্র মতে, ডিজির প্রতিনিধির প্রতিনিধিকে (আইউব আলীকে) আনার জন্য বৃহস্পতিবার সকালে মৃদুলের বোনজামাতা ও প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী প্রিন্স রিপন হালদার গাড়ি নিয়ে বরিশালে যান। বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে ভাইস প্রিন্সিপ্যাল আইউব আলী ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এ সময় ভুয়া শিক্ষার্থী ও ভুয়া শিক্ষক দিয়ে চলছিল ক্লাস। তিনি ক্লাস পরিদর্শন করেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, ভোকেশনাল কেন্দ্রের ১০ জন স্টাফদের তালিকায় ইঞ্জিনিয়ার, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ও নিবন্ধনকৃত শিক্ষক হিসেবে আলোশিখা এনজি’র স্টাফদের দেখানো হয়েছে। সূত্র মতে, মৃদুল হালদার রাজিহার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি থাকাকালীন রাজিহার স্কুলের এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের ৩২টি সনদপত্র ভোকেশনাল কেন্দ্রের শিক্ষার্থী হিসেবে দেখানো হয়। পরবর্তীতে তার জালিয়াতি ধরা পড়ার পর ম্যানেজিং কমিটির জরুরী সভায় তিনি (মৃদুল হালদার) এ ঘটনায় ভুল স্বীকার করে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জালিয়াতির কারণে মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা প্রদান করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জেমস মৃদুল হালদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সাক্ষাতের অনুরোধ করেন।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ডিজির প্রতিনিধি ও বরিশাল সরকারী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মৃদুল হালদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া