২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এক্স-রেতে ধরা পড়ে সব ভেস্তে গেল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ফিল্মি স্টাইলে তলপেটে ছয়টি সোনার বার বহন করে নিরাপদেই বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যেতে চেয়েছিলেন দুবাই ফেরত এক যাত্রী। কিন্তু এক্স-রেতে ধরা পড়ে তা ভেস্তে যায়। পরে ওষুধ সেবন করিয়ে ওই যাত্রীর পাকস্থলি থেকে চারটি স্বর্ণের বার ঠিকই বের করে আনেন কাস্টমস ও শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা। অভিনব কায়দায় এভাবে স্বর্ণের বার বের করে আনেন তাঁরা। এই স্বর্ণের চালান আটকের পর উল্লসিত কাস্টমস ও শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা। তাঁর কাছে পাওয়া ৬০০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।

শুল্ক বিভাগের যুগ্ম কমিশনার এস এম সোহেল রহমান জানান, গত ২০ বছরেও এমন ঘটনা আর ঘটেনি। তিনি জাানান, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে দুবাই ফেরত যাত্রী রফিকুল ইসলাম (৩৪) ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে তল্লাশি করে প্রথমে তাঁর কাছ থেকে কোন স্বর্ণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু তাঁর গতিবিধি এবং কথাবার্তা যথেষ্ট সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কাস্টমস কর্মকর্তারা ওই যাত্রীকে উত্তরার একটি ক্লিনিকে নিয়ে এক্স-রে করে তাঁর পাকস্থলিতে চারটি স্বর্ণের বারের অস্তিত্ব খুঁজে পান। এর পরই ওষধের মাধ্যমে সেগুলো বের করে আনা হয়। এ নিয়ে তাঁরা সবাই গর্বিত ও আনন্দিত।

শুল্ক বিভাগের সহকারী কমিশনার রিয়াদুল ইসলাম জানান, ইমিগ্রেশন এলাকা পার হওয়ার সময় রফিকের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে ঢাকা কাস্টমস হাইসের কমিশনার লুৎফর রহমানের নির্দেশে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তাঁরা। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রফিক তাঁর তলপেটে ১০০ গ্রাম ওজনের ছয়টি সোনার বার থাকার কথা স্বীকার করেন। এরপর পুলিশের মাধ্যমে রাতেই উত্তরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে রফিকের এক্স-রে করা হয়। এক্স-রেতে সোনার অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে ‘গ্লিসারিন সাপোজিটর’ দেয়া হয় রফিককে। এরপর তাঁর পায়ুপথ দিয়ে বেরিয়ে আসে প্লাস্টিকে মোড়ানো সোনার বার। সোনার বারগুলো প্লাস্টিক আর কালো রঙের টেপে মোড়ানো ছিল। সেগুলো ছিল রফিকের তলপেটে। গ্রেফতারকৃত রফিকুল জানান, দুবাইয়ে রেকটাম দিয়েই সেগুলো ঢোকানো হয়। তাঁর গ্রামের বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায়। তিনি সোনা চোরাচালান চক্রের বাহক হিসেবে কাজ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা হয়েছে।