২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মোবাইল ডিভাইসের নিরাপত্তা

আমাদের দেশে এ্যান্ড্রয়েডচালিত স্মার্টফোনের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর নিরাপত্তার বিষয়টিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ডেস্কটপ কিংবা ল্যাপটপের ইন্টারনেটভিত্তিক অনেক কাজই এখন মানুষ স্মার্টফোনে সেরে ফেলেন। এতে করে ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন ভাইরাস স্মার্টফোনে ঢুকে যাওয়ার ঝুঁকিও মারাত্মক আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়াও ওঁৎ পেতে থাকা হ্যাকারদের ভয় তো আছেই। বিশ্বখ্যাত এ্যান্টিভাইরাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এ্যাভিরার পক্ষ থেকে মোবাইল ডিভাইসের নিরাপত্তা বিষয়ক ৯টি টিপস প্রকাশ করা হয়েছে যা অনুসরণ করে আপনার স্মার্টফোনকে কিছুটা হলেও নিরাপদ রাখতে পারেন।

পাসওয়ার্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে আপনার ফোন নম্বর, জন্মদিনের তারিখ কিংবা আপনার বহুলব্যবহৃত কোন নাম্বার ব্যবহার করবেন না। পাসওয়ার্ডটিতে অবশ্যই সংখ্যা ছোট হাতের এবং বড় হাতের অক্ষরের মিশেল রাখবেন।

ল্যাপটপ কিংবা ডেস্কটপের তুলনায় স্মার্টফোন খুব হরহামেশাই হারায় কিংবা চুরি হয়ে থাকে। তাই স্মার্টফোনে এ্যান্টি-থেফট সলিউশনের ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিছু মোবাইলে এই সলিউশনটি ইনস্টল করাই থাকে। যেমন : আইফোনে আছে ‘ফাইন্ড মাই আইফোন’। তবে যাদের ফোনে এই ধরনের সলিউশন থাকে না, তারা এ্যাভিরা ফ্রি মোবাইল সিকিউরিটির মতো বিশ্বস্ত কোনো মোবাইল সিকিউরিটি ব্যবহার করতে পারেন। কিছু কিছু অপারেটিং সিস্টেম নিজ থেকেই হালনাগাদ হয়ে থাকে। তবে আপনার স্মার্টফোনে সাপোর্ট করে এমন সর্বশেষ হালনাগাদ ভার্সনের অপারেটিং সিস্টেমটি ব্যবহারের চেষ্টা করুন। এতে শুধু অপারেটিং সিস্টেমে নতুন ফিচারই যোগ হবে না, ফোনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও হালনাগাদ থাকে। ফলে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে। অপারেটিং সিস্টেমের মতো এ্যাপসগুলোও সবসময় হালনাগাদ রাখতে হবে। এ্যাপসগুলো হালনাগাদ রাখার মাধ্যমেও স্মার্টফোনকে অনেকখানি নিরাপদ রাখা যায়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বিভিন্ন মোবাইল এ্যাপসগুলো দেখতে যেমন মনে হয়, সত্যিকার অর্থে সেগুলো সেরকম নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এ্যাপসগুলোতে যেসব ফিচারের কথা বলা থাকে, সেগুলো বাস্তবে সেসব কাজ করে না। তাই একটি ভালমানের সিকিউরিটি সলিউশন ব্যবহারের মাধ্যমে অপরিচিত ম্যালওয়্যারের আশংকা থেকে নিরাপদ থাকা যায়।

স্মার্টফোনে ওয়েব ব্রাউজিংয়ের সময় এ্যান্ড্রয়েডের জন্য হাজার হাজার এ্যাপ্লিকেশনের অফার পাওয়া যায়। কিন্তু অপরিচিত ও আনঅফিসিয়াল কোন স্টোর থেকে এ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড কিংবা ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আনঅফিসিয়াল এ্যাপ থেকে ম্যালওয়ার সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

অনেককে অতি আগ্রহী হয়ে স্মার্টফোনের বিভিন্ন পার্টস খুলে নাড়াচাড়া করতে দেখা যায়। এটা করলে ডিভাইসের ওয়্যারেন্টিজনিত সমস্যার পাশাপাশি নিরাপত্তা সমস্যার দুয়ারও খুলে যেতে পারে।

বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কিংবা স্থানে ওয়াই-ফাই উন্মুক্ত থাকে। আপনি যখনই অনিরাপদ ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হবেন, তখনই আপনার স্মার্টফোনে সংরক্ষিত বিভিন্ন পাসওয়ার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্লেইন ডাটা হিসেবে সেই নেটওয়ার্কে চলে যেতে পারে।

নন-উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের ফলে অনেকেই ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি ভুলে যান যা কোনভাবেই কাম্য নয়। আপনি যে কোন সন্দেহজনক ওয়েবসাইট ব্রাউজিং, ই-মেইল এ্যাটাচমেন্ট খোলা কিংবা এ্যাপস ব্যবহারের সময় অজান্তেই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন কিংবা আপনার গোপন তথ্য অন্যের হাতে চলে যেতে পারে।

কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের সব থেকে সমস্যার বিষয়টি হলো ভাইরাস। কম্পিউটার জগতের একটি বিভীষিকাময় একটি আতঙ্কের নাম হচ্ছে ভাইরাস। কম্পিউটর ব্যবহার করেন অথচ

ভাইরাসের সমস্যায় পড়েন নাই এইরকম কম্পিউটার ব্যবহারকারী খুঁজে পাওয়া বেশ কষ্ট।

কম্পিউটার ভাইরাস মূলত এক রকমের প্রোগ্রাম যা অপারেটিং সিস্টেমের বিভিন্ন কাজে বাধার সৃষ্টি করে। কম্পিউটারের ছোট ছোট প্রোগ্রাম যে কিভাবে গতিশীল মানুষের গতিরোধ করে দিতে পারে তার প্রমাণ হচ্ছে কম্পিউটার ভাইরাস। বর্তমানে কম্পিউটার ভাইরাস শুধুমাত্র কম্পিউটারে বসে নেই এটি ছড়াচ্ছে পামটন, মোবাইল ফোন ইত্যাদি ছোট ছোট ভিভাইজগুলোতে। তবে সুখের কথা হচ্ছে এদের রুখতে বিশ্বের বড় বড় প্রোগ্রামাররাও বসে নেই। কিন্তু সেই সঙ্গে কম্পিউটার ব্যবহারকারীদেরও সাবধাণতা অবলম্বন করতে

হবে।

রেজা নওফল হায়দার