২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কেরানীগঞ্জে অনুমোদনহীন পাঁচ শতাধিক ভবন

  • ব্যবস্থা নিতে কাজ শুরু

নিজস্ব সংবাদদাতা, কেরানীগঞ্জ ॥ কেরানীগঞ্জে অনুমোদনহীন ভবন শতকরা ৯৫ ভাগ। বিভিন্ন তথ্যে জানা গেছে, ৫ শতাধিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে রাজউকের অনুমোদন ছাড়া। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা ২ শতাধিক। উপজেলা ও রাজউকের নক্সা উপেক্ষা করে বর্তমানে প্রায় ২ শতাধিক ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। ইতোমধ্যে অনুমোদনের বাইরে অবৈধভাবে নির্মিত ৩শ’ ভবন চিহ্নিত করেছে উপজেলা প্রশাসন ও রাজউক। তবে ৬ মাস আগে উপজেলা প্রশাসন থেকে এসব ভবন ভাঙ্গার নোটিস দেয়া হলেও ভবন মালিকরা কোন কর্ণপাত করেনি। বিবিধ অসুবিধার কারণে উপজেলা প্রকৌশলী থেকে অনুমোদনের দায়-দায়িত্ব চলে যায় রাজউকের দায়িত্বে। উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি ভবনের মালিককে বুয়েটের অনুমোদনের জন্য ২ লাখ টাকা করে জামা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেটাও তারা অমান্য করেছে। রাজউক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য নক্সার বাইরে নির্মিত সকল ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলমান। সব মিলিয়ে সাড়ে ৪শ’র বেশি ভবন মালিকদের নোটিস প্রক্রিয়াধীন করেছে রাজউক ও উপজেলা প্রশাসন। কোন প্রকার অনিয়ম ছাড়া ভবন নির্মাণ তদারকিতে রাজউকের পক্ষে গঠন করা হয়েছে মনিটরিং টিম। তাছাড়া আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে অনেক অবৈধ ভবন ভাংতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেরানীগঞ্জে অনুমোদনহীন ভবনের সংখ্যা ৫ শাতাধিক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদন ছাড়া নির্মিত ভবন যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। তাতে শত শত মানুষের জীবনও যেতে পারে। দেখা দিতে পারে মানবিক বিপর্যয়। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সব ভবন ভাঙ্গাসহ মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরী।

উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কেরানীগঞ্জে প্রায় ২ শত ভবন নক্সা না মেনে নির্মাণ কাজ চলছে। এদের মধ্যে কেহ কেহ ২ তলার অনুমোদন নিয়ে ৪/৫ তলা নির্মাণ করছে। আবার কেউ বা ৪ তলার অনুমোদন নিয়ে ১০তলা তৈরি করছে। অনেকেই নক্সার বাইরে বেশি জমিতে ভবন নির্মাণ করছে। কেউ বা খাস জমি অথবা উপজেলার জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ সব ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বেশিরভাগ মালিককে শতর্ক করে দেয়া হয়েছে নোটিস দিয়ে। অভিযান চলবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের কোন সুযোগ দেয়া হবে না। যে কোন মূল্যে তা প্রতিহত করা হবে। এ ছাড়া নির্মিত ভবনের মধ্যে ৩শ’ ভবন চিহ্নিত করেছে উপজেলা প্রশাসন ও রাজউক। এ সব ভবনের সবই অবৈধ। নক্সার বাইরে বর্ধিত অংশ রয়েছে সব ভবনেই।

সূত্রমতে জানা গেছে, নক্সার বাইরে ৫শ’ ভবনের মধ্যে ৪ ভাগের ১ ভাগের বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। এ দিকে উপজেলা প্রশাসন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী প্রায় সবগুলো ভবনই অনুমোদনহীন যে কারণে সব ক’টিতেই অভিযান চালানো হবে। ভবন নির্মাণে অনিয়ম প্রতিরোধে গঠন করা হয়েছে মনিটরিং টিম। কর্তৃপক্ষ বলছে নক্সা অনুমোদনের পর ভবন নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত তদারকি দায়িত্বে থাকবেন টিমের সদস্যরা। যে কোনভাবেই নক্সার বাইরে ভবন নির্মাণ করা না হয়। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে আগামীতে কোন ভবন নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠার সুযোগ থাকবে না। সেই সঙ্গে কমবে ঝুঁকির মাত্রা। কেরানীগঞ্জ উপজেলার প্রকৌশলী মোঃ শাহ্জাহান আলী বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর কেরানীগঞ্জের ভবন সংক্রান্ত দুটি জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। জরিপে মোট ভবনের মধ্যে ৯৫ ভাগ ভবনই অনুমোদনহীন পাওয়া যায়। ৪ শতাধিক ভবনে রয়েছে নক্সার বাইরে বর্ধিত অংশ। এ সব ভবনের প্রায় সবই আমি দায়িত্ব নেয়ার আগে নির্মাণ করা হয়। আমরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি সবাই যেন নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ করে। তিনি আরও বলেন, নক্সা না মেনে নির্মিতব্য প্রায় সবগুলো ভনের বিরুদ্ধে রাজউক ও উপজেলা প্রশাসন সোচ্চার। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ ভবন মালিকদের কাছে নোটিস পাঠানো হয়েছে। অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। অবৈধভাবে নির্মিত ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন অভিযান চলছে। অভিযান পরিচালনার জন্য লোকবল বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, অনেক ভবন মালিক আদালতের আশ্রয় নেয়ায় ভবন ভাঙ্গার বিরুদ্ধে আদালত স্থগিতাদেশ নিয়েছেন। যে কারণে অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ ভাবন মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন সংস্থার মতে কেরানীগঞ্জে ৫ শতাধিক ভবন এমন প্রশ্নে রাজউকের উর্ধতন সংশ্লিষ্টরা বলেন, এমন কোন পরিসংখ্যান আমাদের জানা নেই। তিনি বলেন, নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ করা হলে দুর্ঘটনা কমবে। রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূলতা এড়াতেই অভিযানে সংবাদ মাধ্যমকে ডাকা হচ্ছে না। এ সব বিষয় বেশি বেশি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে। ভবন রক্ষায় বাড়বে রাজনৈতিক তৎপরতা।

নির্বাচিত সংবাদ