২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নৌকা আছে বাংলা সাহিত্য আর গানে

বাংলার ঐতিহ্য জলপথ পারাপারের নৌকা নিয়ে কত গান, কত কবিতা, কত ছবি আর কত চিত্রকর্ম আমাদের শিল্পসাহিত্যে ও সংস্কৃতিতে বড় আসন করে নিয়েছে তা দেখা ও জানার জন্য বেশিদূর যেতে হয় না। নদী তীরের কোন গ্রাম ও চরগ্রামে গেলেই নৌকাকেন্দ্রিক সংস্কৃতির সকল অনুসঙ্গ চোখেও দেখা যায় এবং কানেও বাজে। আর নৌকাকে নিয়ে গান তো বাংলার চিরন্তন সুর হয়ে আছে। ভাটির দেশের মাঝিমাল্লারা যে সুর তোলে তা নিয়েই রচিত হয় ভাটিয়ালি গান। ভাটিয়ালির সুর লোকজ সংস্কৃতি হয়ে দেশের গ-ি ছাড়িয়ে বিদেশ বিভূঁইয়ে পৌঁছে গেছে। ভাটিয়ালির এই সুরের সঙ্গে আধুনিক অর্কেস্ট্রার মিশ্রণে তৈরি হয়েছে জ্যাজ সঙ্গীত। বিশ্বের অনেক দেশ তাদের সংস্কৃতিতে বাংলার নৌকা ও নদী কেন্দ্রিক ভাটিয়ালি সুরের মিশ্রণ ঘটিয়েছে। নৌকা ও নদী নিয়ে কত গানÑ নাইয়ারে নায়ে বাদাম তুইল্যা কোন বা দেশে যাও (নাও অর্থ নৌকা নাইয়া অর্থ মাঝি)...। ও মাাঝি নাও ছাড়িয়া দে রে মাঝি পাল উড়াইয়া দে গা রে মাঝি গা শুধু গান... হেইও রে মাঝি হেইও রে মাঝি ও রামা...। কবিতার ছন্দে ছিপখান তিনদার তিনজন মাল্লা চৌপর দিনভর দেয় দূরপাল্লা... নদী আপন বেগে পাগলপারায়... ও নদীরে একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে... এইরকম কত যে গান ও কবিতা রচিত হয়েছে! কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখনই কাচারি বাড়িতে গেছেন, সেখানেই নৌকা ভ্রমণের বিষয়টি এনেছেন। পদ্মা পাড়ি দিয়ে শাহজাদপুর কাচারি বাড়িতে পৌঁছে নৌকার লেখা কাব্যগুলো শেষ করেছেন। অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রীকান্ত পর্বের প্রতিটি গল্পে নৌকা টেনে এনেছেন। সাহিত্যে বাংলার রূপের বর্ণনায় নৌকা এসেছেই। খেয়াঘাট, নৌকার মাঝি, পাল তোলা (কোথাও বাদাম বলা হয়) শব্দগুলো নৌকাকে ঘিরেই। গাব ফলের বিষয়টি এসেছে নৌকায় গাব দেয়াকে ঘিরে। একটা সময় দেশের প্রতিটি অঞ্চলে খেয়াঘাট ছিল। খেয়াঘাটের বড় বৈশিষ্ট্য হলো বটগাছ ও তার নিচে মাচাং। মাঝি মাচাংয়ে বসে শরীর জুড়িয়ে নিত। নৌকা ওই পাড়ে গেলে যাত্রীরা অপেক্ষায় থাকত মাচাংয়ে বসে। সেখানেই জমে উঠত ক্ষণিকের আড্ডা। একটা সময় খেয়াপারাপারে বড় জোড়া নৌকার ওপর বাঁশের পাটাতন বসিয়ে অধিক যাত্রী বহন করা হতো। এই নৌকাকে নিয়েই রচিত হয় গান, কবিতা, সাহিত্য এবং শিল্পকর্ম।

Ñসমুদ্র হক, বগুড়া থেকে