১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণা

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল, ৩১ জুলাই ॥ বেশি বেতনের চাকরির প্রলোভন দিয়ে বিদেশ পাঠানোর নাম করে নিজ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য লোকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সম্পদের মালিক হয়েছে একটি চক্র। নিজেদের অবস্থার উন্নতি করলেও অসংখ্য পরিবার ওই প্রতারক চক্রের শিকার হয়ে নিঃস্ব জীবনযাপন করছে। এখন পথে বসার উপক্রম অনেকেই। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ি ইউনিয়নের বাসুদেববাড়ি ও চাক- গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। শ্বশুর ও চাচাশ্বশুরের বিরুদ্ধে জামাতা আব্দুর রশিদের লিখিত অভিযোগে এসব তথ্য জানা যায়। মধুপুর উপজেলার চাক- বীরেরবাড়ি এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আব্দুর রশিদ লিখিত অভিযোগে জানান, বাসুদেববাড়ি গ্রামের শ্বশুর ইসমাইল হোসেন ও চাক- মূলবাড়ি এলাকার চাচাশ্বশুর মফিজ উদ্দিন মানবপাচারকারী দলের সক্রিয় সদস্য। তারা নিজ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার অনেক লোকের কাছ থেকে চাকরি দিয়ে বিদেশ পাঠানোর প্রতিশ্রুতিতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ভ্রমণ, জিয়ারত ও ভুয়া ভিসা দিয়ে তাদের বিভিন্ন দেশে বিমানবন্দর পর্যন্ত পাঠিয়েই দায়িত্ব সারেন। আব্দুর রশিদ তার শ্বশুরকে বিদেশ গিয়ে টাকা পরিশোধের শর্তে ২০১১ সালে পাসপোর্ট ও বিমান ভাড়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু সপ্তাহ না যেতেই ভিসা এসে গেছে প্রচার করে আরও সাড়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন, না হলে ওই ৫০ হাজার টাকা বাতিল হবে। এতে রশিদ ও ইসমতারা দম্পতি উপায় না পেয়ে জমিজমাসহ সহায়সম্বল যা ছিল সব বিক্রি করে টাকা সংগ্রহ করে শ্বশুরদ্বয়ের হাতে তুলে দেন। এরপর বছর যায় কিন্তু বিদেশ যাওয়ার দিন আসে না। প্রায় চার বছর পর চলতি বছরের এপ্রিলে ভিসা পেয়ে রশীদসহ আরও তিনজনকে ইরাক পাঠায়। বাগদাদ এয়ারপোর্টে নামার পর কর্তব্যরত পুলিশ জাল ভিসা হাতে থাকা রশিদকে আটক করে। ঘণ্টাতিনেক পর ইরাকী দালালরা দেনদরবার করে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। একটি অস্বাস্থ্যকর গুদাম ঘরে রেখে অর্ধাহারে-অনাহারে নির্যাতনে হাজতির মতো রাখা হয়। সেখানে শতাধিক বাংলাদেশী গুদামজাত ছিল। কাজের ভিসা ও পরিচয়পত্র সংগ্রহে ব্যর্থ দালালরা দেড়মাস পর কৌশলে ইরাকী পুলিশের হাতে তাদের ছেড়ে দিয়ে চম্পট দেয়। টানা ১৭ দিন হাজতবাসের পর এক প্রবাসী বাংলাদেশীর সহায়তায় গত ১৩ জুন নিজ দেশে ফিরে আসেন রশীদ। অন্যরা এখনও জেলেই। বাড়ি ফিরে শ্বশুরদ্বয় ইসমাইল আর মফিজের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে লাঞ্ছিত হয় এবং রশীদকে দেয়া হয় প্রাণনাশের হুমকি।