২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিপুণ হাতের কারুকার্যে উঠে আসছে ঐতিহ্যের রূপরেখা

নিজস্ব সংবাদদাতা, নওগাঁ, ৩১ জুলাই ॥ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শেষ হলো নওগাঁর ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের জাদুঘরে সাত দিনব্যাপী আয়োজিত সেলাই প্রশিক্ষণ কর্মসূচী। নিপুণ সূক্ষ্ম হাতে সুচ-সুতোর সেলাইয়ে ধীরে ধীরে উঠে আসছে ইতিহাস ঐতিহ্যের নানা রূপরেখা। লাল, নীল, হলুদ, সবুজ, কালো, সাদা বাহারী রঙের সুতো আর কাপড়ে যেন জীবন্ত হয়ে ধরা দিচ্ছে নক্সীকাঁথা। ফুটে উঠছে প্রতœতত্ত্বে¡র ইতিহাস ঐতিহ্যের নানা রূপ। একেবারে প্রত্যন্ত পল্লী গ্রামের মেয়েরা ওইসব কাজের প্রশিক্ষণ পেয়ে দক্ষ হয়ে উঠছেন। গত ২৪ জুলাই এই প্রশিক্ষণ শুরু হয়। নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের জাদুঘরে ওই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

জানা গেছে, দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক নওগাঁর পাহাড়পুর, বগুড়ার মহাস্থানগড়, বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ এবং দিনাজপুরের কান্তজীর মন্দির এই ৪টি প্রতœ এলাকার ১২ কারুশিল্পী ৪ প্রশিক্ষকের অধীনে এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। সাউথ এশিয়া ট্যুরিজম ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এসএটিআইডিপি) শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে ঐতিহ্য অন্বেষণের এই আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানে পরিচালক ঐতিহ্য অন্বেষণ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিওলোজি বিভাগের প্রফেসর সুফি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রতœতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সুরক্ষায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অংশগ্রহণ অর্থবহ করতে হলে ইতিহাস ঐতিহ্য সচেতনতার পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা অবশ্যম্ভাবী। বিশ্ব ঐতিহ্য পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ, মহাস্থানগড়, কান্তজীর মন্দির বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করে। ওই স্থানগুলো থেকে গবেষণার মাধ্যমে নির্বাচিত তাৎপর্যপূর্ণ রসদ নিয়ে বাংলার ঐতিহ্যবাহী সূচিশিল্পের নক্সীকাঁথা, দেয়ালচাদর, হাতব্যাগ, সোফাকভার প্রভৃতি তৈরি করা হচ্ছে। এ পণ্যগুলো দেশী পর্যটকদের আকাক্সিক্ষত চাহিদা পূরণসহ আমাদের ঐতিহ্য দেশ-বিদেশে প্রচার লাভ করবে। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার এলাকার নাজমা খাতুন ও বাগেরহাট ষাটগম্বুজ মসজিদ এলাকার প্রশিক্ষণার্থী কামরুন নাহার পলি জানান, তাঁরা প্রশিক্ষণ পেয়ে যেমন দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য বিষয়ে জানতে পেরেছেন তেমনিভাবে এই নক্সীকাঁথায় বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপত্যের প্রতিচ্ছবি তৈরি করে আর্থিকভাবে সাবলম্বী হতে পারবেন বলেও তারা জানান।