২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভাবনায় বন্ধু দিবস

শৈশবকাল থেকে বন্ধু হয় আমাদের। বন্ধুত্বের আসলে কোন বয়সসীমা নেই। বন্ধু শব্দের মধ্যে মিশে আছে পরম নির্ভরতা এবং বিশ্বাস। যখন-তখন, যেখানে-সেখানেই হতে পারে বন্ধুত্ব। বন্ধু শুধু আড্ডা, হুল্লোড়, আনন্দের জন্যেই নয় মা-বাবা হতে পারে ভাল বন্ধু। প্রতিবছর আগস্টের প্রথম রবিবার পৃথিবীজুড়ে পালিত হয় বন্ধু দিবস। ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দিবসটি পালনের প্রথা চালু হয়। বন্ধু দিবস নিয়ে তোমাদের ভাবনা তুলে ধরা হলোÑ

ভেদাভেদহীন পরশ

আমার একবার স্কুলে গেলে আর বাসায় যেতে ইচ্ছে করে না। কারণ স্কুলে বন্ধুরা মিলে আমরা অনেক আনন্দ করি, যেটা বাসায় গেলে পাওয়া যায় না। আমাদের মাঝে সব থেকে কিউট আর সব থেকে হাশি খুশি মেয়েটার নাম ইলোরা। ও অন্য সবার থেকে মেধাবীও বটে। কেউ পড়া না বুঝলে ও নিজ থেকে বুঝিয়ে দেয়। কারও মন খারাপ থাকলে ও তাকে এমন সব কথা বলে যে সঙ্গে সঙ্গেই মন ভাল হয়ে যায়। কিন্তু কোন বিশেষ দিনে ওকে আর স্কুলে পাওয়া যেত না। ফাদার্স ডে, মাদার্স ডে থেকে শুরু করে বন্ধু দিবসেও তাকে পেতাম না। ছোট ছিলাম বলে তখন বিষয়টা বুঝতে পারিনি। যে মানুষটি আমাদের এত আনন্দ দেয় সে কেন সব থেকে আনন্দের দিনগুলোতে আমাদের পাশে থাকে না? আমরা যখন ক্লাস এইটে উঠলাম তখন বন্ধু দিবসে মাইশা হঠাৎ করে বলে উঠল, চল আমরা ইলোরাদের বাসায় চলে যাই। যদিও আমরা কেউ ওর বাসা চিনতাম না। কিন্তু বন্ধু দিবসে বন্ধুর বাসায় যেতে হলে তো উপহার নিয়ে যেতে হবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম সবাই টিফিনের টাকা দিয়ে ইলোরার জন্য খুব সুন্দর কিছু কিনে নিয়ে যাব। ইলোরার খুব ছবি আঁকার শখ ছিল, কিন্তু কোন দিন ওর সঙ্গে কোন রংপেন্সিল দেখিনি। ছবি যা আঁকত গণিত খাতায় কলম দিয়েই আঁকত। সেই ছবির দিকে তাকালে আর চোখ ফেরানো যেত না। মাইশার কথা মতো সবাই মিলে ওর জন্য দুই সেট সুন্দর রংপেন্সিল কিনলাম। তার পর কিছু চিপস কিনে নিয়ে খোঁজ নিতে নিতে সত্যি সত্যিই ওদের বাসায় চলে গেলাম। যে মানুষটি এতদিন ধরে আমাদের ক্লাসকে আনন্দের সাগরে ভাসিয়েছে সেই মানুষটি আমাদের দেখে কুঁকড়ে গেল। ওর এই বিষয়টা লক্ষ্য করল তাসনুভা। ওর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে কাঁধে হাত রেখে বলল তুই এরকম মন মরা হয়ে আছিস কেন? আজ বন্ধু দিবস, তুই নেই বলে আমাদের বন্ধু দিবসে কোন আনন্দ নেই। তাই তোকে নিতে আসলাম। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ও হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। কাঁদতে কাঁদতে বলল তোরা এসেছিস আমি খুব খুশি হয়েছি, কিন্তু দেখ তোদের বসতে দেয়ার মতো জায়গা আমাদের বাড়িতে নেই। তোরা আমার জন্য উপহার এনেছিস, কিন্তু তোদের দেয়ার মতো কোন কিছুই আমাদের নেই। আমরা যে অনেক গরিব। ওর কথা শুনে আমাদের সবার চোখ ভিজে উঠল। আমরাও ওর মতোই কেঁদে ফেললাম। নিধি ওর গলা জড়িয়ে ধরে বলল গরিব বড়লোক বলে কিছু নেই রে। আমরা তোর বন্ধু ছিলাম, বন্ধু থাকব। এ কথা শোনার পর ওর মুখে কিছুটা হাসি ফুটল। তারপর ঐশী ওর ব্যাগ থেকে সব চিপস বের করে বলল, আয় এখন তাহলে আমরা বন্ধু দিবস উদযাপন করি, আর আনন্দে মেতে উঠি। সেদিন আমরা সবাই মিলে ইলোরাদের বাড়িতে যে আনন্দ পেয়েছিলাম কোনদিন আমাদের আলিশান বাড়িতে সেই আনন্দ পাইনি। এর পর থেকে প্রতিটি উৎসবে আমরা বন্ধুরা মিলে ইলোরাদের বাড়িতে ছুটে যাই। যাওয়ার সময় সবাই মিলে কিছু না কিছু কিনে নিয়ে ইলোরার মায়ের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলি, খালামনি আপনি সুন্দর করে আমাদের জন্য এটা বানিয়ে দিন। আপনার হাতের ছোঁয়া লেগে ওটা মজার খাবারে পরিণত হবে। সত্যি সত্যি আমাদের দিনগুলো ঠিক আগের মতোই আনন্দে ভরে উঠল। এবারও বন্ধু দিবসে সেরা বন্ধু ইলোরার বাড়িতে যাব আর ছড়িয়ে দেব ভেদাভেদহীন বন্ধুত্বের পরশ।

সুমাইয়া মিফরা আখতার

দিনাজপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়

১০ম শ্রেণী