২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দু’শ’ আলংয়ে তৈরি আড়াই হাজার নৌকা মাসে

বর্ষায় নাও আর হেমন্তে পাও। হাওড়ের জেলা সুনামগঞ্জের শত শত বছরের এই প্রবাদকে লালন করে আসছে শহরতলির মাইজবাড়ি গ্রামের নৌকা কারিগররা। রাত-দিন এখানে শোনা যায় কাঠের গায়ে পেরেক মারার কিংবা হাতুড়ি-বাটালের ঠুকঠুক শব্দ। এমন শব্দ শুনে এই গ্রামের ৯৫ ভাগ মানুষের বেড়ে ওঠা। এই শব্দ শোনা যায় বছরের ১২ মাস। তবে গ্রীষ্মের শেষ দিক থেকে বর্ষার মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় এ নৌকা তৈরিতে থাকে উৎসবের আমেজ।

সদর উপজেলার কুরবান নগর ইউনিয়নে মাইজবাড়ি গ্রাম। এ গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবারে দু’শ’ বছর ধরে নৌকা তৈরি করে আসছে। সুনামগঞ্জসহ আশপাশের জেলা নৌকার গ্রাম হিসেবেই পরিচিত মাইজবাড়ি। নৌকা তৈরিই এই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের একমাত্র পেশা। কারও কারও কাছে এটি বাপ-দাদার ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার প্রশ্ন। মিস্ত্রি হয়ে ওঠা তাদের পৈত্রিক রেওয়াজ।

এখানে সাধারণত বারকি ও মালবাহী নৌকা বেশি তৈরি হয়। এছাড়া মাটি ও পণ্য বহনকারী নৌকাসহ অন্যান্য নৌকাও তৈরি হয়। এ গ্রামে দেড় থেকে দু’শ’ আলং (নৌকা তৈরির কারখানা) আছে। প্রতিটি আলং-এ পাঁচ থেকে ১০ নৌকা মিস্ত্রি লাগে। সব মিলিয়ে এসব আলং-এ দেড়/দুই হাজার কাঠমিস্ত্রি রয়েছে। এসব মিস্ত্রিরা মাসে দুই/আড়াই হাজার নৌকা তৈরি করে। প্রতি মাসে এক একজন মিস্ত্রির তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা টেকে (আয় হয়)। আবার কোন কোন মাসে লোকসানও হয়। এসব মেনে নিয়েই বাপ-দাদা পৈত্রিক পেশা টিকিয়ে রাখতে চলছে তাদের জীবন সংগ্রাম। শ্রম অনুযায়ী লাভ কম হওয়ায় এ পেশা থেকে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এদের অনেকে আসবাবপত্র তৈরি করে ফার্নিচারের দোকান খুলেছে। তবে বেশিরভাগ বাপ-দাদা পৈত্রিক পেশা টিকিয়ে রাখতে নৌকা তৈরির কাজ করে যাচ্ছে। নৌকা অর্ডারিদের কাছে পৌঁছে দিতে হয়।

প্রতি শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের ধোঁপাখালীতে মাইজবাড়ি গ্রামের পাশে নৌকার হাট বসে। জেলার ও জেলার বাইরের লোকজন আসে নৌকা কিনতে। তবে কয়েকজন মিস্ত্রি জানান, তাদের অধিকাংশ নৌকাই অর্ডারি। এগুলো হাটে তোলা হয় না। এই হাটে উঠে বারকি, মালবাহী, ডিংগি, পাতামী, গস্তি, গয়না, খিলি নাওসহ বাহারী সব নৌকা। এ গ্রামের মিস্ত্রিরা জানালেন, এখন কাঠের দামসহ অন্যান্য কাঁচামালের দাম বেশি হওয়ায় তাদের লাভ হয় কম। তাছাড়া মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল কিনে নৌকা তৈরিতে কোন কোন সময় খরচও ওঠে না।

Ñএমরানুল হক চৌধুরী

সুনামগঞ্জ থেকে

এই মাত্রা পাওয়া