২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পদ্মায় ভাসে না পালতোলা নৌকা

দশ থেকে পনেরো বছর আগেও পদ্মা নদীর নৈসর্গ রূপের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে সারি সারি নৌকা। এসব নৌকায় ছিল রঙিন পাল। স্বচ্ছ পানির কলতান আর পালে লাগা বাতাসের পত পত শব্দ অনুভূতি জুগিয়েছে প্রাণে। পালতোলা নৌকায় নদী ভ্রমণে যতটা না তৃপ্ত হতো মন তার চেয়ে দূর পদ্মার পাড় থেকে সারি সারি নৌকার ছন্দবদ্ধ চলা আর বাতাসে পাল উড়ার মনোরম দৃশ্য দেখে মনপ্রাণ আনন্দে নেচে উঠেছে। রাজশাহীর বুক চিরে বয়ে চলা পদ্মার পাড়ে দল বেঁধে মানুষ গেছো পালতোলা নৌকার সে দৃশ্য দেখে চোখ জুড়াতে। আর মাঝনদী থেকে ভেসে আসা দরাজকণ্ঠে ভাটিয়ালি গানের সুর শুনে মনে তৃপ্তি পেতে।

রাজশাহীর পদ্মাকে ঘিরে এক সময় পালতোলা নৌকায় ছিল যাতায়াতের মাধ্যম। এপাড় থেকে ওপাড়ের যাত্রীদের ভাসিয়ে নিয়ে যেত নৌকা। সারি সারি পালতোলা নৌকার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক ডিঙ্গি নৌকাও চলেছে। জেলার বাঘা, চারঘাট ও গোদাগাড়ী এলাকায় চলেছে তালগাছের বিশেষ ডিঙ্গি নৌকা। সাধারণ মাছ ধরার জন্য জেলেরা তা ব্যবহার করেছে। তবে কালের পরিক্রমায় এসব নৌকা এখন অতীত। এখন নদীতে যেটুকু সময় পানি থাকে বিশেষ করে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে নৌকা চলাচল করে। পালতোলা নৌকার দেখা মিলে না।

আধুনিক নগর সভ্যতার যুগে যান্ত্রিক যানবাহনের ভারে পাল তোলা নৌকা হারিয়ে যেতে বসেছে। হাতে গোনা দু-একটা চোখে পড়লেও তাদের নৌকায় আগের মতো আর মানুষ ওঠে না। নতুন বধূ বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য পালতোলা নৌকার বায়না ধরে না। আগে ঘাটে সারি সারি পালতোলা নৌকা বাঁধা থাকত। এখন সেই ঘাট দখল করে নিয়েছে শ্যালো ইঞ্জিলচালিত নৌকা। এসব নৌকার ভট ভট বিকট শব্দে নদীর শান্ত পরিবেশ বিঘিœত হয়।

Ñমামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী থেকে