২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তরুণ দেবনাথের বিস্ময়কর আবিষ্কার

তরুণ দেবনাথ প্রতিবন্ধীদের জন্য উদ্ভাবন করেছেন বিস্ময়কর এক হুইল চেয়ার। এ্যানড্রয়েড ফোন নিয়ন্ত্রিত এই হুইল চেয়ার ব্যবহার করতে বাড়তি কোন লোকবল যেমন লাগবে না তেমনি শারীরিক প্রতিবন্ধীদের চলাচলে নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফর্মেশন এ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তরুণ উদ্ভাবন করেছেন এই হুইল চেয়ার। নিজের উদ্ভাবিত হুইল চেয়ার নিয়ে কথা বলার সময় তরুণ জানালেন, অন্যের সাহায্য ছাড়া যে কোন ব্যান্ডের একটি এ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন দিয়ে প্রতিবন্ধীরা এই হুইল চেয়ার স্বাচ্ছন্দে ব্যবহার করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন এ্যানড্রয়েড ফোনকে কিভাবে আরও কল্যাণমুখী কাজে ব্যবহার করা যায়, এই চিন্তা তার মাথায় আসে এবং নিজের মেধা খাটিয়ে শুরু করেন সাধনা। কিছুদিনের মাথায় প্রাথমিকভাবে তিনি একটি স্মার্ট হুইল চেয়ারের মডেল তৈরি করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি ফেয়ারে তার এই চেয়ারের ডেমো মডেলটি প্রথমস্থান অধিকার করার পর আরও বেশি আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ওঠেন তরুণ। অবশেষে সফলতা আসে এই বছরের মে মাসের শেষ নাগাদ। পূর্ণাঙ্গ সফলতা লাভ করেন ‘এ্যানড্রয়েড কন্ট্রোলড স্মার্ট হুইল চেয়ার ফর ডিজএ্যাবলস’ উদ্ভাবনে। স্মার্ট এই হুইল চেয়ারে স্বয়ংক্রিয় এ্যালার্ম সিস্টেম সংযুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে চেয়ারে বসা ব্যক্তি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে বা তার হৃদস্পনন্দন অস্বাভাবিক হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে চেয়ারের এ্যালার্ম সিস্টেম বেজে উঠবে, সতর্ক করে দেবে পাশের মানুষদের। তরুণ দেবনাথ জানালেন এখনও চেয়ারটি বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করেননি তিনি। প্রাথমিকভাবে এটার খরচ পড়েছে সব মিলিয়ে ৭০ হাজার টাকা। বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হলে খরচ আরও কমবে। তখন ২০ হাজার টাকার মধ্যেই এই স্মার্ট হুইল চেয়ার পাওয়া যাবে। তরুণের বিভাগীয় চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন জানালেন, প্রতিবন্ধী মানুষদের কল্যাণের জন্য বিশ্বের উন্নত বিভিন্ন দেশে কয়েক ধরনের স্মার্ট হুইল চেয়ার পাওয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশী টাকায় তার দাম পড়ে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকার মতো। এর বিপরীতে তরুণের উদ্ভাবিত এই হুইল চেয়ার মাত্র ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বাজারজাতকরণ সম্ভব। আর্থিকভাবে অসচ্ছল প্রতিবন্ধীরাও এই চেয়ার ব্যবহার করতে পারবেন। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আল নকীব চৌধুরী জানিয়েছেন, মাত্র আট বছর বয়সী নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী তার উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করেছে। ি প্রযুক্তিকে যে ইতিবাচকভাবে নিজের, দেশের এবং মানবকল্যাণে ব্যবহার করা যায়, তরুণ তা আবারও প্রমাণ করেছে।

কৃষ্ণ ভৌমিক